ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]
১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি

অপহরণের ৪ দিন পর মিলল নাশিতের লাশ, গ্রেফতার ৩

ফেনী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৬:৪৬, ১২ ডিসেম্বর ২০২৪
অপহরণের ৪ দিন পর মিলল নাশিতের লাশ, গ্রেফতার ৩
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ফেনীতে অপহরণের ৪ দিন পর আহনাফ আল মাঈন নাশিত (১০) নামে এক শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে ফেনী সদর উপজেলার দেওয়ানগঞ্জ ময়লার ভাগাড় সংলগ্ন ঢাকা-চট্রগ্রাম রেললাইনের পাশে একটি ডোবা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ বুধবার রাতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ৩ জনকে আটক করেছে। 

আটককৃতরা হলেন আশ্রাফ হোসেন তুষার, মোবারক হোসেন ওয়াসিম ও ওমর ফারুক রিপাত। তারা সবাই ফেনী শহরের আতিকুল আলম সড়কের বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।

Advertisement

বৃহস্পতিবার বিকেলে ফেনীর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসপি হাবিবুর রহমান বলেন, ৮ ডিসেম্বর বিকেলে ফেনী শহরের আতিকুল আলম সড়কস্থ লাইটিং হাউজিং কোচিং সেন্টারে পড়তে যায় ওই এলাকার অস্থায়ী বাসিন্দা রেড ক্রিসেন্ট কর্মকর্তা মাঈন উদ্দিন সোহাগের ছেলে নাশিত। কোচিং শেষে ঘরে না ফেরায় ৯ ডিসেম্বর নাশিতের বাবা সোহাগ ফেনী মডেল থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন। গত দুই দিন ধরে একটি মোবাইল থেকে নাশিতের বাবা সোহাগকে কল করে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

পুলিশ সুপার বলেন, বুধবার তুষার নামে এক ব্যক্তির কথাবার্তায় নাশিতের বাবার সন্দেহ হলে তিনি পুলিশকে অবহিত করেন। পরে পুলিশ তুষারকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে রাত ২টার দিকে তুষার অপহরণের বিষয়টি স্বীকার করেন। পুলিশ তুষারের দেওয়া তথ্যমতে ঘটনায় জড়িত আরো দুইজনকে আটক করে।

পুলিশ সুপার আটককৃতদের ভাষ্য উল্লেখ করে বলেন, অপহরণকারীরা ভিকটিমের পূর্ব পরিচিত। ৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় কোচিং সেন্টার থেকে ফেরার পথে ভিকটিমকে সিএনজি করে ঘুরতে বের হয় অপহরণকারীরা। পরে তাকে জুসের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে দেওয়া হয়। এ সময় ভিকটিমের বাবার কাছে কল দিয়ে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। ঘুম থেকে উঠে ভিকটিম কান্নাকাটি শুরু করলে তাকে গলায় কাপড় পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়। পরে শিশু নাশিতের লাশ গুম করতে ফেনী শহরের নির্জন এলাকা দেওয়ানগঞ্জ রেললাইনের পাশে একটি ডোবার ভেতর লুকিয়ে রাখে। লাশ পানিতে ভেসে না ওঠার জন্য ভিক্টিমের স্কুল ব্যাগে পাথর ভরে চাপা দেওয়া হয়। পরে আটককৃতদের দেওয়া তথ্য মতে লাশটি উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলন শেষে আটককৃতদের ফেনী মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

ভিকটিমের বাবা মাঈন উদ্দিন সোহাগ বলেন, কী কারণে আমার ছেলেকে হত্যা করেছে তা জানি না। তারা আমার কাছে ১২ লাখ টাকা চেয়েছে। আমি টাকা জোগাড় করে তাদের কল দিলে মোবাইল বন্ধ পাই। আমি আমার সন্তান হত্যার বিচার চাই। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
ট্যাগ: ফেনী
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!