ঢাকা,  শুক্রবার   ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

সাইকেলকে রেসিং বাইক ডুকাটিতে রূপ দিলেন রানা

কামরুজ্জামান মিন্টু, ময়মনসিংহ
প্রকাশিত: ১৬:৪৩, ২১ এপ্রিল ২০২৪
সাইকেলকে রেসিং বাইক ডুকাটিতে রূপ দিলেন রানা
যুবক সোহেল রানা -ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

নিজের সাইকেলকে মোটরসাইকেলের আদলে তৈরি করে রীতিমতো হইচই ফেলে আলোচনায় এসেছেন যুবক সোহেল রানা। মাত্র ৩০ হাজার টাকা খরচ করে সাইকেলে ব্যাটারিসংযোগ দিয়ে বিশ্বের অন্যতম সেরা রেসিং বাইক ডুকাটির আদলে তিনি তৈরি করেছেন মোটরসাইকেলটি। নতুন এই মোটরসাইকেলে প্রায় ৭০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে তার বিদ্যুৎ খরচ হয় মাত্র ১০ টাকা।

সোহেল রানা ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার পিঠাসূতা গ্রামের মৃত দুলাল মিয়ার ছেলে। সদ্য অনার্স শেষ করা সোহেল রানার বাইক কেনার আগ্রহ থেকেই সাইকেলকে মোটরসাইকেলের আদলে রূপ দেওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেন তিনি।

জানা যায়, সাইকেলে মোটরসাইকেলের আকৃতি আনতে ব্যবহার করা হয় বিভিন্ন উপকরণ। প্রতিদিন একটু একটু করে দেড় মাস পরিশ্রমের পর সাইকেলটি দেখতে মোটরসাইকেলের আকৃতি পায়। সাইকেল থেকে মোটরসাইকেলের অবয়ব তৈরি করতে প্রথমেই লাগানো হয়েছে ইলেকট্রিক বাইকের ব্যাটারি। পরে বিভিন্ন তার ও রড দিয়ে এবং বামির্জ (প্লাস্টিক জাতীয়) দিয়ে ডুকাটি বাইকের বডি তৈরি করা হয়।

সোহেল রানা জানান, ছোটবেলা থেকেই ফেলে দেওয়া নানা জিনিস থেকে বানিয়ে ফেলতেন বিভিন্ন খেলনা ও উপকরণ। নিজের তৈরি করা খেলনা দিয়েই খেলতেন তিনি। তার দিয়ে রোবট, ল্যাম্বারগিনি গাড়ির আদলে গাড়ি, নৌকা, বিভিন্ন প্রতিকৃতি তৈরি করেছেন অনেকদিন ধরে। যার সব কিছুই শখের বসে। তবে দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল মোটরবাইক কেনার। কিন্তু পরিবারের অভাব অনটনের কারণে বাইক কেনার ইচ্ছা থাকলেও সাধ্য না থাকায় সাইকেলকে মোটরসাইকেলে রূপ দেওয়ার আগ্রহ জাগে তার। ব্যক্তিগত কাজের পাশাপাশি প্রতিদিন একটু একটু করে প্রতিবেশী মাহফুজুল ইসলাম ইকবাল নামের এক যুবকের সহযোগিতায় মোটরসাইকেলের আদলে সাইকেল তৈরি করেন তিনি। বাইক কেনার সামর্থ না থাকলেও মাত্র ৩০ হাজার টাকায় নিজের সাইকেলকে বাইকের আদলে তৈরি করতে পেরে খুশি তিনি। এখন এই মোটরসাইকেল দিয়েই বাড়ি থেকে বিভিন্ন কাজকর্মে যাচ্ছেন।

যুবক সোহেল রানা -ছবি: ডেইলি বাংলাদেশরানার মা সায়েদা খাতুন বলেন, ছোটবেলা থেকেই উদ্ভাবনী শক্তি প্রকট ছিল রানার। ফেলে দেওয়া নানা জিনিস থেকে বানিয়ে ফেলতেন বিভিন্ন খেলনা ও উপকরণ। আমার ছেলে সাইকেলকে বাইক বানিয়েছে। মানুষ দেখতে আসছে, খুব ভালো লাগছে।

বড় ভাই হুমায়ুন কবীর বলেন, অন্যতম দ্রুতগতির রেসিং বাইক ডুকাটির আদলে তৈরি করা বিদ্যুতচালিত এই বাইকটি দেখতে আশপাশের গ্রাম থেকে প্রতিদিন মানুষ সোহেল রানার বাড়িতে ভিড় করছেন। এতে নিজের কাছ খুব খুশি লাগছে। আমার ভাই আর্থিকভাবে যদি কোনো সাহায্য পায়, তাহলে বড় করে আরো আধুনিক ও দীর্ঘস্থায়ী প্রযুক্তি ব্যবহার করা সম্ভব।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য রুহুল আমিন বলেন, রানা তার সাইকেলটিকে এমন রূপ দিয়ে চারদিকে রীতিমতো হইচই ফেলে দিয়েছেন। অনেক ধরনের প্রতিভা গ্রামে লুকিয়ে থাকে। সোহেল রানার প্রতিভা দেখে অন্যরাও অনুপ্রাণিত হতে পারে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
Durga Puja
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!