ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

পাকুন্দিয়ায় সবজি চাষে বিপ্লব

বছরে বিক্রি ৪০০ কোটি টাকা
সাখাওয়াত হোসেন হৃদয়, পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ)
প্রকাশিত: ১৫:৪৮, ৮ নভেম্বর ২০২৪
পাকুন্দিয়ায় সবজি চাষে বিপ্লব
বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় সবজি চাষে বিপ্লব ঘটেছে। সবজি চাষের জন্য এখানকার মাটি খুবই উপযোগী। এছাড়া বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল জুড়ে ব্যাপক পরিমাণে সবজির আবাদ হওয়ায় কৃষি অর্থনীতিতে লেগেছে ছোঁয়া। প্রতিদিন এখানকার একটি হাটে কোটি টাকার সবজি বেচাকেনা হয়। সে হিসেবে বছরে এ উপজেলায় সবজি বেচাকেনা হয় ৪০০কোটি টাকার মতো।

উৎপাদিত সবজি সংরক্ষণের জন্য আধুনিক ‘সবজি হিমাগার’ না থাকায় ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন চাষিরা। তবে সবজি হিমাগার স্থাপনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসনের কর্তারা।

জানা গেছে, উপজেলার জাঙালিয়া, চরফরাদী ও এগারসিন্দুর ইউনিয়নের বিশাল চর এলাকাসহ বুরুদিয়া, পাটুয়াভাঙা, হোসেন্দী, নারান্দী, চণ্ডিপাশা, সুখিয়া ইউনিয়ন এবং পৌর এলাকার সবখানেই কম-বেশি সবজির আবাদ হয়ে থাকে। এখানকার মাটি সবজি চাষাবাদের জন্য খুবই উপযোগী। ব্যাপক পরিমাণে উৎপাদিত সবজি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রফতানি হচ্ছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায়।

Advertisement

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার সর্ববৃহৎ সবজির হাট বসে তারকান্দি বাজারে। এখানে ভোর থেকে শুরু হয় বেচাকেনা। চলে দুপুর পর্যন্ত। প্রতিদিন এই হাটে উপজেলার চর এলাকাসহ অন্যান্য এলাকার কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত সবজি নিয়ে উপস্থিত হন। স্থানীয়সহ দূর-দূরান্তের পাইকারদের উপস্থিতিতে বাজার হয়ে ওঠে
জমজমাট। এই হাটে প্রতিদিন কোটি টাকার সবজি বেচাকেনা হয়ে থাকে।

উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় সবজি আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এক হাজার ২৩০ হেক্টর জমি। বৃষ্টির কারণে শীতকালীন সবজি চাষ কিছুটা বিলম্বিত হলেও আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ। এ উপজেলায় শীতকালীন সবজির মধ্যে বেগুন, টমেটো, মূলা, গাজর, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শালগম, লাউ, মিষ্টি কুমড়া, পালং শাক, লাল শাক, বরবটি, ডাটা, সিম, শশা, খিরা, পুঁইশাক, করলা, ঝিঙা, চিচিংগা, ঢেঁড়শ, কচু, পেঁপে, চাল কুমড়া ইত্যাদির আবাদ হয়ে থাকে। সবজির চাষের জন্য এখানকার মাটি খুবই সহায়ক। এজন্য এখানে ব্যাপক পরিমাণে সবজির আবাদ হয়ে থাকে।

মাচায় ঝুলছে লাউ। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

সরেজমিনে উপজেলার বড়আজলদী, তারাকান্দি, চরটেকী, চরকাওনা মুনিয়ারীকান্দা, ব্রহ্মপুত্র নদের চর ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকেরা তাদের সবজি বাগানে ব্যস্তময় সময় কাটাচ্ছেন। কেউ সবজির পরিচর্যায় ব্যস্ত, কেউ রোপণের জন্য জমি তৈরি করছেন, কাউকে আবার উৎপাদিত সবজি সংগ্রহে ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে।

কৃষকরা জানান, বৃষ্টির কারণে শীতকালীন সবজি চাষ কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে এখন সবাই ব্যস্ত সবজি আবাদে। কেউ কেউ আবার আগাম চাষাবাদ করেছেন। যারা এখনই বাজারে বিক্রি শুরু করে দিয়েছেন।

চরকাওনা মুনিয়ারীকান্দা গ্রামের কৃষক গোলাপ মিয়া বলেন, ১২ শতক জমিতে লাউ চাষ করেছি। এতে আমার সবমিলে খরচ হয়েছে তিন হাজার টাকা। এরই মধ্যে ১৫ হাজার টাকার মতো লাউ বিক্রি করেছি। আরো ১০-১২ হাজার টাকা বিক্রি করতে পারব বলে আশা করছি।

একই গ্রামের রুবেল মিয়া জানান, ব্রহ্মপুত্র নদের চরজুড়ে ব্যাপক পরিমাণে সবজির আবাদ হয়। এখানকার মানুষের প্রধান পেশাই হলো সবজি চাষ। উৎপাদিত এসব সবজি তারাকান্দি বাজার, দত্তেরবাজারসহ অন্যান্য হাটে নিয়ে বিক্রি করা হয়। তবে পাইকাররাও সরাসরি জমি থেকেও উৎপাদিত এসব সবজি কিনে নেন বলে তিনি জানান।

চরটেকি গ্রামের কৃষক গোলাপ মিয়া জানান, দুই কাঠা জমিতে ফুলকপি, বাঁধাকপি এবং পেঁয়াজের আবাদ করছেন। এখন এসব জমির পরিচর্যাতে ব্যস্ত রয়েছেন। মাস দেড়েকের মধ্যে ফলন এবং বিক্রির উপযোগী হবে।

উপজেলার আঙিয়াদী ও চণ্ডিপাশা ব্লকের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হামিমুল হক সোহাগ এবং জাহাঙ্গীর আলম জানান, পুরোদমে শীতকালীন সবজির আবাদ চলছে। এরই মধ্যে অনেকে আগাম সবজির আবাদ করেছেন। যারা এখন বাজারে বিক্রি করে ভালো দাম পাচ্ছেন। মাঠ পর্যায় থেকে কৃষকদের সর্বোচ্চ পরামর্শ ও সহযোগিতা করা হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নূর-ই আলম বলেন, এ উপজেলায় ব্যাপক পরিমাণে সবজি চাষ হয়ে থাকে। এর প্রমাণ মিলে তারকান্দি হাটে। এই হাটে প্রতিদিন কোটি টাকার সবজি বেচাকেনা হয়। বছরে ৪০০ কোটি টাকার সবজি বিক্রি হয়। যা কৃষি অর্থনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিচ্ছে। তবে সবজি সংরক্ষণাগার বা হিমাগার না থাকায় প্রান্তিক পর্যায়ের চাষিরা ন্যায্যমূল্য থেকে কিছুটা বঞ্চিত হচ্ছেন। সবজি হিমাগার স্থাপনের চাহিদা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

পাকুন্দিয়ার ইউএনও মো.বিল্লাল হোসেন বলেন, এ উপজেলায় সবজি হিমাগার স্থাপনের বিষয়ে জেলা প্রশাসককে অবগত করা হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!