জেলা প্রশাসনের তথ্য মতে, সহিংসতার ঘটনায় পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের নয়টি গাড়ি, আঞ্চলিক পরিষদ অফিস, ৮৯টি দোকান, ৪টি ব্যাংক, ৮৫টি ভাসমান দোকান, দুটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, ৪৬টি পরিবহন, দুটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং একটি পুলিশ বক্স ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এদিকে, রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন খান বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির জন্য একটি ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণ কমিটি করা হয়েছে। এই কমিটি প্রায় নয় কোটি ২২ লাখ টাকার একটি তালিকা তৈরি করেছেন। তালিকাটি আমরা পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। মন্ত্রণালায় থেকে বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
.png)
এদিকে, সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনায় রাঙ্গামাটির কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলাসহ দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রাঙ্গামাটির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহ ইমরান (অপরাধ) বলেন, ২০ তারিখের ঘটনায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। একটি হচ্ছে হত্যা মামলা। হত্যা মামলাটি করেছেন নিহত অনিক চাকমার বাবা আদর সেন চাকমা। আরেকটা হচ্ছে ভাঙচুর অগ্নি সংযোগের মামলা। পুলিশ বাদী হয়ে এই মামলাটি করা হয়েছে।
গত ১৯ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ি জেলার পানখাইয়া পাড়ায় মোটরসাইকেল চোর সন্দেহে মো. মামুন নামে এক যুবককে পেটানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এর প্রতিবাদে ১৯ সেপ্টেম্বর জেলার দিঘীনালা উপজেলার লারমা স্কোয়ার এলাকায় বিক্ষোভ মিছিলকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের রূপ নেয়। ওই ঘটনায় সেখানে তিনজন নিহত হয়েছেন।
এ ঘটনার উত্তাপ পরদিন রাঙ্গামাটি শহরেও ছড়িয়ে পড়ে। ২০ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টার দিকে জেলা শহরে শত শত পাহাড়ি জনতা মিছিল বের করে। পরে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলা প্রশাসন থেকে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। এ ঘটনায় এক যুবক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৬৩ জন।