গত ৫ আগস্ট মিছিলে যোগ দিতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান তিনি। নিহত রাশিদুল কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার নুনখাওয়া ইউনিয়নের কাঠগীরাই গ্রামের বাচ্চু মিয়ার ছেলে।
রাশিদুলের ভাবি মৌসুমি খাতুন বলেন, আমার স্বামী আলমগীর হোসেনসহ আমরা ঢকায় যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তায় থাকি। স্বামী রিকশা চালায়। আমিও একটি গার্মেন্টসে কাজ করি। আমার দেবর পাঁচদিন আগে আমাদের বাসায় আসে। সে ‘আদমজী গার্মেন্টস’ এ কাজ পেয়ে দুই দিন ডিউটি করেছে। গত ৫ আগস্ট সে সকাল ৬টায় গার্মেন্টসে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়। বাহিরে গোলাগুলি হওয়ায় সে আধাঘণ্টা পর বাসায় ফিরে আসে। বেলা ১১টার দিকে মিছিলে যোগ দিতে যায় সে। এরপর আর তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।
.png)
নিহতের মেজ ভাবি মুন্নী বেগম বলেন, মঙ্গলবার বেলা ৩টার দিকে আমার কাছে রাশেদুলের নম্বর থেকে ফোন আসে। আমাকে এক অপরিচিত ব্যক্তি বলেন, রাশিদুলের আপনি কে হন? আমি বলি তার ভাবি। এরপর আমাকে জানানো হয় মিছিলে গিয়ে পুলিশের গুলি খেয়েছে রাশিদুল। আমরা তাকে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করেছি। তার বর্তমান অবস্থা আশঙ্কাজনক। আপনারা তাড়াতাড়ি চলে আসেন।
তিনি আরো বলেন , আমরা খবর পেয়ে ৪টার পরে ঢাকা মেডিকেলে যাই। সেখানে গিয়ে চমকে উঠি। ঢাকা মেডিকেলে তখন লাশ আর লাশ। আমরা সেখানে এক ঘণ্টার মতো ছিলাম। সেখানে লাশের গাড়িতে রাশিদুলকে দেখতে পাই। রাশিদুলে মাথায় ও বুকেসহ মোট তিনটি গুলি লেগেছিল।
নিহতের স্ত্রী আশামনি বলেন, আমার স্বামী আমাকে তার সঙ্গে নিয়ে যাবে বলে কথা দিয়েছিল। তিনমাস পরে তার আসার কথা। কিন্ত পাঁচদিন পর ফিরে এলো। সে এখন কোন কথা কয় না। আমার দিকে চেয়ে দেখে না। সবাই কয়, সে নাকি এখন লাশ। এই লাশ দিয়ে আমি কি করব?। আপনারা আমার স্বামীকে আমার কাছে ফিরিয়ে দেন।
স্থানীয় আলী হোসেন বলেন, আমার প্রতিবেশী ভাতিজা রাশিদুল। তার বাবা একজন দরিদ্র মানুষ। সে ২২ দিন আগে বিয়ে করেছে। আমি শুনেছি সে ঢাকায় মিছিলে গিয়ে পুলিশের গুলিতে মারা গেছে। সে খুব ভালো ছেলে ছিলো। আমরা তার মৃত্যুর উপযুক্ত বিচার চাই।
নিহতের মা আলেয়া বেগম বলেন, কি দোষ করেছিলো আমার ছেলে, কি অপরাধ তার? আপনারা তাকে গুলি করে মারলেন কেন? আমার কলিজার টুকরাটা এভাবে শুইয়া রইছে কেন? আয় বাপধন এই অভাগী মায়ের কোলে ফিরে আয় বাপ।