ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

‘গরুর শরীরে হাত বুলিয়ে কষ্ট চেপে রাখি’

সাখাওয়াত হোসেন হৃদয়, পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ)
প্রকাশিত: ১৫:১৯, ১৫ জুন ২০২৪
‘গরুর শরীরে হাত বুলিয়ে কষ্ট চেপে রাখি’
গরুর শরীরে হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন আলী হোসেন

পরম যত্নে বছরজুড়ে গোয়াল ঘরে একাধিক গরু লালন-পালন করেন কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার আলী হোসেন নামে এক তরুণ। কোরবানির হাটে সেগুলো বিক্রি করেন। বিক্রি হলে ক্রেতারা যখন নিয়ে যান তখন শেষবারের মতো গরুটির শরীরে হাত বুলিয়ে দেন আলী। শেষবারের মতো হাত বুলিয়ে চেপে রাখেন মনের কষ্ট। 

পাকুন্দিয়া উপজেলার পৌরসদর গো-হাটে শনিবার দুপুরে গিয়ে দেখা গেছে, হাটজুড়ে অসংখ্য গুরু। কেউ হেঁটে কেউবা আবার গাড়িতে করে গরু হাটে নিয়ে আসছেন। অনেকে আবার খুঁটির সঙ্গে গরু বেঁধে ক্রেতার অপেক্ষা করছেন। 

আলী হোসেন নামে এক তরুণকে দেখা যায়, গামছায় পানি ভিজিয়ে একটি ষাঁড়ের শরীর মুছে দিচ্ছেন। কিছু সময় পরপর তাকে এটা করতে দেখা গেছে। 

Advertisement

তার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, আমার বাড়ি পৌরসদরের বীরপাকুন্দিয়া সরকার বাড়ি। আমার বাবার নাম স্বাধীন মিয়া। ছোটবেলা থেকেই পড়ালেখার পাশাপাশি বাবার সঙ্গে গরু পালন করেছি। এতে গরুর প্রতি আমার একটা আকর্ষণ রয়েছে। বছরজড়ে পরম যত্নে গরুগুলো পালন করি। হাটে নিয়ে আসার পর যখন বিক্রি হয়, তখন ভালো লাগার পাশাপাশি কষ্ট লাগে। এতদিন যে প্রাণীটাকে আদর করে পালন করেছি সেটাটে বিদায় দেওয়া কষ্টের। তাই শেষ বেলায় গরুটাকে হাত বুলিয়ে কষ্ট চেপে রাখি। তাছাড়া কী বা করার আছে। 

আলী হোসেনের বাবা স্বাধীন মিয়া জানান, তার ছেলেই গরুগুলোকে পালে। বিক্রির সময় যখন গরুটাকে নিয়ে যায় তখন সে অনেক কষ্ট পায়। কষ্ট ভুলতে সে শেষবারের মতো গরুটাকে হাত বুলিয়ে দেয়। 

তিনি বলেন, এ বছর আরো তিনটা গরু বিক্রি করেছি। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!