রাসেল খান জেলার মেলান্দহ উপজেলার সুলতানখালি গ্রামের মো. বাবুল খানের ছেলে। বৃহস্পতিবার রাতে এ অভিযান পরিচালনা করে। র্যাবের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
র্যাব জানায়, ভিকটিম শাহিনা আক্তারের স্বামী মো. আব্দুল সালাম বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে চাকরি করার কারণে এবং তার দুই সন্তান এলাকার বাইরে লেখাপড়া করার সুবাদে জেলার মেলান্দহ উপজেলার দুরমুট গ্রামের বাড়িতে একাই বসবাস করেন গৃহবধূ শাহিনা আক্তার। ঘটনার দিন ১০ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১০টার দিকে গৃহবধূ শাহিনা আক্তার তার ভাইয়ের স্ত্রী লিমা আক্তারসহ তার পরিবারের লোকজনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথাবার্তা বলে ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন ১১ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে শাহিনা আক্তারের প্রতিবেশী শেফালী গৌর এবং তার স্বামী রুপু গৌর ঘরের দরজা খোলা পেয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন। একতলা ভবনের বসত ঘরের পশ্চিম পাশের কক্ষে গিয়ে গৃহবধূ শাহিনা আক্তারের চোখ ও দুই হাত সাদা কাপড়ে বাঁধা, মুখে সাদা জর্জেট কাপড়ের ওড়না গোঁজা, দুই হাঁটু কাঁঠালি রঙের কাপড় দ্বারা বাঁধা এবং অর্ধনগ্ম অবস্থায় দেখতে পান। তাদের ডাক-চিৎকারে প্রতিবেশী লোকজন সেখানে গিয়ে মেলান্দহ থানা পুলিশ এবং গৃহবধূর ভাই মনজুরুল ইসলামকে সংবাদ দেন।
.png)
মেলান্দহ থানা পুলিশ এবং ময়মনসিংহের সিআইডির একটি ক্রাইমসিন ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহত গৃহবধূর মরদেহ ও ঘটনাস্থালের বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন। একই সঙ্গে তার লাশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য জামালপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠান।
র্যাবের জামালপুর ক্যাম্পের মিডিয়া কর্মকর্তা সহকারী পুলিশ সুপার মো. আব্দুল হাই চৌধুরী স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি দস্যুতারা ১০ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১০টা থেকে ১১ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ৯টার মধ্যে যেকোনো সময় শাহিনা আক্তারের বসত ঘরে প্রবেশ করে তাকে ধর্ষণ ও হত্যা করে নগদ টাকা ও গয়নাসহ আট লাখ ৮০ হাজার টাকা লুট করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
এ ঘটনায় ভিকটিমের ভাই মো. মনজুরুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি উল্লেখ করে ১৩ সেপ্টেম্বর মেলান্দহ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা গ্রেফতার এড়াতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে চলে যান।
সেনাসদস্যের স্ত্রীকে ধর্ষণ, হত্যা ও লুটপাটের ঘটনাটি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রচারিত হলে দেশব্যাপী ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ওই মামলার ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও প্রকৃত আসামিদের ধরতে র্যাব-১৪, সিপিসি-১, জামালপুর ছায়া তদন্ত এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায়।
চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা জানার পর থেকেই বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে র্যাব-১৪, সিপিসি-১, জামালপুর ক্যাম্পের একটি বিশেষ আভিযানিক দল ৭ নভেম্বর বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে জামালপুর জেলা সদর উপজেলার পলিশা এলাকা থেকে ওই ঘটনার সন্দেহভাজন পলাতক আসামি মো. রাসেল খানকে গ্রেফতার করা হয়। রাসেল খান জেলার মেলান্দহ উপজেলার সুলতানখালি গ্রামের মো. বাবুল খানের ছেলে। তাকে মেলান্দহ থানার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।