ঢাকা,  বুধবার   ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

কারাগারেই ‘সাত পাকে বাঁধা’ পড়লেন আসামি-বাদী

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১০:২২, ২১ মার্চ ২০২৪
কারাগারেই ‘সাত পাকে বাঁধা’ পড়লেন আসামি-বাদী
কারাগারে বিয়ে

ঘটনাটি ২০২৩ সালের। ওই সময় সংঘটিত হয়েছিল অপরাধটি। ভিকটিমকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানাতে থাকেন অপরাধী। শুধু তা-ই নয়, ভিকটিম অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে গর্ভপাত করার জন্য তৎপরতা শুরু করেন। পরে ভিকটিম এবং তার পরিবার আইনের আশ্রয়ে গেলে গ্রেফতার হন অপরাধী। শুরু হয় তার জেল-হাজতের জীবন। অবশেষে বুধবার (২০ মার্চ) দুপুরে মৌলভীবাজার কারাগারে আদালতের নির্দেশেই জেলা কারা কর্তৃপক্ষ এই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে। 

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কারাগারের জেল সুপার মুজিবুর রহমান মজুমদার। 

বর আসামি আশিষ বাউরী এবং কনে কুঞ্জুমালের বিয়ে তাদের নিজস্ব ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী একজন পুরোহিতের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি হিসেবে সহকারী কমিশনার শাওন মজুমদার।  

Advertisement

জানা যায়, আসামি আশিষ বাউরী মৌলভীবাজারের রাজনগরের উত্তরভাগ ইউনিয়নের ইন্দানগর চা বাগানের সদানন্দ বাউরীর ছেলে। কনে কুঞ্জুমাল একই ইউনিয়নের মৃত মনীষা মালের মেয়ে। রাজনগর উপজেলার ইন্দানগর চা বাগানে ভিকটিম কুঞ্জুমালের সঙ্গে আসামি আশিষ বাউরীর প্রেম ও শারীরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে কুঞ্জুমাল অন্তঃসত্ত্বা হয়ে যান।  

কারাগারে বিয়ে

কুঞ্জুমাল বলেন, আমি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর আশিষ বাউরীর পরিবার বাচ্চা নষ্ট করতে বলে। আমি নষ্ট করিনি। আশিষ বাউরীও নষ্ট না করতে বলে। কিন্তু আমার মেয়ে জন্ম নেয়ার পর সে সন্তানের স্বীকৃতি দিতে এবং আমাকে বিয়ে করতে অস্বীকার করে। পরে আমি ২০২৩ সালের ১১ আগস্ট মামলা করি। বর্তমানে কুঞ্জুমালে তিন মাসের একটি সন্তান রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে উচ্চ আদালত তাদের বিয়ের নির্দেশ দেন।  

আসামির পরিবার জানায়, আদালতের নির্দেশে এ বিয়েটি সম্পন্ন হয়েছে। বিয়ের বৈধ প্রমাণাদি আদালতে দাখিলের পর আশিষ বাউরীকে জামিন দেবেন আদালত।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!