ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

চুয়াডাঙ্গায় সাংবাদিককে লাঞ্চিত, ভেঙে ফেলল মোবাইল

চুয়াডাঙ্গা প্র‌তি‌নি‌ধি
প্রকাশিত: ১৯:২৪, ৩ জুন ২০২৪
চুয়াডাঙ্গায় সাংবাদিককে লাঞ্চিত, ভেঙে ফেলল মোবাইল
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

পারিবারিক বিবাদের অভিযোগ মীমাংসা করতে গিয়ে উল্টো সাংবাদিককে লাঞ্চিতের অভিযোগ উঠেছে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের বিরুদ্ধে। এ সময় বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেল ডিবিসি টেলিভিশনের ক্যামেরাপার্সন শিমুল হোসেনকে মারধর করেছেন পুলিশ সদস্যরা। ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণে তাকে পিকআপভ্যানেও তোলা হয়। সেই সঙ্গে চলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ডিবিসির চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি কামরুজ্জামান সেলিমকেও হেনস্তা করেন পুলিশ সদস্যরা। এ সময় তার মোবাইল কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলা হয়। রোববার রাত ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, অভিযোগ পেয়ে সাতগাড়ি এলাকার একটি পারিবারিক বিবাদের মীমাংসায় যান চুয়াডাঙ্গা সদর থানার এএসআই নাসরিন আক্তারসহ সঙ্গীয় ফোর্স। এ সময় নিজ বাড়ির সামনে দাঁড়িয়েছিলেন ডিবিসি নিউজের ক্যামেরাপার্সন শিমুল হোসেন। পুলিশ সদস্যরা তার বাড়ির সামনে গিয়ে ওই অভিযুক্ত এক ব্যক্তির ব্যাপারে শিমুলের কাছে জানতে চান। শিমুল তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে হেনস্তা করেন কনস্টেবল শাহীন। তার কাছে টেলিভিশনের আইডি কার্ড দেখতে চান কনস্টেবল। একপর্যায়ে বিষয়টি সদর থানার ওসি শেখ সেকেন্দার আলীকে জানানো হলে আরো ক্ষুব্ধ হন ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ সদস্যরা। সেইসঙ্গে যোগ দেন সদর থানার এসআই মামুন। এসআই মামুন ও এএসআই নাসরিনের নির্দেশে চিত্র সাংবাদিক শিমুলকে পিকআপভ্যানে তোলা হয়। খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছায় ডিবিসি নিউজের প্রতিনিধি কামরুজ্জামান সেলিম। এ সময় তিনি পিকআপভ্যানের ছবি তুলতে গেলে তার মোবাইল কেড়ে নেন এসআই মামুন। ভেঙে ফেলা হয় সাংবাদিকের ব্যবহৃত ফোনটি। পরে বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করলে ওই চিত্র সাংবাদিককে পিকআপ ভ্যান থেকে নামিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন পুলিশ সদস্যরা।

Advertisement

চিত্র সাংবাদিক শিমুলের অভিযোগ, শুরু থেকেই তুই-তোকারি করে মারমুখী আচরণ করেন পুলিশ সদস্যরা। সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে আরো ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। গালিগালাজের সঙ্গে পিকআপভ্যানে তুলে থানায় নিয়ে দেখে নেয়ার হুমকিও দেন তারা। স্থানীয় লোকজনও এর প্রতিবাদ করেন।
 
ডিবিসি নিউজের প্রতিনিধি কামরুজ্জামান সেলিম বলেন, প্রথমে পুলিশ সদস্যদের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের কথা থানার ওসিকে জানানো হলে আরো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন পুলিশ সদস্যরা। আমি ঘটনাস্থলে পৌঁছালে আমাকেও হেনস্তা করা হয়। কেড়ে নেয় ব্যবহৃত মোবাইল।

এ ব্যাপারে চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার আর এম ফয়জুর রহমানের সঙ্গে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোনে কোনো সাড়া দেননি।

পরে যোগাযোগ করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) নাজিম উদ্দীন আল আজাদের সঙ্গে। তিনি জানান, বিষয়টি দুঃখজনক। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ জন্য সাংবাদিকদের কাছে সময়ও চান তিনি।

এদিকে, এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক নেতারা। এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট মানিক আকবর, দৈনিক পশ্চিমাঞ্চলের প্রকাশক আজাদ মালিতা, দৈনিক মাথাভাঙ্গার সম্পাদক সরদার আল আমিন, দৈনিক সময়ের সমীকরণের প্রধান সম্পাদক নাজমুল হক স্বপন, দৈনিক আকাশ খবরের সম্পাদক জান্নাতুল আওলিয়া নিশিসহ অন্যান্য সাংবাদিকরা। এর উপযুক্ত শাস্তি না হলে মানববন্ধন ও বিক্ষোভের ঘোষণাও দেন তারা।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!