ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

সড়কে ধান মাড়াই, আতঙ্ক নিয়ে চলছে যানবাহনের চালক-যাত্রী

কামরুজ্জামান মিন্টু, ময়মনসিংহ
প্রকাশিত: ০২:০৭, ২১ মে ২০২৪
সড়কে ধান মাড়াই, আতঙ্ক নিয়ে চলছে যানবাহনের চালক-যাত্রী
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

সড়কের পাশেই শ্যালোচালিত ইঞ্জিন দিয়ে মাড়াই করা হচ্ছে ধান। মাড়াই শেষে সড়কে ধান শুকানো হচ্ছে। তবে, অনেকে ধান বাড়ি নিয়ে গেলেও খড় সড়কের ওপরই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রেখেছেন শুকানোর কাজে। শুকানো শেষ হলে সড়কের পাশেই খড় স্তুপ করে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ঝুঁকি নিয়েই চলছে ছোট-বড় বিভিন্ন যানবাহন।

এটি ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার বিভিন্ন সড়কের চিত্র। সড়ক দখল প্রতিদিন বোরো ধান মাড়াই ও খড় শুকানোর কাজ করায় ভোগান্তিতে পড়ছেন বিভিন্ন যানবাহনের চালক ও পথচারীরা। এছাড়া মাঝেমধ্যেই ঘটছে দুর্ঘটনা।

ফুলবাড়িয়া-শিবগঞ্জ সড়ক দিয়ে যাত্রী নিয়ে চলাচল করার সময় কথা হয় সামসুল আলম নামে এক অটোরিকশাচালকের সঙ্গে। তিনি বলেন, উপজেলার প্রায় প্রত্যেকটি সড়ক দখল করে ধান মাড়াই ও খড় শুকানো হচ্ছে। দেখে মনে হবে বাড়ির উঠান। বৃষ্টি হলে ঐ খড় সড়কে কর্দমাক্ত হওয়ার পরে সেগুলো সরানো হয় না। ধীরে ধীরে এগুলো পচে সড়ক পিচ্ছিল হয়ে থাকে। এতে আতঙ্ক নিয়ে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। 

Advertisement

পিকআপ চালক জাহাঙ্গীর মিয়া বলেন, এ উপজেলায় প্রচুর কৃষিপণ্য উৎপাদিত হয়। প্রতিদিন বিভিন্ন পণ্য গাড়িতে করে এক এলাকা থেকে আরেক এলাকায় আনা-নেয়া করি। সম্প্রতি দ্রুত গতিতে যাওয়ার সময় পচা খড়ে চাকা পিছলিয়ে সড়কের পাশে গাড়ি উল্টো যায়। এতে আমিসহ সহকারী কিছুটা আঘাত পেলেও প্রাণে রক্ষা পেয়েছি। তখন গাড়িতে থাকা সব লেবু সড়কের পাশে পড়ে গিয়েছিল। এগুলো আবার গাড়িতে তুলতে সময় গেলেছিল তিন ঘণ্টা।

সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক ওয়াহেদ মিয়া বলেন, সড়কে ধান মাড়াই করার কারণে সবসময় ধীর গতিতে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। নির্দিষ্ট সময়েও গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। ফলে মালিককে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দেওয়ার পর নিজের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশউপজেলার পুটিজানা ইউনিয়নের পানজানা গ্রামের কৃষক নাজিম উদ্দিন বলেন, আমি ৭ একর জমিতে ধান আবাদ করেছি৷ অনেক ধানসহ খড় বাড়ির উঠানে শুকানো সম্ভব না। এজন্য সড়কে ধান মাড়াইসহ খড় শুকাতে হচ্ছে।

একই গ্রামের গৃহিণী বেলী খাতুন বলেন, আশপাশে ধান-খড় শোকানোর মতো কোনো মাঠ নেই। কয়েক বছর আগে বাড়ির উঠান বড় থাকলেও ভাগাভাগির কারণে উঠান ছোট হয়ে গেছে। সড়কেই আসতে হয়েছে।

এভাবে সড়কে ধান মাড়াই করার ফলে যানবাহনের যাত্রী, চালকসহ পথচারীদের সমস্যা হচ্ছে জানালে তিনি বলেন, জানি সড়ক দিয়ে চলাচলকারী সবারই কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। খুব দ্রুতই ধান-খড় সড়ক থেকে সরিয়ে বাড়িতে নেয়া হবে।

এ বিষয়ে ফুলবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাবেরী জালাল বলেন, সড়ক দখল করে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বেআইনি। জনস্বার্থে সড়কে ধান মাড়াই বন্ধ করা হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!