ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

গরমকে টার্গেট করে সিন্ডিকেট, ডাবের দাম দ্বিগুণ

কামরুজ্জামান মিন্টু, ময়মনসিংহ
প্রকাশিত: ১৯:০২, ২৯ এপ্রিল ২০২৪
গরমকে টার্গেট করে সিন্ডিকেট, ডাবের দাম দ্বিগুণ
প্রচণ্ড গরমে ডাবের চাহিদা বেড়েছে কয়েকগুণ। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

সারাদেশের মতো ময়মনসিংহেও গত কয়েকদিনের তাপপ্রবাহে অতিষ্ঠ জনজীবন। একেকজন একেকভাবে শরীরকে ঠান্ডা রাখতে চেষ্টা করছেন। তবে যারা জীবিকার তাগিদে কিংবা কোনো কাজে যারা সড়কে বের হচ্ছেন, তাদের অনেকেই তৃষ্ণা মেটাচ্ছেন ডাবের পানিতে। প্রচণ্ড এই গরমে ডাবের চাহিদা কয়েকগুণ বেড়েছে। ফলে বিক্রেতারাও দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। এতে ক্রেতারা ঠকলেও পকেট ভারী হচ্ছে বিক্রেতাদের।

নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সারাবছরই ডাব বিক্রি করতে দেখা যায়। বিক্রেতাদের কেউ কেউ ভ্যানগাড়িতে করে বিক্রি করেন। আবার কেউ কেউ নির্দিষ্ট জায়গায় বসে বিক্রি করেন। সারাবছর যেই দামে বিক্রি করেন এবার গরমকে টার্গেট করে দ্বিগুণ দাম বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। দাম বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে গেছে ডাব।

প্রচণ্ড গরমে ডাবের চাহিদা বেড়েছে কয়েকগুণ।চরপাড়া এলাকায় ডাব বিক্রি করেন মাঈনুল মিয়া। তিনি ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, সারাবছর ৫০-৬০ টাকায় ডাব বিক্রি করি। তবে এই গরমে ডাবের চাহিদা কয়েকগুণ বেড়েছে। গ্রাম থেকে শত শত ডাব পাইকারি দরে কিনে আনার পর পরই শহরে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। সব ডাব বিক্রেতা দাম বাড়ানোয়, আমিও ১২০ টাকা পিস হিসেবে বিক্রি করছি।

Advertisement

আশরাফুল আলম নামের ডাবের একজন ক্রেতা বলেন, আমি স্বচ্ছল পরিবারের সন্তান। আমার নিজেরও একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ফলে আমাদের মতো মানুষের ডাব কিনতে কষ্ট না হলেও নিম্ন মধ্যবিত্ত মানুষের কষ্ট হচ্ছে। মূলত ডাব ব্যবসায়ীরা গরমকে টার্গেট করে সিণ্ডিকেট করে দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।

প্রচণ্ড গরমে ডাবের চাহিদা বেড়েছে কয়েকগুণ।মধ্যবয়সী অটোরিকশাচালক ওয়াহেদ মিয়া বলেন, সারাদিনে ১০০০-১২০০ টাকা রোজগার করি। এরমধ্যে ৬০০ টাকা মালিককে আমদানি দিতে হয়। বাকি টাকা দিয়ে ৫ সদস্যের পরিবারের ভরণপোষণ করতে হিমসিম খেতে হয়। গরমের মধ্যে গাড়ি চালিয়ে শরীর থেকে ফোঁটা ফোঁটা ঘাম ঝরতে থাকে। মন চায় ডাবের পানি খেয়ে তৃষ্ণা মেটাই। কিন্তু দাম বেশি হওয়ার কারণে ডাব কেনা সম্ভব হয় না।

সামাজিক সংগঠন জনউদ্যোগের আহ্বায়ক অ্যাডডভোকেট নজরুল ইসলাম চুন্নু বলেন, অসাধু ডাব ব্যবসায়ীরা প্রতিবছর গরমকে টার্গেট করে। এবারো গরম শুরু হওয়ার পর থেকেই দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। এসব ব্যবসায়ীরা কত টাকায় ডাব কিনে কত টাকা লাভ করছে তা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। অতিরিক্ত পরিমাণ লাভ করে বিক্রি করলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। তাহলেই সব শ্রেণী-পেশার লোকজনের কাছে ডাবের দাম সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে।

নারকেল গাছ।কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর ময়মনসিংহের উপপরিচালক ড. নাছরিন আক্তার বানু বলেন, জেলায় ৪৭৫ হেক্টর জমিতে নারিকেল গাছ রয়েছে। এতে উৎপাদন হয়েছে ৫ হাজার ৪১৫ মেট্রিক টন। এই ডাব জেলার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও আশপাশের জেলাতেও বিক্রি করেন ব্যবসায়ীরা। মূলত তাপপ্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় বিক্রেতারা ইচ্ছে করেই দাম বাড়িয়ে তাদের পকেট ভারী করছে।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের ময়মনসিংহের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুস সালাম বলেন, ডাবের দাম অতিরিক্ত বাড়ানো হচ্ছে কিনা তদারকি করা হবে। অতিরিক্ত দাম নিয়ে ক্রেতাদের ঠকানোর প্রমাণ মিললে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
ট্যাগ: ময়মনসিংহ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!