ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

ছেলে ফেরায় মায়ের ‘ঈদের আনন্দ’, রান্না করেছেন পছন্দের খাবার

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৭:৫৯, ১৪ মে ২০২৪
ছেলে ফেরায় মায়ের ‘ঈদের আনন্দ’, রান্না করেছেন পছন্দের খাবার
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

আনন্দে উচ্ছ্বসিত জোছনা বেগম। কারণ দীর্ঘ দুইমাস পর এক যুদ্ধ জয় করে ফিরছেন আদরের সন্তান। ফলে তার চোখে-মুখে আজ ঈদের আনন্দ। রান্নাও করেছেন ছেলের পছন্দের খাবার।

মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে ছেলে এমভি আবদুল্লাহ জাহাজের ফোর্থ ইঞ্জিনিয়ার তানভীর আহমদের অপেক্ষায় থাকতে দেখা যায় মা জোছনা বেগমকে। নগরের আগ্রাবাদ সিডিএ ১০ নম্বর থেকে ছেলেকে নিতে আসেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন তানভীরের স্ত্রীও।

জোছনা বেগম বলেন, তারা যখন সোমালিয়ার জলদস্যুর কবলে পড়েছিল তখন আতঙ্কে ছিলাম। কষ্টে ছিলাম। কখন কী খবর আসে। এখন ঈদের চেয়ে বেশি আনন্দ। অপেক্ষা করছি কখন ছেলের মা ডাক শুনবো।

Advertisement

তিনি বলেন, প্রথম দিন যখন জলদস্যুর কবলে পড়ার খবরে দেখলাম, তখন বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়েছিল। ঈদটা গেছে মৃত্যুপুরিতে। দুঃসময়ে যাদের সঙ্গে পরিচিত ছিল না তারাও দোয়া করেছেন। দেশবাসীর দোয়ায় তারা মুক্ত হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আজ ছেলের পছন্দের সব খাবার রান্না করেছি। এর মধ্যে আছে গরুর মাংস, মুরগি, কই মাছ, শিমের বিচি।

মঙ্গলবার বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে এমভি আবদুল্লাহর ২৩ নাবিককে নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি কনটেইনার টার্মিনালে নোঙর করে লাইটারেজ জাহাজ এমভি জাহান মণি-৩। তিনটি টাগবোটের সহায়তায় জাহাজটি এনসিটি-১ জেটিতে ভেড়ানো হয়। এরপর জেটির সঙ্গে যুক্ত করা হয় ভ্রাম্যমাণ সিঁড়ি। সোয়া ৪টার দিকে জাহাজ থেকে একে একে নামেন নাবিকরা। এ সময় তাদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয়।

এর আগে, বেলা ১২টার দিকে নতুন নাবিকদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর শেষে জাহাজটিতে কুতুবদিয়া থেকে চট্টগ্রাম বন্দর জেটির উদ্দেশ্যে রওনা হন তারা।

সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে কুতুবদিয়ায় বঙ্গোপসাগরে নোঙর করে এমভি আবদুল্লাহ। একইদিন লাইটারেজ জাহাজ এমভি জাহান মণি-৩ নতুন ২৩ নাবিক দল নিয়ে কুতুবদিয়ার উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম ছাড়ে।

মোজাম্বিক থেকে ৫৫ হাজার টন কয়লা নিয়ে দুবাই যাওয়ার পথে গত ১২ মার্চ ভারত মহাসাগর থেকে ২৩ নাবিকসহ এমভি আবদুল্লাহ জিম্মি করে সোমালিয়ার জলদস্যুরা। এরপর তারা জাহাজটি সোমালিয়া উপকূলে নিয়ে যায়। ৩১ দিন জিম্মি থাকার পর ১৪ এপ্রিল ভোররাতে জাহাজটি জলদস্যু মুক্ত হয়। এ সময় ৬৫ জন জলদস্যু জাহাজ থেকে বোটে নেমে যায়। 

মুক্তির পর জাহাজটি দুবাইয়ের উদ্দেশে রওনা দেয়। ২১ এপ্রিল বিকেল সাড়ে ৪টা নাগাদ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই আল হারমিয়া বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছে জাহাজটি। জাহাজটিতে থাকা ৫৫ হাজার মেট্রিক টন কয়লা সেখানে খালাস করা হয়। পরবর্তীতে আমিরাতের মিনা সাকার বন্দর থেকে ৫৬ হাজার মেট্রিক টন চুনা পাথর লোড করা হয়। এসব পণ্য নিয়ে দেশের পথে রওনা দেয় এমভি আবদুল্লাহ।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!