মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও নিহতদের পারিবারিক সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এদিকে, রূপপুর প্রকল্প ঘিরে আবারো ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। রূপপুর প্রকল্পে কর্মরত শ্রমিকরা আক্রান্ত হচ্ছেন বেশি। তবে বিদেশিদের আবাসন এলাকা গ্রিন সিটিতে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করায় বিদেশি নাগরিকদের ওপর এখনো ডেঙ্গুর কোনো প্রভাব পড়েনি বলে জানিয়েছে রূপপুর প্রকল্প কর্তৃপক্ষ।
.png)
জানা গেছে, রূপপুর প্রকল্প এলাকার আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম ও প্রকল্পে কর্মরত শ্রমিকরা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছেন বেশি। প্রতিদিন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। গত এক সপ্তাহে ঈশ্বরদীতে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে, তাদের মধ্যে দুজনই রূপপুর প্রকল্পের শ্রমিক। ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্সের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে প্রতিদিন ৪-৫ জন রোগী ভর্তি হচ্ছেন। বেশিভাগ রোগীই রূপপুর প্রকল্পে কর্মরত অথবা রূপপুর প্রকল্পের আশপাশের গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্স সূত্রে জানা গেছে, এই হাসপাতালের রক্তের প্লাটিলেট পরিমাপ যন্ত্রটি বছরের পর বছর ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। এ বিষয়ে পাবনার সিভিল সার্জন অফিস থেকে জানানো হয়েছে অচিরেই যন্ত্রটি মেরামত করা হবে। গত বছর ঈশ্বরদীতে ডেঙ্গুতে সাতজন মারা যান। এ বছর এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন পাবনার সিভিল সার্জন শহীদুলাহ দেওয়ান।
তিনি বলেন, পাবনা জেলার মধ্যে ঈশ্বরদীতে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। ঈশ্বরদী হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসা নিতে আসা ডেঙ্গু রোগীদের অধিকাংশই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে কর্মরত শ্রমিক বলে নিশ্চিত করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও।
গত শনিবার (নভেম্বর) পাবনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আব্দুর রহমান। তিনি মানিকনগর পূর্বপাড়া স্কুল মোড়ের সাবেক ইউপি মেম্বার প্রয়াত আবুল কাশেম গেদা মজুমদারের ছেলে। পেশায় তিনি ছিলেন একজন ব্যবসায়ী।
মৃত আব্দুর রহমানের পরিবারের পক্ষ থেকে জহুরুল ইসলাম নামে একজন জানান, সপ্তাহ খানেক আগে আব্দুর রহমান জ্বরে আক্রান্ত হলে তাকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রক্ত পরীক্ষা করলে ডেঙ্গু ধরা পড়ে। দ্রুত তাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সেখানেই তিনি মারা যান।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান পাকশী ইউনিয়নের বাখইল গ্রামের আব্দুল মান্নান প্রামানিকের ছেলে পিন্টু প্রামানিক। তিনি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পের রুশ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অর্গানন্ত্রয় কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন।
পিন্টু প্রামানিকের পরিবার সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন আগে জ্বরে আক্রান্ত হন পিন্টু। জ্বরের মাত্রা ক্রমাগত বৃদ্ধি পেতে থাকলে ঈশ্বরদীতে হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষা করার পর তার শরীরে ডেঙ্গু ধরা পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে তাকে চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত বৃহস্পতিবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
এর আগে, গত ১৮ নভেম্বর দিবাগত রাত ১টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ডেঙ্গু আক্রান্ত তুষার আলী নামে রূপপুর প্রকল্পে কর্মরত আরেক শ্রমিকের মৃত্যু হয়। তিনি রূপপুর প্রকল্পের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তুষার ঈশ্বরদী পৌর এলাকার ইসলামপুর পূর্বপাড়া ভূতেরগাড়ি গ্রামের মৃত সেকেন্দার আলী প্রামানিকের ছেলে।
এ বিষয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ও ডেঙ্গু ইউনিটের প্রধান ডা. শফিকুল ইসলাম শামীম বলেন, হাসপাতালে প্রতিদিনই ডেঙ্গু রোগী আসছে। শারীরিক অবস্থা দেখে ভর্তি রাখা হচ্ছে। আমরা প্রতিনিয়ত এডিস মশা নিধনে জলাবদ্ধতা দূর করতে নানাভাবে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের সাইট ইনচার্জ রুহুল কুদ্দুস বলেন, রূপপুর প্রকল্পে কর্মরত ৫ হাজারেরও বেশি সংখ্যক বিদেশি কর্মকর্তাদের আবাসন এলাকা গ্রিন সিটিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ফগিং যন্ত্রের ব্যবহার, নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার ও ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে বাড়তি সতর্কতা নেয়া হয়েছে। প্রকল্পে কর্মরত দেশি শ্রমিকদের রূপপুর প্রকল্পের নিজস্ব স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।