নাবিকদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অন্যবারের ঈদগুলো খুশির থাকলেও এবার ঈদ তাদের কাছে নীরব কান্নার। একইসঙ্গে বয়ে বেড়াচ্ছে শঙ্কা ও প্রতীক্ষা। পরিবারের উপার্জনশীল প্রিয় ব্যক্তিদের বন্দিদশায় মহাসাগরে তলিয়ে যায় তাদের ঈদ আনন্দ। এমভি আব্দুল্লাহ জাহাজে জিম্মিদশা থেকে মুক্ত হওয়ার খবরে বিপ্লবের পরিবার ও স্বজনদের মুখে হাসি ফুটেছে।
ইব্রাহিম খলিল উল্লাহ বিপ্লবের বাড়ি ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার মাতুভূঞা ইউনিয়নের মোমারিজপুর গ্রামে। পরিবার ফেনী শহরে নাজির রোডে বাসাভাড়া করে থাকেন। বর্তমানে তার সহধর্মিণী উম্মে সালমা তার শ্বশুরবাড়ি ফেনী সদর উপজেলা ধর্মপুর ইউনিয়নের মজলিসপুর গ্রামে আছেন।
.png)
সেখানে গিয়ে দেখা গেছে, সবার মাঝে যে উৎকণ্ঠা ছিল তা কেটে গেছে। এখন তারা বিপ্লবের ফেরার অপেক্ষায় আছেন। আবুল হোসেনের ভূইয়ার ৪ ছেলে, ২ মেয়ের মধো বিপ্লব সবার বড়। পরিবারের একমাত্র কর্মক্ষম ব্যক্তি। ৮ বছর আগে জাহাজের চাকরিতে যান ইব্রাহিম। গত ৪ মাস আগে বাড়িতে এসে একমাস অবস্থান করে আবারো জাহাজে চলে যান। ইব্রাহিম ঐ জাহাজে ইলেকট্রিশিয়ান পদে কর্মরত আছেন। বিপ্লব ফেনী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে পড়াশোনা করেছিলেন। তার দুই ছেলে রয়েছে রেদওয়ান বিন ইব্রাহিম ও রিহান বিন ইব্রাহিম।
বড় ছেলে রেদোয়ান বিন ইব্রাহীম জানান, তার সঙ্গে সর্বশেষ কথায় দুষ্টামি না করে মায়ের কথামত চলতে বলেছে। বাড়িতে আসার সময় তার জন্য কিছু জিনিস নিয়ে আসবে বলেছে তার বাবা।
স্ত্রীর খালাতো ভাই নজরুল ইসলাম বলেন, ‘মেরিন সোসাইটি, বাংলাদেশ সরকার ও জাহাজ কর্তৃপক্ষের যৌথ তৎপরতায় জাহাজের নাবিকদের জিম্মিদশা থেকে মুক্তির খবর আমরা পেয়েছি। এখন তাদের দ্রুত ফিরিয়ে আনার প্রত্যাশা করছি।’
মা রৌশনারা বলেন, ‘আমরা খুবই কষ্টে দিন অতিবাহিত করছি। আমার ছেলেসহ জিম্মি সবাইকে দ্রুত দেশে এনে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানাই।’
স্থানীয়রা জানান, এতোদিন পরিবারের সদস্যদের মধ্যে পালা করে চলছিল শোকের মাতম। তবে সবার প্রত্যাশা ও দোয়ায় উৎকণ্ঠা শেষে অবশেষে ফিরবে তাদের স্বজন।
বিপ্লবের সহধর্মিণী উম্মে সালমা সোনিয়া বলেন, ‘সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরের প্রচেষ্টা এবং দেশের মানুষের দোয়ায় জলদস্যুদের কবল থেকে নাবিকরা মুক্ত হয়েছে এমন খবর সংবাদ মাধ্যমে শুনেছি। এখন অপেক্ষা বাড়ি ফেরার।’
উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ ২৩ নাবিকসহ এমভি আবদুল্লাহ জাহাজকে জিম্মি করে সোমালিয়ার জলদস্যুরা। এরপর তারা মুক্তিপণ দাবি করে। বিষয়টি মালিকপক্ষ সরাসরি স্বীকার না করলেও মুক্তিপণ দিয়েই জাহাজটিকে মুক্ত করেছে তারা। এর আগে ১৪ বছর আগে একই মালিকের আরেকটি জাহাজ এমভি জাহান মণিকেও একইভাবে মুক্ত করে কেএসআরএম গ্রুপ।