শনিবার (২৫ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার লাহুড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন- নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান গ্রুপের লাহুড়িয়া (তালুকপাড়া) গ্রামের গিয়াস উদ্দীন মোল্যা এবং সাবেক চেয়ারম্যান গ্রুপের ওই গ্রামের ডহপাড়ার তরিকুল মোল্যা।
জানা গেছে, গত ২১ মে শেষ হওয়া ৬ষ্ঠ উপজেলা নির্বাচনে লোহাগড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এ কে এম ফয়জুল হক রোম আনারস প্রতীক নিয়ে বেসরকারি ফলাফলে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এস এম এ হান্নান (রুনু) হেলিকপ্টার প্রতীক নিয়ে পরাজিত হন। নির্বাচনে ফলাফল ঘোষণার পর থেকে দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
.png)
২৫ মে রাত ৮টার দিকে পরাজিত প্রার্থী সিকদার আব্দুল হান্নান রুনুর সমর্থক লাহুড়িয়া ডহরপাড়ার তরিকুল মোল্যাকে বাড়ি ফেরার পথে বিজয়ী প্রার্থীর সমর্থক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান দাউদ হোসেনের লোকজন মারধর করে। বর্তমানে তরিকুল মাগুরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এ ঘটনার জেরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে রুন সিকদারের লোকজন প্রতিপক্ষ দাউদ গ্রুপের সমর্থক গিয়াস উদ্দিনের ওপর হামলা চালিয়ে গুরুতর জখম করে। গুরুতর জখম অবস্থায় তাকে নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
এদিকে গিয়াস উদ্দিনের ওপর হামলার ঘটনায় দাউদ হোসেন গ্রুপের দুই শতাধিক লোকজন লাঠিসোঠা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষ পরাজিত প্রার্থী আব্দুল হান্নান রুনু সিকদারের সমর্থকদের ওপর হামলা শুরু করে। হামলাকারীরা রুনু সিকদারের সমর্থক লাহুড়িয়া ডহরপাড়ার রবিউল মোল্যা, টুকু মেম্বর, আবুল শেখ, আহাদ শেখ, ইউনুস শেখ, ওবায়দুর শেখ, নাজমুল শেখ, আশিক শেখ, আরব মোল্যা, পাখি মওলা, তরিকুল মোল্যা , আহম শেখ, হিরু মোল্যা, সরোয়ার মোল্যা, কাশেম মোল্যা, তালুকপাড়ার শিহাব মোল্যা, ছায়ফার মোল্যা, দিদার কাজী ও তরিকুল কাজীর বাড়িঘর ভাঙচুর করে।
সিকদার আব্দুল হান্নান রুনুর ছেলে বর্তমান লাহুড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান কামরান সিকদার জানান, তাদের পক্ষের অন্তত ২০টি পরিবারের বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে। এ সময় তরিকুল মোল্যার ৭ বছর বয়সী মেয়েকে মারধর করে গুরুতর জখম করা হয়েছে। তরিকুলদের বাড়ি থেকে তিনটি গরু লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
সাবেক চেয়ারম্যান মো. দাউদ হোসেন জানান, প্রতিপক্ষ রুনু সিকদারের সমর্থকরা একত্রিত হয়ে তাদের পক্ষের লাহুড়িয়া পশ্চিমপাড়ার কালাম শেখ, মিজানুর রহমান ওরফে হামছিয়ার, ইখতিয়ার ও আলী মিয়াসহ অন্তত ১০টি বাড়িঘর ভাঙচুর করেছে।
লাহুড়িয়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. সেলিম উদ্দীন জানান, ঘটনার পর পুলিশ সুপারের নির্দেশে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের ধরতে কাজ করছে পুলিশ।