ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

কোটি টাকার সেতুতে উঠতে হয় মই বেয়ে

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৪:৪৭, ৬ ডিসেম্বর ২০২৪
কোটি টাকার সেতুতে উঠতে হয় মই বেয়ে
সেতুতে উঠতে হয় কাঠের মই বেয়ে। ছবি: সংগৃহীত

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার ঢুলন্ডি-সিংজুরী আঞ্চলিক পাকা সড়কের পেঁচারকান্দা এলাকায় ধলেশ্বরী নদীর ওপর নির্মিত সেতুর সংস্কার কাজ ধীরগতিতে চলছে। ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া এই প্রকল্পটি ২০২৪ সালের ২০ জুলাইয়ের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য থাকলেও এখনো কাজের অগ্রগতি ৫০ শতাংশেই আটকে আছে। সেতুর কাজ শেষ না হওয়ায় কাঠের মই দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে স্থানীয়দের। মোটরসাইকেল নিয়ে যেতে হলে খেয়া পার হতে হয়। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন তিনটি ইউনিয়নের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ।

সেতুর কাজ শেষ না হওয়ায় সিংজুরী, পয়লা ও বালিয়াখোড়া ইউনিয়নের বাসিন্দাদের জেলা সদরে যেতে অন্তত ১০ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হচ্ছে। এতে সময় এবং অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি কৃষি পণ্য পরিবহনেও দ্বিগুণ ব্যয় হচ্ছে। অন্যদিকে, অনেক স্থানীয় বাসিন্দাকে ঝুঁকি নিয়ে কাঠের মই ব্যবহার করে সেতু পার হতে হচ্ছে।

উপজেলা এলজিইডি সূত্র জানায়, ২০০৮ সালে ধলেশ্বরী নদীর ওপর ১০০ দশমিক ১০ মিটার দীর্ঘ সেতুটি নির্মাণ করা হয়। তবে নদীর উত্তর পার্শ্বে বন্যার কারণে এপ্রোচ সড়ক বিলীন হয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে ‘প্রোগ্রাম ফর সাপোর্টিং রুরাল ব্রিজ’ প্রকল্পের আওতায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ২ কোটি ৫৫ লাখ ৫৬ হাজার টাকা ব্যয়ে সেতুর দৈর্ঘ্য ২৫.৮ মিটার বৃদ্ধি এবং পুরো সেতুর সংস্কারের কাজ শুরু হয়। কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয় মেসার্স মিতু ট্রেডার্স জামালপুরকে।

Advertisement

সরেজমিনে দেখা গেছে, অল্প সংখ্যক শ্রমিক দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, প্রকল্পে কার্যকর তদারকি ও শ্রমিক বাড়ানো হলে কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। সেতুটির কাজ দ্রুত শেষ না হলে এলাকার মানুষকে আরও দীর্ঘদিন দুর্ভোগ পোহাতে হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সিংজুরী ইউনিয়নের স্বল্প সিংজুরী গ্রামের কৃষক জয়নাল হোসেন বলেন, প্রতিদিন বাজারে সবজি নিয়ে যেতে ১০ কিলোমিটার ঘুরে যেতে বাধ্য হচ্ছি। এতে ভাড়া দ্বিগুণ দিতে হচ্ছে। সেতুর কাজ সময়মতো শেষ হলে কৃষকদের এই বাড়তি খরচ হতো না। কাজ দ্রুত শেষ করা উচিত।

একই গ্রামের কলেজ শিক্ষার্থী নাজমুল হাসান বলেন, কলেজে যেতে কষ্ট হয়। মই দিয়ে পার হওয়া মেয়েদের জন্য আরো বিপদজনক ব্যাপার। ঠিকাদার ঠিকমত কাজ করে না পাশাপাশি ইঞ্জিনিয়ারদেরও এ ব্যাপারে তেমন মাথা ব্যাথা নাই।

পয়লা গ্রামের স্কুলশিক্ষিকা রোকেয়া বেগম বলেন, স্কুলে যেতে আমাকে প্রায় এক ঘণ্টা বেশি সময় নিতে হয়। পায়ে হেঁটে মই দিয়ে পার হওয়াটা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে বর্ষায় এই সমস্যা আরো বাড়ে। আমাদের দুর্ভোগ কমাতে সেতুর কাজ দ্রুত শেষ হওয়া উচিত।

একই গ্রামের অটোচালক মোবারক হোসেন বলেন, এখন রুট পরিবর্তন করতে হচ্ছে। এতে খরচ এবং সময় দুই-ই বাড়িয়ে দিয়েছে। যাত্রীরা রাগারাগি করে। সেতুটা ঠিকঠাক থাকলে এসব সমস্যা হতো না। স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে কঠোর হতে হবে।

গৃহবধূ হালিমা খাতুন বলেন, বাজারে যেতে বা হাসপাতালে পৌঁছাতে কত কষ্ট হচ্ছে বলে বোঝাতে পারব না। আমাদের জন্য সেতুটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের উচিত দ্রুত কাজ শেষ করার ব্যবস্থা নেয়া।

স্থানীয় বালিয়াখোড়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল আওয়াল খান বলেন, এই সেতু এলাকার মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত কাজ শেষ করার দাবি জানাই। তিনটি ইউনিয়নের মানুষ চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছে, বিশেষ করে কৃষি পণ্য পরিবহনে বাড়তি খরচ হচ্ছে।
 
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি পিন্টু সাহা জানান, জাতীয় নির্বাচন এবং বর্ষার কারণে কাজের শুরুতে বিলম্ব হয়েছে। দ্বিতীয় দফায় সময় বাড়িয়ে আগামী জানুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ করার কথা রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহিনুজ্জামান বলেন, আমি সম্প্রতি ঘিওরে যোগদান করেছি। সিডিউল অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে প্রায় ৫০ শতাংশ কাজ হয়েছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত কাজ শেষ করতে তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!