ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দালালদের দৌরাত্ম্য

কাজী মফিকুল ইসলাম, আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
প্রকাশিত: ০১:৪০, ২৯ জুলাই ২০২৪
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দালালদের দৌরাত্ম্য
আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলা রাজনৈতিক ও ভৌগোলিকভাবে খুবই একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। এখানে ১টি পৌরসভা ৫টি ইউনিয়ন প্রায় দেড় লাখের উপর মানুষের বসবাস। যার আয়তন রয়েছে প্রায় ১০২.১১ বর্গ কিলোমিটার। 

এ উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যায় উন্নতি করা হয়। সেই সঙ্গে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত চিকিৎসক যন্ত্রপাতি ও ঔষধপত্র রয়েছে। তবে নানা কারণে দালালদের দৌরাত্ম্য বেড়েই চলছে। আর তাদের দৌরাত্ম্যের কারণে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্যাথলজি বিভাগের পরীক্ষা থেকে প্রতিনিয়িত বঞ্চিত হচ্ছেন চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীরা। এ অবস্থায় বাহির থেকে বিভিন্ন পরীক্ষা করাতে গিয়ে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীদের দ্বিগুণ টাকা গুনতে হচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতে উপজেলাবাসীর কথা বিবেচনায় এনে সরকার ২০১৮ সালে ৩১ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়।  এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেটিতে পৌর শহরসহ উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন ও সদর উপজেলার বেশ কিছু এলাকার প্রায় ২ লাখের বেশি মানুষ চিকিৎসক সেবা নিয়ে আসছে।

Advertisement

বর্তমানে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে ১৪ জন ডাক্তারের মধ্যে ১২ জন দিয়ে চলছে চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম। ইসিজি,আলট্রাসনোগ্রাফিসহ বেশ কয়েকটি পরীক্ষা করা হয় এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। কিন্তু এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কমছে না দালালদের দৌরাত্ম্য।

দৈনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নির্ধারিত কর্মীরা সকাল থেকে দুপুর পযর্ন্ত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে তারা ঘুরঘুর করছেন। অনেকে অদৃশ্য ক্ষমতা বলে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের রুমের ভেতরে থাকছেন। চিকিৎসকরা রোগীদের জরুরি কোনো পরীক্ষা করতে বললে তাদের ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নিয়ে যেতে তৎপর হয়ে উঠেন। অনেক সময় ব্যবস্থাপত্র নিয়ে টানাহেঁচড়া করতে ও দেখা যায়। এসব দালালের দৌরাত্ম্যের কারণে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্যাথলজি বিভাগের পরীক্ষা থেকে প্রতিনিয়িত বঞ্চিত হচ্ছেন অনেক রোগী।

সেই সঙ্গে দালালদের কারণে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে চিকিৎসকের দেওয়া পরীক্ষা করাতে গিয়ে অতিরিক্ত টাকা গুনতে হচ্ছে।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা পৌর শহরের শান্তিনগর এলাকার আয়েশা আক্তার বলেন, হাসপাতালে এলে পদে পদে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। দালালরা হাসপাতালের ফটকসহ ভেতরে ঘোরাফেরা করে। রোগী ডাক্তারের চেম্বারে ঢুকার সঙ্গে সঙ্গে তারা দাঁড়িয়ে থাকে। ব্যবস্থাপত্র লেখার সঙ্গে সঙ্গে তাদের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে আমাদেরকে নিয়ে যায়।

পৌর শহরের দেবগ্রাম এলাকার মো.শামসুল ইসলাম বলেন, আমার মেয়ে তানিয়া আক্তার অনেক দিন ধরে পেটে ব্যথা। তাই ডাক্তার দেখাতে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। অনেক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে  ডাক্তার দেখানো হয়। ডাক্তার আলট্রাসনোগ্রামসহ বেশ কয়েকটি পরীক্ষা দেন। ডাক্তারের কক্ষ থেকে বের হতে না হতেই আমার হাত থেকে ব্যবস্থাপত্রটি নিয়ে যায়। এ সময় তারা বলে হাসপাতালে এই পরীক্ষা  ভালো হবে না। তাছাড়া অনেক সময় লাগবে। আমার ক্লিনিকে চলে আসেন। আমরা ভালো করে দ্রুত পরীক্ষা করা হবে। কোনো উপায় না পেয়ে একপ্রকার বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে ক্লিনিক থেকে পরীক্ষা করে আনা হয়।

উপজেলার উত্তর ইউনিয়নের আজমপুর এলাকার মো. আশরাফুল আলম বলেন, আমার স্ত্রীর বেশ কয়েক দিন ধরে শরীর খুবই খারাপ যাচ্ছে। চিকিৎসা সেবা নিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসলে চিকিৎসক ইসিজি আলট্রাসনোগ্রামসহ বেশ কয়েকটি পরীক্ষা দেন। যা ওইসব পরীক্ষা এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই হয়। ডাক্তারের রুম থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দালালরা নয়-ছয় বুঝিয়ে আমাদেরকে  ডায়াগনস্টিকে নিয়ে গিয়ে পরীক্ষা করায়। কিন্তু স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তুলনায় সেখানে আমাদের কয়েকগুণ টাকা বেশি গুনতে হয়েছে। এখানে যদি দালাল মুক্ত থাকতো তাহলে পরীক্ষা করা যেতো টাকা ও কম লাগতো। স্বল্প আয়ের লোকজন বেঁচে যেতো। আশা করছি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা রোগীদের হয়রানি থেকে রক্ষা করতে ‘দালালমুক্ত  উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স’ গড়তে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।

আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নতি হয়েছে। ৩১ শয্যার জনবল দিয়ে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছি আগত রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে। 

তিনি আরো বলেন, এই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা অধিকাংশ রোগীই গরিব এবং অসহায়। আমরা রোগীর অবস্থা দেখে যখন প্রয়োজনে কোনো পরীক্ষা দেই তখন কিছু লোক রোগীদের ভুল বুঝিয়ে  ডায়াগনস্টিকে নিয়ে যায়। অথচ আমাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই অনেক ধরণের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার ব্যবস্থা রয়েছে। এখানে দালালদের দৌরাত্ম্য কমাতে এরইমধ্যে বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। যার ফলে আগের তুলনায় দালালদের দৌরাত্ম্য অনেকটা কমেছে। পুরোপুরি দালালমুক্ত করতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!