ঈদের নতুন জামা পেয়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মুখে হাসি
নয় বছরের রাকিব। বাবা নেই। ছেলের ঈদের নতুন জামার জন্য শঙ্কায় ছিলেন মা। অনেকদিন ধরে তার নতুন কোনো জামা নেই। ঈদের নতুন জামা পেয়ে তার যে কি আনন্দ! এভাবে কারো বাবা নেই, কারো নেই মা। তাদের অনেকে এতিম। আছে অনেকে শারীরিক প্রতিবন্ধীও। যাদের অনেকেরই বেড়ে উঠা ঝুপড়ি ঘরে।
অভাব-অনটনের মধ্যে মানবেতর জীবনযাপনে অভ্যস্ত এসব শিশুদের ঈদের আনন্দে আন্দোলিত হওয়া তো দূরের কথা, ঠিকমতো খাবারই জোটা দুষ্কর। ঠিক এমন এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত শতাধিক শিশুদের হাতে ঈদের নতুন জামা দিয়েছে নীলফামারীর সৈয়দপুরের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আমাদের প্রিয় সৈয়দপুর।
রোববার দুপুরে শহরের গোলাহাট রাজ্জাকিয়া গফুরিয়া মাদরাসা মাঠে শতাধিক এসব ছিন্নমূল অসহায় শিশুদের হাতে নতুন পোশাক ও নগদ টাকা দিয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটি।
নতুন টাকা আর ঈদের নতুন জামা পেয়ে উচ্ছ্বসিত অসহায় শিশু সোহাগী জানায়, তার বাবা নেই। মা অন্যের বাসায় কাজ করে। যা আয় করেন তা দিয়ে কোনোমতে চলে। ঈদে নতুন পোশাক ও টাকা পেয়ে সে খুবই আনন্দিত।
৯ বছরের সিরাজ। দু বছর আগে বাবা মারা গেছে তার। দিন মজুর মায়ের পক্ষে ঈদের নতুন জামা কেনা সম্ভব নয়। অনেকদিন ধরে তার নতুন কোনো জামা নেই। এবার নতুন জামা ও নগদ টাকা পেয়ে আনন্দের শেষ ছিলো না তার। এখন ঈদ তাদের ভালো কাটবে বলে জানায় তারা।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক এমআর আলম ঝন্টু, রাজ্জাকিয়া গফুরিয়া মাদরাসার শিক্ষক সফিকুল ইসলাম, সংগঠনের ওয়াকার আনসারী, এসরার আনসারী, নওশাদ আনসারী, সামিউল আলিম, আরিফুল ইসলাম, অনলী রাজা, জয়, আয়ান, সামির, মোস্তফা, সেরু, মুনতাহা প্রমুখ।
সংগঠনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ওয়াকার আনসারী বলেন, প্রতিবছর এরকম সুবিধাবঞ্চিত শিশু ও এতিমদের ঈদের নতুন জামা ও নগদ টাকার ব্যবস্থা করে থাকি আমরা। এবারও ঈদে ৩ পর্যায়ে আমরা সুবিধা বঞ্চিত শিশু ও নারী পুরুষদের ঈদের নতুন জামা উপহার দিচ্ছি। প্রথম পর্যায়ে শতাধিক সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের ঈদের নতুন জামা দিচ্ছি এবং এরপর নারী-পুরষদের শাড়ি, লুঙ্গি, থ্রিপিস পাঞ্জাবি দেওয়া হবে। এবং ঈদের আগের রাতে দুস্থ পরিবারগুলোর মাঝে সেমাই, চিনি, দুধ বিতরণ করা হবে। বড় আনুষ্ঠানিকতা না থাকলেও আমাদের সংগঠনের সদস্যরা এসব এতিম, ছিন্নমূল শিশু ও মানুষের মাঝে নতুন পোশাক পৌঁছে দিচ্ছে। আমাদের এই ধারাবাহিকতা ঈদের আগের দিন পর্যন্ত থাকবে।
উপহার হিসেবে সামান্য হলেও শিশুদের মুখের হাসি আর ওদের প্রাপ্তির আনন্দই তাদের স্বার্থকতা বলে জানান সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা।