ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

ভুয়া টিসিবি কার্ডে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

সাজেদুর আবেদীন শান্ত, সোনাতলা (বগুড়া)
প্রকাশিত: ১৪:৫১, ১২ জুন ২০২৪
ভুয়া টিসিবি কার্ডে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বগুড়ার সোনাতলায় ভুয়া টিসিবি কার্ডের মাধ্যমে ছয়টি গ্রামের প্রায় ৭০০ গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে মহিলা ইউপি সদস্য নাহিদ নাসরিন সাথীর বিরুদ্ধে। 

সোমবার (১০ জুন) সন্ধ্যায় ঐ ইউপি সদস্যের বাড়ির উঠানে টাকা ফেরতের দাবিতে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন প্রায় তিনশ’ গ্রাহক।

জানা গেছে, তিনি জোড়গাছা ইউনিয়নের ৭, ৮, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য। তিনি ঐ গ্রামের রেজাউল হক রেজভীর স্ত্রী।

Advertisement

সরেজমিন সেখানে গেলে প্রায় তিন শতাধিক ভুক্তভোগী অভিযোগ করে বলেন, টিসিবির কার্ড দেওয়ার কথা বলে মহিলা মেম্বার সাথী ও তার স্বামী আমাদের থেকে ২৫০ করে টাকা নেন এবং বলেন তোমাদের নিয়মিত টিসিবির পণ্য দেওয়া হবে। আমরা সেই অনুযায়ী মহিলা মেম্বর সাথীকে টাকা দেই। এরপর তিনি কোনো কার্ড না দিয়ে আমাদের সোমবার (১০ জুন) দুপুরে আসতে বলেন।

তারা আরো বলেন, ঐদিন বিকেলে এলে তিনি আমাদের কাছ থেকে আবারো ৮০০ টাকা নিয়ে নামহীন কোম্পানির প্রায় ৪০০-৫০০ টাকার পণ্য ধরিয়ে দেন। আমরা তখন বলি ঐ পণ্য নেবো না। আমাদের টাকা ফেরত চাই। কিন্তু টাকা ফেরত চাইলে তিনি টাকা না দিয়ে আমাদের সঙ্গে মারমুখী আচরণ করেন ও অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন।

স্বপন নামে এক ব্যক্তি বলেন, আমি পণ্য না নিয়ে টাকা ফেরত চাওয়ায় আমাকে থাপ্পড় মারা হয়। আমি এর বিচার চাই।

মহিলা ইউপি সদস্য নাহিদ নাসরিন সাথী বলেন, একটি কোম্পানি আমাদের কাছে এসে টিসিবির মতো একটি কার্ড দেওয়ার কথা বলে গ্রাহক বাড়াতে বলেন এবং ২৫০ টাকা সদস্য ফি নিতে বলেন। আমি সরল বিশ্বাসে তাদের কথা অনুযায়ী গ্রাহক ভর্তি করাই। এখন কেউ যদি পণ্য পছন্দ না করে তবে টাকা ফেরত দেবো। কোন কোম্পানি জানতে চাইলে তিনি বলেন, এফজিএস গ্লোবাল কোম্পানি লিমিটেড।

এফজিএস গ্লোবাল কোম্পানি লিমিটেডের এক্সিকিউটিভ পরিচয়দানকারী আব্দুল্লাহ বলেন, আমরা যেসব পণ্য দিতে চেয়েছিলাম সেই পণ্যই দিয়েছি। তবে গ্রাহকদের হয়তো কেউ ভুল বুঝিয়েছে। আর যেহেতু একটা ঝামেলার সৃষ্টি হয়েছে সেহেতু আমরা পর্যায়ক্রমে গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেবো।

এফজিএস গ্লোবাল কোম্পানি লিমিটেডের ডিলার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আমি একজন ডাক্তার। পণ্য বিষয়ে আমার যথেষ্ট অভিজ্ঞতা আছে। আমরা ২৫০ টাকার ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে এ পণ্যগুলো বিক্রি করে থাকি। 

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম রব্বানী বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি এবং তাদের সচেতনমূলক কথাও বলেছি। এছাড়াও আমি মাইকিংয়ের মাধ্যমে সচেতন করার ব্যবস্থা করবো।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা শারমিন বলেন, ঘটনাটি আপনার মাধ্যমেই শুনলাম। আমি বিস্তারিত জেনে ব্যবস্থা নেবো।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!