ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

মেসেঞ্জারে ছবি-ভিডিও পাঠিয়ে ছাত্রীদের বশে আনতেন এই শিক্ষক

হারুন আনসারী, ফরিদপুর
প্রকাশিত: ১৫:০১, ১৫ জুলাই ২০২৪
মেসেঞ্জারে ছবি-ভিডিও পাঠিয়ে ছাত্রীদের বশে আনতেন এই শিক্ষক
জয়নুল আবেদীন টিটন। ছবি: সংগৃহীত

ফরিদপুর শহরের আদর্শ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জয়নুল আবেদীন টিটনকে ছাত্রীদের যৌন নিপীড়নের অভিযোগে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যায় ফরিদপুর কোতোয়ালি পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠায়। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

জয়নুল আবেদীন টিটন প্রধান শিক্ষক হিসেবে ২০১০ সালে বিদ্যালয়টিতে যোগদানের পর থেকে গত ১৪ বছর ধরে ওই স্কুলের ছাত্রীদের যৌন হয়রানি নিপীড়নসহ ছাত্রীদের নানাভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিলেন বলে ছাত্রীদের অভিযোগ।

রোববার তাদের ১২ জন ফরিদপুরের পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে হাজির হয়ে তাদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো খুলে বলেন এবং লিখিত অভিযোগ দেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে গ্রেফতার করা হয় ওই নারী লোভী প্রধান শিক্ষক টিটনকে।

Advertisement

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ওসি মো. হাসানুজ্জামান সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার সন্ধ্যায় জয়নুল আবেদিনকে ফরিদপুর শহর থেকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

জানা গেছে, শহরের আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জয়নুল আবেদীন টিটনের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ দিয়েছেন দশম শ্রেণির একাধিক ছাত্রী। নিজের ও পরিবারের মানসম্মানের ভয়ে এতদিন তারা মুখ খুলেননি।

রোববার দুপুরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে একাধিক শিক্ষার্থীর অবস্থান করতে দেখা যায়। এর আগে, বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) বরাবর একটি অভিযোগ দেন শিক্ষার্থীরা। একইসঙ্গে অভিযোগের অনুলিপি দেওয়া হয় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকেও।

জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক হওয়ার পর থেকে গত একযুগের বেশি সময় ধরে বিশেষ করে দশম শ্রেণির ছাত্রীরা টিটনের এমন লালসার শিকার হয়েছে বলে জানা গেছে। শ্রেণিকক্ষেই ছাত্রীদের গায়ে হাত দিতেন তিনি। নিজ বাসাই প্রাইভেট কোচিং করানোর সময় শিক্ষার্থীদের একাকি পেলে ছাত্রীদের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেওয়া, ফেসবুক মেসেঞ্জারে উত্তেজনাপূর্ণ আলাপচারিতাসহ পর্ন ছবি ও ভিডিও পাঠিয়ে বশে আনতেন তিনি। ফাঁদে পড়ে তার সঙ্গে অনেক ছাত্রী ঘনিষ্ঠ হতে বাধ্য হয়েছেন। যারা তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হত তাদের টেস্ট পরীক্ষায় প্রশ্নপত্রের উত্তর দিয়ে পাশ করিয়ে দিতেন এবং যারা তার কুপ্রস্তাবে রাজি হত না তাদের ফেল করিয়ে দেওয়ার ভয়ভীতি দেখানো হত।

শিক্ষার্থীরা বলেন, শ্রেণিকক্ষে থাকা বিভিন্ন সিসিটিভি ক্যামেরা, বিশেষ করে গত ১১ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত ফুটেজ সংগ্রহ করে যাচাই করা হলে অনেক কিছুই জানা যাবে। ক্লাস চলাকালীন মেয়েদের শরীরে স্পর্শ করতেন প্রধান শিক্ষক। এ বিষয়টি অন্যান্য শিক্ষককে জানালেও তারা ভয়ে কোনো পদক্ষেপ নেননি।

বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মাহাতাব আলী মেথু বলেন, শনিবার (১৩ জুলাই) বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমার সঙ্গে দেখা করলে আমি তাকে এ বিষয় নিয়ে আজকে (রোববার) মিটিং ডাকার নির্দেশ দিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি বিদ্যালয়ে আসেননি এবং মিটিং এর বিষয়ে কাউকে কলও করেননি। মিটিং কেন ডাকেনি এ বিষয়ে রোববার প্রধান শিক্ষককে ফোন দিলে রিং বাজলেও তিনি ফোন ধরেননি। এর আগে আমি ফরিদপুর পৌরসভার মেয়র থাকা অবস্থায়ও এ ধরনের অভিযোগ তার বিরুদ্ধে আমি ডাক যোগে পেয়েছি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগকারী না থাকায় তাকে মৌখিকভাবে সাবধান হওয়ার নির্দেশ দেই।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!