ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

মাছ ধরার বিত্তি তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা

শামসুজ্জোহা পলাশ, চুয়াডাঙ্গা
প্রকাশিত: ১৬:২০, ৪ আগস্ট ২০২৪
মাছ ধরার বিত্তি তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা
বিত্তি তৈরির কারিগররা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার শৈলমারি গ্রামের ২শ পরিবার বর্ষা মৌসুমে মাছ ধরার বিত্তি তৈরির কাজ করেন। বর্ষা মৌসুমে বিত্তির ব্যাপক চাহিদা থাকায় বিত্তি তৈরির কারিগররা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। বর্তমানে হাট-বাজারসহ গ্রাম-গঞ্জে বিত্তির বিক্রি বেড়েছে অনেক। গ্রামের নারী-পুরুষ ও শিশুরা নিপুণ হাতে বিত্তি তৈরির কাজ করছেন। 

প্রতি সপ্তাহে প্রায় ২ লাখ টাকার বিত্তি বিক্রি হয় চুয়াডাঙ্গা জেলায়। চলতি বর্ষা মৌসুমে প্রায় ৩০ লাখ টাকার বিত্তি বিক্রি হবে বলে আশা করছেন কারিগররা। পরিশ্রম হলেও বিত্তির ব্যবসা লাভজনক। বিত্তি দিয়ে দেশীয় প্রজাতির মাছ ধরা হয়। চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে।

বিত্তি তৈরির কাজ করে শৈলমারি গ্রামের পরিবারগুলো আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন। তারা পেশা হিসাবে বছরের অর্ধেক সময় বিত্তি তৈরিসহ কুটির শিল্পের কাজগুলো করেন।

Advertisement

মাছ ধরার বিত্তি তৈরির প্রধান উপকরণ বাঁশ, তাল গাছের ডেগোর সুতা ও লাইলোনের সুতা। তাল গাছের ডেগোগুলো প্রথমে পানিতে ভিজিয়ে রেখে পঁচিয়ে নিতে হয়। তারপর আঁশ থেকে সুতা হয়। বাঁশ সাইজ মত কেটে তা দিয়ে কাঁটি তৈরি করতে হয়। বাঁশের কাঁটি, তালের সুতা ও লাইলনের সুতা দিয়ে গ্রামের নারী-পুরুষ নিপুণ হাতে বিত্তি তৈরি করেন। ভোর থেকে শুরু করে রাত পর্যন্ত কাজ চলে শৈলমারি গ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়িতে।

বর্ষায় খাল-বিল, নদী, ডোবা, পুকুর, মাঠ পানিতে থৈথৈ করে। এ সময় জেলে ও স্থানীয়রা বিত্তি পেতে পুটি, চিংড়ে, টাকি, ঝাঁয়া, বাইনসহ দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরেন। প্রতিটি বিত্তি বাজারে বিক্রি হয় ২৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা দরে। বাজারে এর চাহিদা রয়েছে ব্যাপক। কারণ এখানকার তৈরি বিত্তি যথেষ্ট ভাল। এখানকার তৈরি বিত্তির চাহিদা রয়েছে মেহেরপুর, যশোর, খুলনাসহ বিভিন্ন জেলায়।

বিত্তি কিনতে আসা যশোর জেলার মাজেদুর রহমান জানান, চুয়াডাঙ্গার শৈলমারি গ্রামের বিত্তি অনেক ভালো। দাম স্বাভাবিক থাকে। এখান থেকে ২০টি বিত্তি কিনলাম। বাড়ির পাশে মাঠে পাতবো মাছ ধরার জন্য।

বিত্তি তৈরির কারিগর অসীম বলেন, এখন অনেক ব্যস্ত সময় পার করছি। আষাড় মাস শেষে শ্রাবণ মাস পড়েছে। চাহিদা অনেক বেড়েছে। বর্তমানে আগের চেয়ে অনেক বিক্রি বেড়েছ। একটি বাঁশ ২০০ টাকা থেকে আড়াইশো টাকায় কিনতে হয়। তাল গাছের ডেগো ৩০ টাকায় কিনতে হয়। এ কাজে অনেক বেশি পরিশ্রম। প্রতি সপ্তাহে দেড় থেকে দুই লাখ টাকার বিত্তি বিক্রি হয়। এ কাজের সাথে জড়িত রয়েছে প্রায় আড়াইশো পরিবার।

বিত্তি তৈরির কারিগর ময়না খাতুন বলেন, পুরুষদের পাশাপাশি আমরাও বিত্তি তৈরির কাজ করি। এতে সংসারে আর্থিকভাবে সচ্ছলতা আসে। সপ্তাহে ৩-৪টি বিত্তি তৈরি করতে পারি। বিত্তি তৈরির সকল কাজ যত্ন সহকারে করতে হয়।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর গ্রামের আব্দুস সালাম বলেন, বিলে মাছ ধরার জন্য ৬০০ টাকা দিয়ে দুটি বিত্তি কিনলাম। বিত্তি পাতলে ছোট মাছ পাওয়া যায়।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. আলী হোসেন জোয়ার্দ্দার বলেন, উপজেলা প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষে থেকে বিত্তি কারিগরদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হয়। বিত্তির কাজ করে শৈলমারি গ্রামের বেশির ভাগ মানুষ সচ্ছল হয়েছেন।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নঈম হাসান জোয়ার্দার বলেন, শৈলমারি গ্রামে প্রথম বিত্তি তৈরির কাজ হয় প্রায় ৬০ বছর আগে। এরপর স্থানীয়রা এ কাজ শেখেন। এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে আমাদের পক্ষ থেকে সব ধরণের সহযোগিতা করা হয়। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!