১৬ ডিসেম্বর শহিদদের স্মরণে এ দিনে থাকে নানান আয়োজন। এ আয়োজনের অন্যতম বিষয় হলো ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো। প্রতিবারের মতো এবারো রোববার (১৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ফুলের দোকানগুলোতে কর্মীদের ব্যস্ততা দেখা যায়। পূর্বের অর্ডার অনুযায়ী ফুলের তোড়া সরবরাহ করতে চলছে তোড়ছোড়।
এদিন সন্ধ্যায় নগরীর জিরো পয়েন্টে অবস্থিত ফুলের দোকানগুলো ঘুরে দেখা যায়, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক-সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর ফুলের তোড়া প্রস্তুত করা হচ্ছে। কেউ অর্ডার অনুযায়ী ফুলের ডালা বুঝে নিচ্ছেন। কেউ দিচ্ছেন নতুন অর্ডার।
.png)
দোকানিরা বলছেন, দুদিন আগে থেকেই অর্ডার অনুযায়ী ডালাগুলো প্রস্তুত কাজ চলমান। রোববার সকাল থেকে ফুল বসানোর কাজ শুরু করেছেন। শেষ মুর্হূতে চাপ বেশি। এরমধ্যে নতুন অর্ডারও আসছে। সবমিলিয়ে চাপ বেশি। আর ফুলের ডালা বা তোড়া সব আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে।
দোকানগুলো ঘুরে দেখা যায়, সাইজ অনুযায়ী ফুলের তোড়া ও ডালা বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত। শেষ সময়ে যারা অর্ডার করতে আসছেন, দরদামে তাদের কিছুটা বেশিই অর্থ দিতে হচ্ছে বলে জানাচ্ছেন ক্রেতারা।
সাহেব বাজারের ফুল ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম বলেন, বছরের মধ্যে এই সময়ই ব্যবসা হয় সবচেয়ে বেশি। আমাদের মূল ব্যবসা মূলত জাতীয় এসব দিবস কেন্দ্রীক। এবার বেচাবিক্রি খুব খাবাপ বা খুব ভালো হচ্ছে এমনটা না। মোটামুটি হচ্ছে। তবে প্রত্যাশা আরও বেশি ছিলো।
এদিকে, শুধু ফুল নয়; বিজয় উদযাপনে জাতীয় পতাকা ও ১৬ ডিসেম্বরের পতাকাও বিক্রি হচ্ছে। রোববার সকাল থেকেই নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে পতাকা বিক্রি করতে দেখা যায়। অনেকে পথে পথে ঘুরে এই পতাকা বিক্রি করছেন। যেখানে ১০ টাকা থেকে শুরু করে সাইজ ও ডিজাইন অনুযায়ী ১৫০ টাকা পর্যন্ত দামে পতাকা ও ১৬ ডিসেম্বরের বিশেষ স্টিকার সামগ্রী বিক্রি হচেছ। তবে এই বেচাবিক্রি নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে।
নগরীর পথে পথে পতাকা ও ১৬ ডিসেম্বরের স্টিকার বিক্রি করছিলেন সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, রোববার সকাল থেকেই নগরীর বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে পতাকা বিক্রি করেছি। সন্ধ্যা ৭ টার দিকে আর অল্প কিছু মাল আছে। বেচাবিক্রি ভালো হয়েছে। ১৬ ডিসেম্বর সকালে আবারো বের হবো।
এদিকে আরেক বিক্রিতা রাজু হোসেন। তিনি জানান, তার বেচাবিক্রি তেমন হয়নি। মানুষ দাম জিজ্ঞেস করছে। কিন্তু কিনছে না। সন্ধ্যার পর কী হয় দেখি।
১৬ ডিসেম্বর উদযাপন উপলক্ষে নগরীর সরকারি ও স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোতে বর্ণিলভাবে সাজাতে দেখা গেছে। সন্ধ্যার পর সরকারি স্থাপনাগুলো ঝাড়বাতির আলোয় আলোকিত হতে দেখা যায়।