ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

বগুড়ায় নবান্ন উৎসবে মাছের মেলায় ভিড়

আলমগীর হোসেন, বগুড়া
প্রকাশিত: ১৯:২৫, ১৭ নভেম্বর ২০২৪
বগুড়ায় নবান্ন উৎসবে মাছের মেলায় ভিড়
নবান্ন উৎসব উপলক্ষে কাহালু পৌর হাট বাজারে বসেছে বৃহৎ মাছের মেলা। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বগুড়ার কাহালুতে আবহমান গ্রাম বাংলার প্রাচীন ঐতিহ্য নবান্ন উৎসব উদযাপিত হয়েছে। রোববার নবান্ন উৎসব উপলক্ষে কাহালু পৌর হাট বাজারে বসেছে বৃহৎ মাছের মেলা। এ মাছের মেলায় সৌখিন ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ঋতু বৈচিত্র্যের হেমন্তকাল আসলেই কৃষকের নতুন ধান ঘরে তোলার মধ্য দিয়ে শুরু হয় আবহমান গ্রাম বাংলার প্রাচীন ঐতিহ্য এই নবান্ন উৎসবের আয়োজন।

শনিবার ১ অগ্রহায়ণ দেশের বিভিন্ন স্থানে নবান্ন উৎসব উদযাপিত হলেও হিন্দু ধর্মালম্বীদের মতে রোববার জেলার কাহালুতে উৎসব মুখর, সাজ সাজ রব ও  আনন্দ ঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে এ নবান্ন উৎসব উদযাপিত হয়। নবান্ন উৎসবকে ঘিরে কাহালু পৌর হাট বাজার, সারাই বাজার ও দুর্গাপুর বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বসেছে বৃহৎ মাছের মেলা। এসব মাছের মেলায় মাছ কিনতে সৌখিন ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

কাহালু বাজারের পাইকারী মৎস্য ব্যবসায়ী মো. ফজলার রহমান জানান, নবান্ন উৎসব উদযাপন উপলক্ষে এবার রাজশাহী থেকে কাহালু বাজারে ১শ মণের বেশি মাছ বিক্রির জন্য আনা হয়েছে। তবে এবার মোকামগুলোতে দাম বেশি হওয়ায় বাজারে মাছ কম এসেছে।

Advertisement

নবান্ন উৎসব উপলক্ষে কাহালু পৌর হাট বাজারে বসেছে বৃহৎ মাছের মেলা।মৎস্য ব্যবসায়ী আব্দুল হালিম ১২ কেজি ওজনের ১টি কাতলা মাছ এনেছেন যা ১ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছেন। এছাড়া ১২ কেজি ওজনের ব্রিগেড, সিলভার কাপ মাছ ৬শ টাকা, বোয়াল ৭শ টাকা, ৭ কেজি ওজনের ব্ল্যাক কার্প ৪শ টাকা ও রুই, কাতলাসহ মাঝারি সাইজের বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ৩৫০-৪শ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে। 

ঐ দিন ভোর থেকেই ক্রেতারা তাদের পছন্দের মাছ কিনতে মাছের বাজারে ভিড় করতে থাকে। মাছ কিনতে আসা পৌর এলাকার পালপাড়া গ্রামের নবরন্জন, ভূগোপাল ও মাস্টার পাড়ার রবীন্দ্রনাথ সরকারসহ সৌখিন ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে বছরের অন্য সময়ে তারা মাছ কিনলেও নবান্ন উৎসবে বড় মাছ কেনা অনেকটা পরিবারের রেওয়াজে পরিণত হওয়ায় তারা মাছ কিনতে এসেছেন। 

এছাড়া পরিবার ও আত্মীয় স্বজনদের সন্তুষ্ট করতে বড় মাছ কেনার রীতি রেওয়াজ অনেক পুরনো। সেই পুরনো রীতিকে ধরে রাখতে নতুন জামাই ও সৌখিন ক্রেতারা নবান্ন উৎসবের দিনে বাজার থেকে বড় মাছ কিনে থাকেন। নবান্ন উৎসবকে ঘিরে গ্রাম পাড়া মহল্লার ঘরে ঘরে নতুন চালের পিঠা, পুলি, ক্ষীর, পায়েস আর ফিরনি দিয়ে মেহমানদের আপ্যায়ন করতে ধুম পড়ে যায়। গ্রাম বাংলায় চলে নানা আয়োজন। এই নবান্ন উৎসব উদযাপন মুসলিম সমাজে খুব একটা পালন করা না হলেও প্রাচীনকাল থেকে হিন্দু সমাজের মানুষ তাদের পূর্ব পুরুষদের অতীত ঐতিহ্য আর রীতিকে ধরে রাখতে এটি যুগ যুগ ধরে পালন করে আসছেন। তাই নবান্ন উৎসব উদযাপনে হিন্দু সম্প্রদায় নানা আয়োজন করে থাকেন।

অতিথিদের মিষ্টি মুখ করতে পিছিয়ে নেই মিষ্টি ও দধির দোকানগুলো। সুস্বাদু গুড়ের জিলাপিসহ হরেক রকমের মিষ্টির পসরা সাজিয়ে মিষ্টি বিক্রি করছেন দোকানিরা। নবান্ন উৎসবকে ঘিরে এলাকায় উৎসবমুখর ও আনন্দ ঘন পরিবেশ বিরাজ করছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
ট্যাগ:  বগুড়া
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!