ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

কাপড় আমদানির ঘোষণা, বিদেশ থেকে এলো মদের চালান

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৭:২৪, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪
কাপড় আমদানির ঘোষণা, বিদেশ থেকে এলো মদের চালান
ছবি: সংগৃহীত

জ্যাক ডেনিয়েলস, টেচারস, স্মিরনফ, ব্যালেন্টাইনস, পাসপোর্ট স্কচ, চিভাস রিগ্যাল, ফোর্থ স্ট্রিট, হানড্রেড পাইপার্স, রেপেডস, এবসলিউট ভোদকা, ব্ল্যাক লেবেল। নামগুলো সব বিদেশি মদের ব্র্যান্ডের। চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে মিথ্যা ঘোষণায় এসব ব্র্যান্ডের সাড়ে ১১ হাজারের বেশি মদের বোতল আমদানি হয়েছে নারায়ণগঞ্জের একটি প্রতিষ্ঠানের নামে।

প্রায় ৯ মাস আগে ‘গার্মেন্টস ফেব্রিক্স’ ঘোষণায় চালানটি আমদানি করেছিল রফতানিমুখী প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু দীর্ঘ সময় খালাস না হওয়ায় সন্দেহ হয় কাস্টমস কর্মকর্তাদের। এরপর বুধবার রাতে কনটেইনারটি খুললে কার্টনভর্তি ১১ হাজার ৬৭৬ লিটার মদের বোতল পাওয়া যায়। বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে এসব তথ্য জানান কাস্টমস কর্মকর্তারা।

যদিও প্রতিষ্ঠানটি এক বছর ধরে বন্ধ এবং চালানটিও তাদের নয় বলে কাস্টমস কর্মকর্তাদের কাছে দাবি করেছেন প্রতিষ্ঠানের একজন প্রতিনিধি।

Advertisement

এদিকে কাস্টমস জানায়, নারায়ণগঞ্জের আদমজী ইপিজেডের ‘সুপ্রিম স্মার্ট ওয়্যার লিমিটেড’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে চীন থেকে ফেব্রিক্স ঘোষণায় ২০ ফুট লম্বা একটি কনটেইনার আমদানি করা হয়। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর চালানটি খালাসের জন্য বিল অব এন্ট্রি দাখিল করে চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদ এক্সেস রোডের গোলবাগ আবাসিক এলাকার সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট হাফেজ ট্রেডিং প্রাইভেট লিমিটেড।

রিস্ক ম্যানেজমেন্টের আওতায় চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের এআইআর শাখা রফতানিকারকের ওয়েবসাইট, তৈরি দেশ, আমদানিকারকের ব্যবসায়ের ধরন ও ঠিকানা, পণ্যের বর্ণনা প্রভৃতি বিশ্লেষণ করে পণ্যচালানটিতে অসত্য ঘোষণায় মদের চালান থাকার বিষয়ে প্রাথমিক ধারণা লাভ করে। ফলে বুধবার মধ্যরাতে পণ্যচালানটির সংশ্লিষ্ট কনটেইনার বন্দর কর্তৃপক্ষের সহায়তায় ফোর্সড কিপ ডাউন করে বন্দরের অভ্যন্তরে কায়িক পরীক্ষা শুরু করে এআইআর শাখা। কনটেইনারটিতে থাকা এক হাজার ১১৪টি কার্টন পরীক্ষা করে সব কার্টনেই বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মদের বোতল পাওয়া যায়। এসব মদের শুল্কায়ন মূল্য দুই কোটি টাকা। মদ আমদানিতে শুল্কহার ৬১১ দশমিক ২০ শতাংশ। সে হিসেবে জব্দ চালানে ১২ কোটি টাকার শুল্ককর ফাঁকির চেষ্টা হয়েছে।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের কমিশনার ফাইজুর রহমান বলেন, যেহেতু মদ্যজাতীয় পণ্য হাই ডিউটিয়েবল প্রোডাক্ট সেজন্য হয়তো এটির ডিমান্ড বাজারে বেশি। বাজারে বিক্রি করে লাভ করা যায় বেশি, সেজন্য একটি সংঘবদ্ধ দল এ অপচেষ্টা করে থাকে। এ পণ্য দীর্ঘদিন আমাদের নজরে ছিল। সেজন্য তারা এটি বন্দর থেকে নড়াচ্ছিল না বা খালাস করছিল না। এ ধরনের কার্যক্রম আমরা নিয়মিতভাবে করছি।

তিনি বলেন, পণ্যচালানটিতে মিথ্যা ঘোষণায় প্রায় ১২ কোটি টাকার সরকারি রাজস্ব ফাঁকির দেওয়ার অপচেষ্টা হয়েছিল, যা রোধ করা সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনায় চোরাচালান আইনে আমদানিকারক ও সিএন্ডএফ এজেন্টের বিরুদ্ধে মামলা হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!