ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

এক কুকুরের কামড়েই হাসপাতালে ৩৫ জন

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৯:৪৬, ১৪ জুলাই ২০২৪
এক কুকুরের কামড়েই হাসপাতালে ৩৫ জন
সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ফাইল ফটো

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে পাগলা কুকুরের কামড়ে নারী-শিশুসহ ৩৫ জন আহত হয়েছেন। রোববার (১৪ জুলাই) উপজেলার মনারবাগ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে কুকুরটিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পাশাপাশি বেওয়ারিশ কুকুর নিধনের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

আহতদের সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ঢাকা মহাখালী সংক্রামণ ব্যাধি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় প্রায় ১৪-১৫টি গ্রামের মানুষ পাগলা কুকুর আতঙ্কে রয়েছেন। 

পাগলা কুকুরের কামড়ে আহতরা হলেন- উপজেলার মজলিস গ্রামের সাইদুল ইসলাম (৫৫), গোয়ালদী গ্রামের আল হাবীব (১২), বাগমুছা গ্রামের জিকু মিয়া (৩৬), হেনা বেগম (৪২), শরীফ (২৩), নূর আলী (৪), শামসুল ইসলাম (৭২), শাহজাহান (৮০), রিপন সেন (৩৪), আমিনউদ্দিন (৪৩), সাইজউদ্দিন (৫৮), আফজাল (৩৪), কৃষ্ণপুরা গ্রামের হাজেরা বিবি (৫৫), হারুন অর রশিদ (৫২), বালুয়া দিঘিরপাড় গ্রামের হাফসা (৬), জয়রামপুর গ্রামের সিনহা (১১), ষোলপাড়া গ্রামের শুক্কুর আলী (৫৫), মনারবাগ গ্রামের হেলাল মিয়া (২২), আবু তালেব (১২), আলমগীর হোসেন (১৪), হাড়িয়া চৌধুরীপাড়া গ্রামের আমেনা (২৪) ও তার ছেলে মারুফ হোসেনসহ (২) ৩৫ জন আহত হন।

Advertisement

জানা যায়, উপজেলার বাড়ি মজলিস, গোয়ালদী, বাগমুছা, আমিনপুর, লাহাপাড়া, রাইজদিয়া, বালুয়া দিঘিরপাড়, কৃষ্ণপুরা, জয়রামপুর, ষোলপাড়া, মনারবাগ ও হাড়িয়া চৌধুরীপাড়া এলাকার শিশু, নারীসহ ৩৫ জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে সাতজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের মহাখালী সংক্রামণ ব্যাধি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও ২৫ জনকে জলাতঙ্কের টিকা দিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি পাঠানো হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী আফজাল হোসেন জানান, রোববার একটি কুকুর এসে উত্তেজিত হয়ে কৃষ্ণপুরা গ্রামের নারী পুরুষদের কামড়াতে থাকে। যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই কামড়িয়ে পালিয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা করানো হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সোনারগাঁও পৌরসভা এলাকায় কুকুর নিধন হয় না। তাই বিভিন্ন এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের উৎপাত বেড়ে গেছে।

কুকুরের কামড়া খাওয়া বাগমুছা গ্রামের জিকু মিয়া জানান, সকালে তিনি সোনারগাঁও জি.আর. ইনস্টিটিউশন মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ লাল ও সাদা বর্ণের মিশ্রন একটি কুকুর এসে আক্রমনাত্মকভাবে তাকে কামড়িয়ে দ্রুতগতিতে পালিয়ে যায়। হাসপাতালে গিয়ে অনেক রোগীকে দেখতে পাই। হাসপাতালে জলাতঙ্কের টিকা শেষ হয়ে যাওয়ায় ফার্মেসি থেকে ক্রয় করে টিকা নিতে হয়েছে।

কুকুরের কামড়ে আহত হাড়িয়া চৌধুরীপাড়া গ্রামের আমেনা বেগম জানান, তিনি তার দুই বছর বয়সী ছেলে মারুফ হোসেনকে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। হঠাৎ লাফিয়ে এসে নাকে মুখে ও হাতে কামড়িয়ে আহত করেছে। এ সময় মা-ছেলে দুজনকেই কামড়িয়ে আহত করে।

সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (সেকমো) নাসিমা আক্তার জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩৫ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। জলাতঙ্কের টিকা কম থাকার কারণে অনেককেই ফার্মেসি থেকে কিনতে হয়েছে। যে রোগী প্রথম দিকে এসেছেন তাদের হাসপাতাল থেকে টিকা সরবরাহ করা হয়েছে।

সোনারগাঁও পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাশরেকুল আলম বলেন, সরকারি একটি প্রজ্ঞাপনে বেওয়ারিশ কুকুর নিধন বন্ধ থাকায় নিধন সম্ভব হচ্ছে না। তবে যাদের কুকুর কামড়িয়েছে তাদের প্রত্যায়ন দিয়ে টিকা পেতে সহযোগিতা করা হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!