শুক্রবার (২ আগস্ট) সকালে আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন পুলিশ সুপার সৈকত শাহীন। এর আগে, গত ২৩ জুলাই বান্দরবানের লামা উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে। হত্যার ঘটনায় লামা থানায় মামলা করেন নিহতের ভাই শরিফুল ইসলাম।
গ্রেফতাকৃতরা হলেন- পরকীয়া প্রেমিক হানিফ ও নুর বানু। হানিফ নাইক্ষংছড়ির দক্ষিণ ছালামিপাড়া ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলীর ছেলে। নুর বানু বান্দরবানের লামা উপজেলার পৌর নয়াপাড়া ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা নিহত সুজন হোসেনের স্ত্রী।
.png)
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সুজন ও নূর বানুর সংসারে ১১ বছরের এক ছেলে ও ৩ বছরের একটি মেয়ে রয়েছে। বিয়ের পর থেকে স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুর বাড়িতে থাকতেন সুজন। নিহতের সুনির্দিষ্ট আয় না থাকায় স্ত্রী এবং শাশুড়ির আয়ে চলত সংসার। বিভিন্ন মেয়েদের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ালে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই মনোমালিন্য হতো। ঘটনার কয়েক দিন আগে টাকার জন্য সুজন তার স্ত্রীকে মারধর করেন। একপর্যায়ে সুজনের ওপর স্ত্রী নুর বানু চরম ক্ষুব্ধ হন।
এদিকে ৩ মাস আগে নুর বানু বান্দরবান সদরে যাওয়ার সময় পূরবী গাড়ির হেলপার হানিফের সঙ্গে পরিচয়ের সুবাদে পরকীয়ার সম্পর্ক তৈরি হয়। একপর্যায়ে উভয়ে মিলে জাদু-টোনা করে সুজনকে হত্যা করার পরিকল্পনা করেও ব্যর্থ হন তারা। পরে ২১ জুলাই রাতে তিনটি ঘুমের ওষুধ খাইয়ে দিলে সুজন ঘুমিয়ে পড়ে। রাত ১১টার পর ঘরে এসে হানিফ। এ সময় নুর বানু গামছা দিয়ে ঘুমন্ত সুজনের পা বেঁধে ফেলেন।
পরে হানিফ কম্বল দিয়ে সুজনের নাক মুখ চেপে ধরেন। একপর্যায়ে পায়ের বাঁধন খুলে গেলে সুজনের নাকে-মুখে কিল-ঘুসি মারেন এবং গামছা গলায় পেঁচিয়ে ধরেন হানিফ। একইসঙ্গে নুর বানু সুজনের অন্ডকোষ চেপে ধরলে কিছুক্ষণের মধ্যেই নিস্তেজ হয়ে যান সুজন। পরে রাত ২টার দিকে আসামিরা কাঁধে করে সুজনের মরদেহ নিকটস্থ ঝিরিতে ফেলে দেয়। পরে পানির স্রোতে লাশ মাতামুহুরী নদীতে চলে যায়।
লামা থানার ওসি শামিম শেখ বলেন, হত্যা মামলার পর স্ত্রী ও তার প্রেমিককে গ্রেফতার করে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উভয়ে হত্যাকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে। পরবর্তী আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।