ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

কিশোরগঞ্জে চালকবিহীন হেলিকপ্টারের আবিষ্কারক বিজ্ঞানী ড. হুমায়ুন

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৪:৫৪, ২৪ মে ২০২৪
কিশোরগঞ্জে চালকবিহীন হেলিকপ্টারের আবিষ্কারক বিজ্ঞানী ড. হুমায়ুন
চালকবিহীন হেলিকপ্টারের আবিষ্কারক বিজ্ঞানী ড. হুমায়ুন কবির

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানিতে ঊর্ধ্বতন বিজ্ঞানী হিসেবে কর্মরত এবং পৃথিবীর বিখ্যাত চালকবিহীন হেলিকপ্টার ও বিমানের আবিষ্কারক বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. হুমায়ুন কবির। দীর্ঘ ২০ বছর পর জন্মভূমি কিশোরগঞ্জে আসলেন তিনি।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় তাকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি উপজেলার চন্ডিপাশা ইউনিয়নের বড় আজলদী গ্রামে অবতরণ করে। এ সময় তাকে স্বাগত জানান পাকুন্দিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম রেনু, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সৈনিক আব্দুল মান্নানসহ হাজারো মানুষ।

এর আগে, বুধবার (২২ মে) স্ত্রী ফরিদা কবিরসহ বাংলাদেশে আসেন তিনি। তিনি ৩১ মে পর্যন্ত কিশোরগঞ্জ জেলা সার্কিট হাউজে থাকবেন। 

Advertisement

বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. হুমায়ুন কবিরকে ঢাকা বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানান প্রবাসীর হেলিকপ্টারের অপারেশন ম্যানেজার রিয়াজুল ইসলাম।বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. হুমায়ুন কবিরের বাবার বাড়ি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের নাগেরগ্রামে হলেও শৈশব ও কৈশোর কেটেছে জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলা চন্ডিপাশা ইউনিয়নের বড় আজলদী গ্রামের নানার বাড়িতে। কারণ সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় তার বাবা-মায়ের মধ্যে বিচ্ছেদ হওয়ায় বাড়ি ছাড়তে হয়েছিল তাকেও।

বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. হুমায়ুন কবির কর্মরত রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় অগাস্টা এরোস্পেস করপোরেশনে প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে। তিনি বিশ্বের প্রথম রিমোট কন্ট্রোল হেলিকপ্টারের উদ্ভাবক। তিনি ১৯৮৬ সালে রিমোট নিয়ন্ত্রিত এইচ-৫ হায়েন্স হেলিকপ্টার আবিষ্কার করেন। ফিলাডেলফিয়ায় অগাস্টা এরোস্পেস করপোরেশনে প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রতিরক্ষা প্রকল্পে নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছেন।

চালকবিহীন হেলিকপ্টারের আবিষ্কারক বিজ্ঞানী ড. হুমায়ুন কবির ও তার স্ত্রী

বিজ্ঞানী ড. হুমায়ুন কবির ১৯৫৬ সালে ময়মনসিংহ জেলার মধ্যে রেসিডেন্সিয়াল স্কলারশিপে প্রথম হন। বিভিন্ন বাড়ি লজিং থেকে ১৯৭০ সালে তিনি কৃতিত্বের সঙ্গে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

ঢাকা কলেজ থেকে ১৯৭২ সালে উচ্চ মাধ্যমিকেও কৃতিত্বপূর্ণ রেজাল্ট করেন। পরে আইএ পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফলিত পদার্থ বিদ্যা বিভাগে ভর্তি হন। গণিত শাস্ত্র ও গবেষণার প্রতি তার আকর্ষণ ছিল বেশি। তাই ১৯৭৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স শেষ না করেই তিনি পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। এরোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএস করার জন্য ভর্তি হন ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সাস অ্যাট আর্লিংটনে। এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ড. হুমায়ুন কবীর অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং- এ স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। হুমায়ুন কবির ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন অস্টিনের টেক্সাস ইউনিভার্সিটি থেকে। তার গবেষণার বিষয় ছিল মহাশূন্যযান ও রকেট বিজ্ঞান।

প্রসঙ্গত, ২০০৪ সালের ৫ মার্চ জন্মস্থান কটিয়াদীর বনগ্রাম ইউনিয়নের নাগেরগ্রামে এসেছিলেন তিনি। তখন তাকে নাগরিক গণসংবর্ধনা দেওয়া হয়েছিল।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!