ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

যে কারণে এক্সপ্রেসওয়েতে প্রেমিকাকে গুলি চালিয়ে হত্যা করেন তৌহিদ

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৯:১৪, ২ ডিসেম্বর ২০২৪
যে কারণে এক্সপ্রেসওয়েতে প্রেমিকাকে গুলি চালিয়ে হত্যা করেন তৌহিদ
রাজধানীর ওয়ারীর তরুণী শাহিদা ইসলাম রাফা ওরফে শাহিদা আক্তার ও গ্রেফতারকৃত প্রেমিক তৌহিদ শেখ তন্ময়

ঘোরাঘুরি আর রেস্টুরেন্টে বসে খাওয়া-দাওয়া করেই রাত পেরিয়ে যায় প্রেমিক-প্রেমিকার। এরপর ভোরে বিয়ে করার জন্য চাপাচাপি থেকে উভয়ের মধ্যে হয় কথা-কাটাকাটি। একপর্যায়ে প্রেমিকাকে গুলি চালিয়ে হত্যা করেন প্রেমিক। 

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে তরুণীর গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধারের ঘটনায় প্রেমিক তৌহিদ শেখ তন্ময়কে (২৮) গ্রেফতারের পর এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। বিয়ের জন্য চাপ দেওয়ায় প্রেমিক তৌহিদই রাজধানীর ওয়ারীর তরুণী শাহিদা ইসলাম রাফা ওরফে শাহিদা আক্তারকে (২২) গুলি করে হত্যা করেন।

এদিকে, সোমবার ভোরে ভোলার ইলিশা লঞ্চ টার্মিনালে অভিযান চালিয়ে একটি লঞ্চে পালিয়ে যাওয়ার সময় প্রেমিক তৌহিদকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখার পুলিশ। পরে এদিন সকালে তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের বটতলী গ্রামের বেইলী ব্রিজের নিচে ডোবার পানিতে তল্লাশি চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করে।

Advertisement

জেলা গোয়েন্দা শাখা ডিবির ওসি মো. ইশতিয়াক রাসেল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিহত প্রেমিকা শাহিদা ময়মনসিংহের কোতয়ালী থানার বেগুনবাড়ি বরিবয়ান গ্রামের প্রয়াত আব্দুল মোতালেবের মেয়ে। পরিবারের সঙ্গে থাকতেন রাজধানীর ওয়ারী এলাকায়। প্রেমিক তৌহিদ রাজধানীর ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়ারীর ২২ নম্বর বর্নগ্রাম রোডের মৃত শফিক শাহের ছেলে।

ডিবির একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত প্রেমিক তৌহিদ হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে নানা তথ্য দিয়েছে ডিবিকে। শুক্রবার দিবাগত রাতে মোবাইলে কল করে শাহিদাকে ডেকে আনেন প্রেমিক তৌহিদ। ঢাকা থেকে একটি বাসে চড়ে তারা চলে যান মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মাওয়াঘাটে। সেখানে রেস্টুরেন্টে বসে রাতের খাবার খান। রাতভর ঘোরাঘুরি শেষে শনিবার ভোরে আবার ঢাকায় ফেরার উদ্দেশে রওনা হন। পথে এক্সপ্রেসওয়ের জেলার শ্রীনগর উপজেলার দোগাছি এলাকার সার্ভিস লেনে দাঁড়িয়ে কথা হতে থাকে। 

এ সময় প্রেমিকা শাহিদা বিয়ে করার জন্য চাপ দেন। এতে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সঙ্গে থাকা পিস্তল দিয়ে প্রেমিক তৌহিদ পরপর কয়েকটি গুলি করেন। হত্যাকাণ্ড শেষে তৌহিদ বাসে করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। পরে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের বটতলী গ্রামের বেইলী ব্রিজের নিচে পানিতে পিস্তল ফেলে রাজধানীতে চলে যান। মোবাইল বন্ধ করে ঢাকায় তার বোনের বাসায় অবস্থান করেন তৌহিদ। পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা অনুযায়ী রোববার ভোরে ঢাকার সদরঘাট থেকে একটি লঞ্চে চড়ে ভোলার মনপুরার উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। তবে সোমবার ভোরে ইলিশা লঞ্চ টার্মিনাল থেকে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় ডিবি পুলিশের টিম।

প্রসঙ্গত, গত শনিবার সকালে জেলার শ্রীনগর উপজেলার দোগাছি এলাকার এক্সপ্রেসওয়ের সার্ভিস লেন থেকে তরুণী শাহিদার গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওইদিন দিবাগত মধ্যরাতে নিহতের মা জরিনা খাতুন বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের আসামি করে শ্রীনগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় রাজধানীর ওয়ারীর তৌহিদ নামে এক যুবকের সঙ্গে মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক ও দ্বন্দ্ব থাকার কথা উল্লেখ করেন মা। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!