মাকে হেলিকপ্টারে চড়িয়ে ঢাকা থেকে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসলেন আমেরিকান প্রবাসী মো. আবুল খায়ের। যা এলাকার সবাইকে তিনি চমকে দিয়েছেন। আবুল খায়ের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মনিয়ন্দ ইউনিয়নের কর্মমঠের ধর্মনগর গ্রামের মৃত ছিদ্দিকুর রহমানে ছেলে।
সোমবার কর্মমঠ উচ্চ বিদ্যালয় ডিএনটি মাঠে হেলিকপ্টারে চড়ে তারা আসেন। সেখানে হেলিকপ্টার ও তাদেরকে দেখতে স্থানীয় বাসিন্দাসহ আশপাশের নারী পুরুষ-শিশুসহ শতশত উৎসুক জনতার ভিড় জমে। যা পুলিশ প্রশাসনের লোকজন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হিমসিম খেতে হয়েছে।
স্থানীয়রা বলছে, সন্তান হয়ে মাকে নিয়ে এভাবে আসা আসলেই গৌরবের বিষয় এটি। আজকাল মাকে নিয়ে এভাবে কেউ ভাবে না।
.png)
আমেরিকান প্রবাসী আবুল খায়ের বলেন, আমি দীর্ঘ বছর ধরে প্রবাসে রয়েছি। আমার একটা স্বপ্ন ছিল যখনই আমি বাড়িতে আসব মাকে নিয়ে হেলিকপ্টারে চড়ে গ্রামের বাড়িতে আসার। তাই একদিন আগে বাড়ির লোকজন মাকে নিয়ে ঢাকায় আসে। তারপর আমি মাকে নিয়ে হেলিকপ্টরে চড়ে বাড়ি আসি। আজকে আমার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। এভাবে আসতে পেরে আমার খুবই ভালো লেগেছে।
তিনি আরও বলেন, প্রথমবারের মতো প্রবাসী হেলিকপ্টার দিয়ে বিমানবন্দর থেকে এলাকায় আসা হয়। আমি প্রবাসীদের কাছে অনুরোধ করব সামর্থ্য অনুযায়ী যদি কারো সামর্থ্য থাকে তাহলে যেন প্রবাসী হেলিকপ্টার সেবা গ্রহণ করে।
মনিয়ন্দ ৫নং ইউপি সদস্য মো. হামদু মিয়া বলেন, আমাদের ৭ ভাইয়ের মধ্যে সে হলো ৬ষ্ঠ। আমার ভাই দীর্ঘ ১১ বছর ধরে আমেরিকা আছেন। তার একটা শখ যখনই বাড়িতে আসবে তখন মাকে হেলিকপ্টারে চড়িয়ে নিয়ে আসবে। আজকে সেই ইচ্ছা তার পূরণ হয়েছে। গ্রামের লোকজন সকাল থেকেই হেলিকপ্টার ও তাদেরকে দেখতে মাঠের মধ্যে অবস্থান করে।
কর্মমঠ গ্রামের বাসিন্দা মো. মুর্শেদ মিয়া বলেন, এই পরিবারটি এলাকার মধ্যে একটি আদর্শ পরিবার। মায়ের প্রতি তাদের অন্য রকম ভালোবাসা রয়েছে। এক কথায় মা ভক্ত পরিবার। সে মায়ের প্রতি যে ভালোবাসা দেখিয়েছে আমরা গর্বিত।