শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অধ্যক্ষ মো. শহিদুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের প্রতি অসদাচরণ ও কলেজের প্রশাসনিক কাজেও অনিয়ম করে আসছেন। এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা বহুদিন ধরে অভিযোগ করে আসছি কিন্তু কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না। তাই আমাদের বাধ্য হয়ে রাস্তায় নামতে হয়েছে।
বিক্ষোভের খবরে দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় সেনাবাহিনী, বিজিবি এবং পুলিশের একটি দল। তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন এবং শিক্ষার্থীদের শান্ত করতে আলোচনা করেন। নিরাপত্তা বাহিনী শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করলেও শিক্ষার্থীরা তাদের দাবিতে অটল থাকেন এবং অধ্যক্ষের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
.png)
মহাসড়ক অবরোধের ফলে গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে সাধারণ যাত্রীরা ব্যাপক দুর্ভোগে পড়েন। অনেক যাত্রীকে বিকল্প পথে চলাচল করতে হয়েছে।
এদিকে, শিক্ষকদের মধ্যেও অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অসন্তোষ রয়েছে। ফাতিমা তুজ জোহরা নামে এক সহকারী শিক্ষিকা অভিযোগ করেন, গর্ভকালীন অবস্থায় তাকে ছুটি না দিয়ে অধ্যক্ষ তাকে নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকতে বাধ্য করেন। তার অসুস্থতার সময়েও অধ্যক্ষ অশোভন মন্তব্য করেন এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে তাকে বিপদে ফেলেন।
ফাতিমা তুজ জোহরা আরও জানান, অসুস্থ অবস্থায় ক্লাস নিতে গিয়ে একদিন অজ্ঞান হয়ে পড়ি। তারপরও অধ্যক্ষ ছুটি না দিয়ে কাজ চালিয়ে যেতে বাধ্য করেন। এমনকি বিশেষ দিবস উদযাপনের প্রস্তুতির সময় আমাদের কাজের সময় বাড়িয়ে সন্ধ্যার পরও ক্যাম্পাসে থাকতে বাধ্য করা হয়। যা একজন নারী হিসেবে আমার জন্য নিরাপত্তাহীনতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
শিক্ষিকা ফাতিমা এবং অন্যান্য শিক্ষকদের দাবির প্রেক্ষিতে কলেজ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবে বলে আশ্বাস দিয়েছে। তবে অধ্যক্ষ মো. শহিদুল ইসলামের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মহাসড়কে শিক্ষার্থীদের অবরোধ ও বিক্ষোভ চলছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে।