জানা যায়, জমি খারিজ বা নামজারি করতে সরকার নির্ধারিত খরচ ১ হাজার ১৭০ টাকা হলেও অফিস সহায়ক শাহানুর দলিলভেদে নেন ১০ হাজার থেকে ১৮ হাজার টাকা পর্যন্ত। অথচ নামজারির আবেদনের জন্য কোর্ট ফি ২০ টাকা, নোটিশ জারি ফি ৫০ টাকা, রেকর্ড সংশোধন বা হালকরণ ফি ১ হাজার টাকা ও প্রতি কপি মিউটেশন খতিয়ান সরবরাহ বাবদ ১০০ টাকার বাইরে আর কোনো খরচ নেই।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত বছর ইটনা উপজেলার মৃগা ইউনিয়নের লাইমপাশা গ্ৰামের ইকবাল মিয়ার নিজস্ব জমি খারিজের উদ্দেশ্যে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যান। এ সময় জমি খারিজ করে দিতে ১০ হাজার টাকা লাগবে বলে জানান। ঘণ্টা খানেক দফারফা করার পর সাড়ে ৯ হাজার টাকা গ্ৰহণ করে জমি খারিজের দায়িত্ব নেন শাহানুর। এরপর মাস-বছর সময় পেরিয়ে গেলেও খারিজ অথবা টাকা কিছুই পাননি ইকবাল মিয়া। এ নিয়ে একাধিকবার শাহানুরের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো লাভ হয়নি উল্টো পেয়েছেন হুমকি।
.png)
মৃগা ইউনিয়ন ভাটিরাজিবপুর গ্ৰামের কৃষক কামাল মিয়াও নিজস্ব জমি খারিজের জন্যে ভূমি অফিসে গেলে অফিস সহায়ক শাহানুর ১৭ হাজার টাকায় চুক্তি করে। চাহিদামতো ঘুষের টাকা দিয়েও বছর পেরিয়ে গেলে জমি খারিজ হয়নি। দীর্ঘদিন অফিস সহায়ক শাহানুরের পেছন পেছন ঘুরে ১০ হাজার টাকা ফেরত নিলেও বাকি সাত হাজার টাকা ফেরত পাননি।
মৃগা ইউনিয়নের সামছুল হক জমি খারিজের জন্য অফিস সহায়ক শাহানুরকে এক বছর আগে ১০ হাজার টাকা দিলেও খারিজ বা টাকা কোনোকিছুই পাননি।
মৃগা ইউনিয়নের ভাটিরাজিবপুর গ্ৰামের কৃষক রতন মিয়া অফিস সহায়ক শাহানুরের কাছে সাত হাজার টাকা দিয়েছেন জমি খারিজের জন্য কিন্তু কাজ না করে টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিয়েও কোনো কিছু পাননি তিনিও।
মৃগা ইউনিয়নের লাইমপাশা ভূঁইয়া বাড়ির মেজবাহ উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, এক বছর আগে জমি খারিজের জন্য অফিস সহায়ক শাহানুরকে পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে বছর পেরিয়ে গেলেও খারিজ তো হয়নি কাগজপত্রও ফেরত পাননি তিনি।
অফিস সহায়ক শাহানুরের বিরুদ্ধে এমন শতাধিক অভিযোগ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক লোকজন জানান, শাহানুর মৃগা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দায়িত্বে আসার পর জমি খারিজ এবং জমি ভূমিহীন এনে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অনেক টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এবং কিছু টাকা ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ফেরত দিয়েছেন। যারা অসহায় সাধারণ মানুষ তারা টাকা ফেরত পাইনি উল্টো হুমকি পেয়েছেন।
এ বিষয়ে মোবাইলে অফিস সহায়ক শাহানুরের কাছে জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিবেদককে আত্মীয়-স্বজনের রাজনৈতিক পরিচয় দেখিয়ে ভয় দেখান এবং টাকা ফেরত দিবেন না, যত ইচ্ছে নিউজ করতে বলেন। এ সময় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে তিসি বলেন, নিউজ করে কিছুই করতে পারবেন না।
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খান জানান, অফিস সহায়ক শাহানুরের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টা তদন্ত করে দেখবেন বলে জানান।