র্যাবের দাবি, জি থ্রি রাইফেলটি মিয়ানমারের আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ব্যবহৃত এবং মিয়ানমার থেকে অস্ত্রটি সন্ত্রাসীরা বাংলাদেশে এনেছে। গ্রেফতার মো. জাকারিয়া উখিয়ার বালুখালীর ১০ নম্বর ক্যাম্পের আলী জোহরের ছেলে।
শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে র্যাব ১৫ এর কক্সবাজার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন র্যাব ১৫ এর অধিনায়ক এইচএম সাজ্জাদ হোসেন।
.png)
তিনি বলেন, গোয়েন্দা সূত্রে তথ্য ছিল ১০ নম্বর ক্যাম্পে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আরসার কতিপয় সদস্য নাশকতার জন্য পার্শ্ববর্তী দেশে থেকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অস্ত্র নিয়ে এসেছে। এই সূত্র ধরে শুক্রবার ভোরে ১০ নম্বর ক্যাম্পে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে জাকারিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জাকারিয়া স্বীকার করেছেন তিনি সন্ত্রাসী সংগঠন আরসার গান গ্রুপ কমান্ডার হিসেবে বর্তমানে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কিলিং মিশনে অংশগ্রহণ করতেন। মিশনে ব্যবহৃত অস্ত্র পালংখালী ইউনিয়নের ঘাঁটি বিলে লুকিয়ে রেখেছেন। ওই স্থানে অভিযান চালিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশের আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যবহৃত ১টি জি থ্রি রাইফেল ও ৫ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
এইচএম সাজ্জাদ হোসেন আরো বলেন, জাকারিয়া ২০১৭ সালে সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশে এসে ১০ নম্বর ক্যাম্পে স্বপরিবারে বসবাস শুরু করেন। মিয়ানমারে অবস্থানকালে আরসার শীর্ষ কমান্ডার আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনির সঙ্গে সু-সম্পর্ক গড়ে উঠে। এরপর আরসায় যোগদান করেন। বাংলাদেশে প্রবেশের প্রথম দিকে তিনি আরসার নেট দল এবং পরবর্তীতে গান গ্রুপের সক্রিয় সদস্য হিসেবে কাজ করেন। এরপর ২০২৩ সালের শেষের দিকে তিনি ১০ নম্বর ক্যাম্পের ব্লক-এফ/১৭ এর ব্লক কমান্ডার হিসেবে নিয়োগ পায়। এ সময় তার নেতৃত্বে আরসার অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অপহরণ, অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজি ও সাধারণ রোহিঙ্গাদের নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপরাধ কার্য পরিচালনা হতো।
তিনি আরো বলেন, ২০২২ সালে মাদকবিরোধী যৌথ অভিযানের সময় আরসা সন্ত্রাসীদের হামলায় একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিহত হওয়ার পর ক্যাম্প এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধি করলে তিনি মিয়ানমারের পালিয়ে যান। কিছু দিন পর আবারো বাংলাদেশে এসে আরসার গান গ্রুপ কমান্ডার হিসেবে বিভিন্ন কিলিং মিশন ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করেন। তিনি অস্ত্র চালনায় দক্ষ হওয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সংগঠিত বিভিন্ন নাশকতা, মারামারি,অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি, অপহরণ, অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে কিলিং মিশনে অংশগ্রহণ করতেন।
জাকারিয়ার বিরুদ্ধে উখিয়া থানায় বিভিন্ন অপরাধে একাধিক মামলা রয়েছে। তিনি দুইবার কারাভোগও করেছেন। জাকারিয়ার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা করে উখিয়া থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।