ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

জমতে শুরু করেছে যশোরের ২১ পশুহাট, থাকছে যেসব সুবিধা

যশোর ‍প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২০:৩১, ১১ জুন ২০২৪
জমতে শুরু করেছে যশোরের ২১ পশুহাট, থাকছে যেসব সুবিধা
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

যশোরের ২১ পশুহাটে কোরবানির গরু-ছাগল উঠতে শুরু করেছে। তবে এখনো জমজমাট বেচাকেনা শুরু হয়নি। হাট সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোরবানির ঈদের পাঁচদিন বাকি রয়েছে। সাধারণত তিন-চারদিন আগে পশুহাটগুলো জমে উঠে।

এদিকে, হাটগুলোতে রোগাক্রান্ত পশু নির্ণয়ে ১০টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত করা হয়েছে। অন্যান্য বছরের মতো অনলাইনে পশু কেনাবেচার সুযোগের পাশাপাশি পশু হাটে থাকছে ক্যাশলেস সুবিধা। ফলে টাকা ছিনতাইয়ের ভয় নেই। তাছাড়া অসৎ কারবারিদের রুখতে প্রশাসনের কড়া নজরদারি থাকবে। বসানো হবে জাল টাকা শনাক্তের মেশিন।

দেশে আগামী ১৭ জুন পালিত হবে পবিত্র ঈদুল আজহা। এই কোরবানির ঈদের বাজার ধরতে যশোরে প্রায় ১০ হাজার খামারি ১ লাখ ২৬ হাজারের বেশি গরু-ছাগল ও ভেড়া মোটাতাজাকরণ করেছে। চাহিদার তুলনায় বেশি পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত থাকায় অন্যবারের মতো এ বছরও সরকারিভাবে বিদেশ থেকে গরু আমদানি করা হবে না। অন্যদিকে, চোরাই পথে দেশে আসা কোনো পশু যাতে হাটে উঠতে না পারে সে দিকেও লক্ষ্য রাখবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।

Advertisement

যশোর জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রাশেদুল হক বলেন, এ বছর যশোরে কোনো পশুর সংকট নেই। চাহিদার চেয়ে উদ্বৃত্ত আছে ৩০ হাজার ১৩৩টি পশু। চাইলে অন্য জেলাও কোরবানির পশু পাঠানো যাবে।

তিনি আরো বলেন, জেলার ৮ উপজেলায় মোট ২১টি পশুর হাট বসবে। এর মধ্যে বৃহত্তর পশুহাট হবে শার্শা উপজেলার সাতমাইলে। প্রস্তুত করা হয়েছে ১০টি মেডিকেল টিম। ক্রেতা-বিক্রেতার সুবিধার্থে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

যশোরে সবচেয়ে বড় পশুহাট শার্শার সাতমাইল পশুহাট। সপ্তাহে শনি ও মঙ্গলবার দুইদিন হাট বসে। হাট ঘুরে দেখা যায়, বিক্রেতারা অনেকটা অলস সময় পার করছেন। কোনবানির পশুও তুলনামূলক কম। সারিবদ্ধভাবে রাখা কোরবানির পশুগুলোও শুয়ে বিশ্রাম নিচ্ছে। হাটে হাতে গোনা কয়েকটি বড় আকারের গরুর দেখা মেলে। বাকি সবই মাঝারি ও ছোট আকারের গরু।

এদিকে, ক্রেতাদের বেশিরভাগই আসছেন গরু দেখতে ও বাজার সম্পর্কে ধারণা নিতে। তবে ঈদের তিন-চারদিন আগে বেচাবিক্রি পুরোদমে জমে উঠবে বলে জানান বিক্রেতারা।

গরু ছাড়াও বৃহত্তর এই স্থায়ী পশুর হাটে মহিষ, ছাগল ও ভেড়া বিক্রি করতে এসেছেন অনেকে। এগুলোর দাম জানতে চাইলে বিক্রেতারা বলেন, দাম এখন চেয়ে কী লাভ। ক্রেতা তো নেই। বাজার বুঝে দাম নির্ধারণ করবো।

একজন ক্রেতা জানান, গত বছর যে গরুর দাম ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা ছিল এ বছর সেই গরু এক লাখের ওপরে তারা দাম হাঁকছেন। এভাবে গরুর আকার অনুযায়ী দামেও তফাৎ রয়েছে।

ঝিকরগাছার লাওজানি গ্রামের ব্যবসায়ী আলী আকবর বলেন, ঈদের এখনও পাঁচদিন বাকি। বাজারে ঘুরে ঘুরে দেখছি। ঈদের কয়েক দিন আগে পশু কেনার ইচ্ছা রয়েছে।

শার্শার লাউতাড়া সাকিব হাটে এনেছেন একটি বড় সাইজের কালু নামের গরু। চার বছর বয়সী এই গরুটির দাম চাইছেন ৫ লাখ বিশ হাজার টাকা। চার লাখ ৫০ হাজারের কমে বিক্রি করবেন না তিনি। একটি ষাঁড়সহ চারটি গরু এনেছেন শার্শার বাগআঁচড়ার ব্যাপারী রহমত উল্লাহ।

তার মধ্যে একটি গরু দেখিয়ে তিনি বলেন, এটি আজকের হাটের সবচেয়ে সুন্দর গরু। ১ লাখ ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি করবেন তিনি। দেড় লাখে বিক্রি করলে তার লোকসান হবে।

হাট প্রতিনিধি সাখাওয়াত হোসেন বলেন, হাটের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ক্রেতা ও বিক্রেতারা যাতে প্রতারিত না হন, সে জন্য মাইকে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, এবার হাট ইজারা দেওয়া হয়নি। জেলা প্রশাসন কর্তৃক সব ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!