নিজের চারটি ব্যাংক হিসাবে ১২ লাখ ১ হাজার ১১১ টাকা থাকলেও স্ত্রী নুরুন্নাহারের ১০টি ব্যাংক হিসাবে ৪ কোটি ৪ লাখ ৫৩ হাজার ৩৬৮ টাকা এবং মেয়ে জিনাত তালুকদারের চারটি ব্যাংক হিসাবে ১ কোটি ২৪ লাখ ৮২ হাজার ১৩৩ টাকাসহ সর্বমোট ৫ কোটি ৪১ লাখ ৩৬ হাজার ৬১২ টাকা জব্দ করা হয়। স্ত্রীর নামে রয়েছে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি ও মেয়ের নামে রয়েছে গাড়ি ও ফ্ল্যাট। এসব সম্পদ জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (৫ জুন) সাব-রেজিস্ট্রার নূরুল আমিন তালুকদার ও তার স্ত্রী এবং মেয়ে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকা এবং তাদের ব্যাংক হিসাবে অস্বাভাবিক বিপুল পরিমাণ অর্থ ও সম্পদ থাকায় তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি এবং ব্যাংক হিসাব জব্দের রায় দেন টাঙ্গাইলের সিনিয়র দায়রা জজ আদালতের মো. নাজিমুদ্দৌলা।
.png)
নূরুল আমিন তালুকদারের বাড়ি টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলা পৌর শহরের ঘাটান্দি এলাকায়। তিনি বর্তমানে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
জানা গেছে, নূরুল আমিন তালুকদারের দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে গত ২০২৩ সালের ২৩ জুলাই টাঙ্গাইল জেলা দায়রা জজ কোর্টে মামলা করেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদকের তথ্যমতে, নূরুল আমিন তালুকদারের ৪টি ব্যাংক হিসাবে ১২ লাখ ১ হাজার ১১১ টাকা, স্ত্রী নূরুন্নাহারের ১০টি ব্যাংক হিসাবে ৪ কোটি ৪ লাখ ৫৩ হাজার ৩৬৮ টাকা এবং মেয়ে জিনাত তালুকদারের ৪টি ব্যাংক হিসাবে ১ কোটি ২৪ লাখ ৮২ হাজার ১৩৩ টাকা, সর্বমোট ৫ কোটি ৪১ লাখ ৩৬ হাজার ৬১২ টাকা জব্দ করা হয়।

এছাড়াও নূরুল আমিন তালুকদারের স্ত্রী নূরুন্নাহার খানমের ৭৫ শতাংশ সম্পত্তি রয়েছে, যার মূল্য মূল্য ৩ কোটি ৫৭ লাখ ৭০ হাজার ৯৪০ টাকা এবং কন্যা জিনাত তালুকদারের নামে ২টি ফ্ল্যাট যার মূল্য ৭৭ লাখ এবং একটি প্রাইভেটকার (টয়োটা) গাড়ি ২৯ লাখসহ মোট ১ কোটি ৬ লাখ জব্দের নির্দেশ আদেশ দেন আদালত।
সাব-রেজিস্টার নূরুল আমিন তালুকদার বলেন, দুদকের অনুসন্ধানের কোনো অভিযোগের কপি বা আদালত কর্তৃক আমার স্ত্রী ও মেয়ের নামে স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তিসহ ব্যাংক হিসাব জব্দের বিষয়ে জানা নেই। তাছাড়া যদি কোনো অভিযোগ পেয়ে থাকেন তাহলে ঐসব মিথ্যা বলেও জানান তিনি।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ও অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা মো. নুর আলম জানান, এসবের বাইরে তার কোনো সম্পদ আছে কিনা তা জানতে চাওয়া হবে। অভিযুক্ত সাব-রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।