ঢাকা,  শনিবার   ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

কারাবন্দি শীর্ষ জেএমবি নেতা মন্তেজারের মৃত্যু

জয়পুরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২১:২৯, ১৫ মে ২০২৪
কারাবন্দি শীর্ষ জেএমবি নেতা মন্তেজারের মৃত্যু
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

জয়পুরহাটের ক্ষেতলালের উত্তর মহেশপুর গ্রামের কারাবন্দি জেএমবির শীর্ষ নেতা শায়খ আব্দুর রহমান ও বাংলা ভাইয়ের অন্যতম সহযোগী মন্তেজার রহমান মারা গেছেন।

মঙ্গলবার বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বুধবার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরে স্থানীয়রা তার জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়।

সকালে জয়পুরহাটের জেল সুপার রীতেশ চাকমা জানান, জেএমবি নেতা মন্তেজার রহমান ২০০৭ সাল থেকে জয়পুরহাট জেলা কারাগারে বন্দি ছিলেন। তিনি নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জমিয়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) আঞ্চলিক নেতা ছিলেন।

জেলা কারাগার সূত্রে জানা যায়, মন্তেজার রহমান কারাবন্দি অবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে হার্ট, কিডনির সমস্যাসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছিলেন। গত সোমবার তিনি কারাগারে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে দ্রুত ২৫০ শয্যার জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। কারা কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছিল। 

পুলিশ ও আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০০৩ সালের ১৪ আগস্ট রাতে ক্ষেতলালের উত্তর মহেশপুর গ্রামে জেএমবি নেতা মন্তেজারের বাড়িতে জেএমবির শীর্ষ নেতারা গোপনে বৈঠক করছিলেন। খবর পেয়ে রাতেই বাড়িটি ঘেরাও করে জয়পুরহাট সদর থানা পুলিশ। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জেএমবির সদস্যরা হামলা চালালে সদর থানার তৎকালীন ওসিসহ ছয় পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হন। এ সময় পুলিশের ৩টি শটগান, ৪৫টি গুলি ও ১টি ওয়াকিটকি খোয়া যায়। পরে ওইদিন রাতেই অভিযান চালিয়ে ১৯ জঙ্গিকে আটক করে পুলিশ।

ওই ঘটনায় ৩৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৭০ জনকে আসামি করে মামলা করে পুলিশ। এজাহারে অস্ত্র লুট, পুলিশ সদস্যদের হত্যার উদ্দেশ্যে জখম ও মারধরের অভিযোগ আনা হয়। এ ঘটনায় গ্রেফতার ১৩ আসামি ২০০৪ সালের বিভিন্ন সময়ে আদালত থেকে জামিন পান। এরপর থেকেই তারা পলাতক ছিলেন। তবে ২০০৭ সাল থেকে মন্তেজার রহমান কারাগারে বন্দি ছিলেন।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) দিনাজপুর অঞ্চলের পরিদর্শক জালাল উদ্দীন মামলাটি তদন্ত করে ২০০৮ সালের ৩০ জানুয়ারি ৬০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। কিন্তু হামলার সময় আসামি মন্তেজারের বাড়ির পাশে অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার হলেও বিস্ফোরক আইনে কোনো মামলা করেনি পুলিশ। এ জন্য ২০০৯ সালের ১২ জুলাই রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নৃপেন্দ্রনাথ মণ্ডল মামলাটি পুনরায় তদন্তের জন্য আদালতে আবেদন করেন। আদালত আবেদনটি আমলে নিয়ে অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে সিআইডিকে আবার তদন্তের আদেশ দেন।

সিআইডির দিনাজপুর জেলার সহকারী পুলিশ সুপার শেখ আহসান-উল কবীর অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়টি পুনরায় তদন্ত করে ২০১০ সালের ২৫ মে ৬০ জনের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে আদালতে পৃথক অভিযোগপত্র দেন। দুটি মামলার অভিযোগ গঠন ও বিচারকাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন জয়পুরহাট আদালতের পুলিশ পরিদর্শক আবু বকর সিদ্দিক।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
Durga Puja
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!