জানা যায়, শহরের গঙ্গাধরপট্টি সড়কটিতে সংস্কার কাজ, অনিবন্ধিত অটোরিকশা, ভ্রাম্যমাণ দোকান ও মার্কেটের পার্কিং স্পেসে দোকান যানজটের প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। শহরের প্রধান সড়কগুলোতে অনিবন্ধিত অটোরিকশার সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এসব অটোরিকশা শহরের রাস্তাগুলোর যানচলাচল ব্যাহত করছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজ ও অফিসের সময় এই যানজট অনেক বেশি প্রকট হয়ে ওঠে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মানিকগঞ্জ শহরের প্রধান সড়ক শহিদ রফিক সড়কে ভোগান্তি মাত্রা অনেক বেশি। সকাল ৯টার পর থেকে দুপুর পর্যন্ত এই সড়কে তীব্র যানজট লেগেই থাকে। শহরের প্রতিটি শপিংমলের গাড়ি পার্কিং স্পেসে ভবন মালিকরা দোকান ও শোরুম ভাড়া দেওয়ায় ক্রেতারা তাদের মোটরসাইকেল, গাড়ি রাস্তায় পার্কিং করে রাখে। ফলে গাড়িগুলো রাস্তায় পার্ক করা হয়, যা যানজটের আরেকটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভ্যানে করে ভ্রাম্যমাণ দোকানিরা বিভিন্ন পয়েন্টে বসায় রাস্তায় যানজটের মাত্রা আরো বেড়েছে। এছাড়া বেউথা থেকে বাসস্ট্যান্ড, পোড়রা খামার বাড়ি থেকে খালপাড় ব্রিজ, জরিনা কলেজ থেকে স্বর্ণকারপট্টি সড়কে অনিবন্ধিত শতশত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করায় এর প্রভাব পড়ছে শহরের প্রধান সড়কে।
.png)
পৌর বাসিন্দা রাশেদুর রহমান বলেন, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যাটজট তীব্র আকার ধারণ করে। আগে যেখানে মাত্র ১০ মিনিট লাগতো, এখন সেখানে ৩০ মিনিট সময় লেগে যায়। এই যানজটের কারণে আমাদের সব সময় দুর্ভোগ পোহাতে হয়। প্রশাসনের উচিত এই সমস্যার দ্রুত সমাধান করে জনগণকে শান্তি দেওয়া।
স্কুলছাত্র সিয়াম আহমেদ জানায়, স্কুলে ও কোচিংয়ে যেতে প্রায় সময়ই দেড়ি হয়ে যায়। এমন হয় কোচিং শেষে স্কুলে যেয়ে দেখি পিটি শুরু হয়ে গেছে। আমাদের স্কুলের টাইমের সময় আরো বেশি যানজট থাকে। আর তখন মনে হয় ঢাকার জ্যামে আটকে আছি। গরমে খুব অসহ্য লাগে। আমাদের অনেক কষ্ট হয়।

শহরের একজন রিকশাচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, যানজটের কারণে আমার আয় কমে গেছে। অটোরিকশার জন্য আমি পৌরসভা থেকে লাইসেন্স নিয়েছি। কিন্তু নিয়ে কোনো লাভ হয়নি। বছর বছর পৌরসভাকে টাকা দিয়ে লাইসেন্স নবায়ন করতে হয়। মেয়র বলেছিলেন শহরে লাইসেন্স ছাড়া কেউ গাড়ি চালাতে পারবে না। এখন লাইসেন্স ছাড়া গাড়ির সংখ্যাই বেশি। গাড়ির বেশি হওয়ায় আগের মত ট্রিপ মারতে পারি না।
পৌরসভার নাগরিক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘যানজট সমস্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। এই সমস্যা যে সমাধান করা যাবে না তা নয়। প্রশাসন ইচ্ছা করলে এর সমাধান সমাধান করতে পারেন। বাজার ব্রিজ থেকে বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত অন্তত শতাধিক ভ্রাম্যমাণ দোকান আছে। এগুলোকে সরিয়ে দিলেই রাস্তা অনেক ফাঁকা হবে। আর অনিবন্ধিত অটোরিকশাগুলোকে শহরে প্রবেশ করতে না দিলেই রাস্তা যানজট কমে যাবে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কেন এসব পদক্ষেপ নেয় না তাও মানুষের অজানা নয়।
সিনিয়র সাংবাদিক সুরুজ খান জানান, প্রশাসনকে কঠোরভাবে অনিবন্ধিত অটোরিকশার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। এতে রাস্তায় চলাচলকারী যানবাহনের সংখ্যা কমবে এবং যানজট কিছুটা হলেও কমবে। এছাড়া, বাণিজ্যিক ভবনের পার্কিং স্পেসগুলো সঠিকভাবে ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে এবং সেখানে যদি দোকান ভাড়া দেওয়া হয় তাহলে জরিমানা করতে হবে। যেহেতু শহরের রাস্তাটি প্রশস্ত নয় সেক্ষেত্রে পিক আওয়ারে মালামাল ভর্তি যানবাহনের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা যেতে পারে।
মানিকগঞ্জ পৌরসভার মেয়র রমজান আলী বলেন, ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে পৌরসভার ভেতরে চলাচলের জন্য ৭২০টি হ্যালোবাইক (ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা) অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আর এর বেশি যেসব অটোরিকশাগুলো চলছে তা অনিবন্ধিত। পৌর এলাকার বিভিন্ন রাস্তার যানজট নিরসন, অবৈধ যানবাহন ও ভ্রাম্যমাণ অপসারণের জন্য বেশকিছু উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, অনিবন্ধিত অটোরিকশার বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে। বাণিজ্যিক ভবনের পার্কিং স্পেসগুলোকে খালি করার জন্য ভবন মালিকদের নোটিশ করা হয়েছে। অবৈধ যানবাহনের পাশাপাশি শহরের ভেতর যারা অবৈধভাবে ভ্রাম্যমাণ দোকান বসিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছেন তাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত আছে। এই কাজে পুলিশ এবং জেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।