শুক্রবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের উপ-কমিশনার ইমাম গাজ্জালী।
তিনি বলেন, কাস্টমসের সব কাজ অনেকটা অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমের ওপর নির্ভরশীল। জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে টানা পাঁচদিন ব্রডব্যান্ডসহ মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধ থাকায় আমদানি-রফতানি কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে। প্রথমদিনে কিছু বিল অব এন্ট্রি থাকা চালানের কাজ ম্যানুয়ালি করলেও পরবর্তীতে কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে। ওই সময় বিল অব এন্ট্রি ও বিল অব এক্সপোর্টের কাজ করা সম্ভব হয়নি। সেই কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি ডিপোতে কনটেইনার জমে যায়। এ অবস্থায় ওয়ার্কিং ডে (কর্মদিবস) না বাড়িয়ে কোনো সমাধান দেখা যাচ্ছে না। তাই চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস কমিশনার মহোদয় আগামীকাল শনিবার পুরোদমে কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন।
.png)
এদিন ব্যাংক বন্ধ থাকায় কাস্টমসের কাজ বাধাগ্রস্ত হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ব্যাংক অন্য দফতর। তাদের খোলা কিংবা বন্ধ রাখার বিষয়ে আমরা কিছু বলতে পারি না। তবে বন্ধ থাকায় আমাদের শুল্কায়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজ করা সম্ভব হবে না।
এদিকে বন্দর সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার ধারণ ক্ষমতা ৫৩ হাজার ৫১৮টি। এরমধ্যে সর্বশেষ তথ্যে জমা ছিল ৪০ হাজার ৫২৮টি কনটেইনার। মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) বন্দরের ইয়ার্ডে কনটেইনার জমা ছিল ৪৩ হাজার ৫৭৮টি। আগের দিন সোমবার (১২ আগস্ট) ছিল ৪৩ হাজার ৯৪১টি। বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) সাত হাজার ৯৩০টি কনটেইনার হ্যান্ডেল হয়। ডেলিভারি হয় চার হাজার ৮০৭টি।
চট্টগ্রাম বন্দর কতৃর্পক্ষের সচিব মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও নিরাপত্তার অভাবে কাজের গতি কিছুটা কমেছে। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস খোলা রাখলে আমাদের ডেলিভারি সংক্রান্ত কাজে অনেকটুকু গতি বাড়বে। ব্যাংকিংয়ের কাজ না হলেও কনটেইনার জট নিরসনে এ সময় হাউস খোলা রাখাটা যথেষ্ট আন্তরিক সিদ্ধান্ত।
তিনি বলেন, বন্দর রিলেটেড ব্যাংকগুলো খোলা রাখা গেলেও ভালো হতো। তবে আমরা চাইলেও অন্য দফতরকে খোলা রাখার ব্যাপারে কথা বলতে পারি না। এছাড়া বন্দর দিন দিন কনটেইনার জট কমিয়ে আনছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঠিক হলে আশা করি খুব অল্প সময়ে কন্টেইনার জটের বিষয়টি থাকবে না।