ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রতিকার মেলেনি এক মাসেও

শরীফা খাতুন শিউলী, খুলনা
প্রকাশিত: ০১:১৬, ৪ জুন ২০২৪
চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রতিকার মেলেনি এক মাসেও
ফাইল ফটো

সরকারি হাসপাতাল থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করায় চিকিৎসা না দেওয়ার অভিযোগের দীর্ঘ এক মাসেও প্রতিকার পাননি এক ভুক্তভোগী। অভিযোগের ২৬ দিনের মাথায় শনিবার (১ জুন) অভিযোগকারীকে ফোন দিয়ে সোমবার (৩ জুন) হাসপাতালে ডাকা হলেও দেড় ঘণ্টা ঘোরাঘুরি করেও তদন্ত কমিটির কাছে বক্তব্য দিতে না পেরে ফিরে গেছেন ভুক্তভোগী মিন্টু মাতুব্বর।

ঘটনাটি খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের। গত ৫ মে খুমেক হাসপাতালের পরিচালক বরাবর দেওয়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, খুলনা মহানগরীর হাফিজনগর এলাকার মিন্টু মাতুব্বর তার স্ত্রী মাহমুদাকে নিয়ে গত ২৮ মার্চ খুমেক হাসপাতালের বহির্বিভাগের ৩১০ নম্বর কক্ষে গিয়ে ডা. মো. আলাউদ্দিন শিকদারকে দেখান। তিনি ঐদিন দেখার পর কিছু ওষুধ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা লিখে দেন। পরীক্ষাগুলো বাইরের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে করাতে বলা হলেও তিনি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে করান।

পরে ২৫ এপ্রিল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চিকিৎসকের কাছে ৩১০ নম্বর কক্ষে গেলে সামনে থাকা আউটসোর্সিং কর্মচারী তাকে জানান, ‘এখন স্যার রিপোর্ট দেখবেন না, দেড়টার পরে আসুন’। এ সময় তিনি তার এক প্রতিবেশী সাংবাদিককে জানালে তার ফোনের পর রিপোর্ট দেখলেও কেন সরকারি হাসপাতাল থেকে পরীক্ষাগুলো করালেন এ জন্য কোনো চিকিৎসা না দিয়ে রিপোর্ট ছুড়ে ফেলেন। পরে তিনি লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর সোমবার সকালে তাকে হাসপাতালে ডাকা হয়। কিন্তু ডেকেও তার কোনো বক্তব্য না নেয়ায় তিনি হতাশ হয়ে ফিরে যান।

Advertisement

এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী মিন্টু মাতুব্বর বলেন, ‘আমার অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও এখনো কোনো প্রতিকার পাইনি। এ জন্য সোমবার আরো একটি লিখিত অভিযোগ পরিচালকের দফতরে জমা দিয়েছি।

অভিযোগপত্রউক্ত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, তিনি তার প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান থেকে দুই ঘণ্টার ছুটি নিয়ে তার স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে খুমেক হাসপাতালে হাজির হন। সেখানে রফিকুল ইসলাম নামের একজন অফিস সহায়ক তাকে বসিয়ে রাখার ঘণ্টাখানেক পর তাকে আরএমও ডা. সুহাস রঞ্জন হালদারের কাছে পাঠান। তিনি সেখানে গেলে তাকে না পেয়ে ফোন করলে তিনি মিটিংয়ে আছেন বলে জানান। একইসঙ্গে তিনি তাকে সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. সাইদুল হকের কাছে যেতে বলেন। তিনি সেখানে গেলে তাকে জানানো হয়, ডা. সাইদুল হক মিটিংয়ে আছেন। এরপর বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে তার মিটিং শেষ হলে তিনি তার কাছে তদন্তের বিষয়ে বললে তিনি আবারো আরএমও ডা. সুহাস রঞ্জন হালদারের কাছে যেতে বলেন। এ সময় আবার ডা. সুহাস রঞ্জন হালদারকে ফোন করা হলে তিনি মিটিংয়ে আছেন এবং তাকে ডা. সাইদুল হকের সঙ্গেই কথা বলতে বলেন। এভাবে উভয়ে তাকে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে ঘুরানোর পর তার ছুটির সময় শেষ হওয়ায় তিনি তার কর্মস্থলে চলে যান। এমতাবস্থায় আগের দেওয়া লিখিত অভিযোগের বক্তব্যই তার তদন্ত কমিটির কাছে বক্তব্য বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

তদন্ত কমিটির সদস্য ও খুমেক হাসপাতালের আরএমও ডা. সুহাস রঞ্জন হালদার বলেন, কমিটির প্রধান ডা. সাইদুল হক মঙ্গলবার হজে যাবেন। এ জন্য হজ থেকে ফেরার পর তদন্ত হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!