সোমবার (১২ আগস্ট) দুপুরে জেলা বিশেষ জজ আদালতের বিচারক জ্যৈষ্ঠ বিচারিক হাকিম আহসান তারেক এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় অভিযুক্তদের মধ্যে তিনজন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। বাকি দুইজন পলাতক রয়েছেন।
জ্যৈষ্ঠ আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) দেওয়ান মজনুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
.png)
নিহত ইমরুল কায়েস ইমরান পাবনার বেড়া উপজেলার জগন্নাথপুর পূর্বপাড়া গ্রামের কালু সরদারের ছেলে।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন জগন্নাথপুর পূর্বপাড়া আবুল কালাম, রাজনারায়নপুর গ্রামের মোকছেদ আলী, মোক্তার হোসেন, মাটিরঢালি গ্রামের আপেল মাহমুদ ও জাহিদুল ইসলাম। এদের মধ্যে আপেল ও জাহিদুল পলাতক রয়েছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ১৪ জুলাই বিকেলে ইমরুল কায়েস ইমরানকে তার বাড়ি থেকে সিএনজি রিজার্ভ করে নিয়ে যায় অভিযুক্ত প্রধান আসামি আবুল কালাম। পরে কাশিনাথপুর থেকে তার সহযোগী বাকি চারজনকে তুলে নেয়। তারা সিএনজি কেনার কথা বলে ইমরানকে নগরবাড়ি এলাকার দিকে নিয়ে যায়। তারপর থেকে আর খোঁজ মেলেনি ইমরানের। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি পরিবারের স্বজনরা। এরপর ১৬ জুলাই সকালে আমিনপুর থানার চরদুলাই চক কৃষ্ণপুর মুজিব বাঁধের পাশ থেকে একজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। জানতে পেরে ঘটনাস্থলে গিয়ে ইমরানের লাশ বলে শনাক্ত করেন স্বজনরা।
এ সময় নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রাঘাতের চিহ্ন ছিল।
পরিবারের ধারণা, তাকে কুপিয়ে হত্যা করে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে ফেলে যায় অভিযুক্তরা। এ ঘটনায় নিহত ইমরানের বাবা কালু সরদার বাদী হয়ে ১৬ জুলাই পাঁচজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
মামলার পর প্রধান আসামি আবুল কালামকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে মোকছেদ ও মোক্তার নামের আরো দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্ত শেষে পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে তদন্তকারী কর্মকর্তা। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত।