বুধবার সকালে রাজবাড়ী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোসাম্মৎ জাকিয়া সুলতানা এ রায় প্রদান করেন। আদালতে রায় ঘোষণার সময় অভিযুক্ত সাহিদা বেগম উপস্থিত ছিলেন।
আসামির বড় মেয়ে আফরোজা বেগম বাবাকে পিটিয়ে হত্যার দায়ে ২০১২ সালে ৪ ডিসেম্বর মা সাহিদা বেগমকে আসামি করে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
জানা যায়, আসামি সাহিদা বেগমের স্বামী আশরাফ সানার বাড়ি ছিল সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া থানার ওকাপুর গ্রামে । তিনি সাহিদা বেগমকে বিয়ে করে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বংকুর গ্রামে জমি কিনে বাড়ি করেন।
.png)
এখানে বাড়ি করার পর তিনি আবার সাতক্ষীরা জেলার কলরোয়াতে আরেকটি বিয়ে করেন। দ্বিতীয় বিয়ের পর থেকে আশরাফ প্রথম স্ত্রী সাহিদা বেগমের সংসার খরচ দেয়া বন্ধ করে দেন। মাঝে মধ্যেই সাতক্ষীরা থেকে এসে আশরাফ প্রথম স্ত্রী সাহিদার কাছে টাকা চেয়ে মারধর করতেন। টাকা দিতে না পারলে বাড়ি বিক্রি দেবার হুমকী দিতেন।
ঘটনার দিন ২০১২ সালের ৪ ডিসেম্বর সকালে আশরাফ বাড়ি বিক্রি করার কথা বলে টাকা চেয়ে ঝগড়া করতে থাকে। একপর্যায়ে ঘর থেকে লোহার রড নিয়ে এসে আশরাফ স্ত্রী সাহিদা বেগমকে মারতে যায়। তখন সাহিদা বেগম লোহার রডটি আশরাফ কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে তাকেই মাথায় আঘাত করে। রডের আঘাতে আশরাফ চিৎকার করে বাড়ির পাশে ক্ষেতের মধ্যে পড়ে যায়। তখন সাহিদা বেগম গিয়ে আশরাফের মাথায় রড দিয়ে আঘাত করতে থাকেন।
এ সময় ঘটনাস্থলেই আশরাফ মারা যায়। ওই দিনই সাহিদা বেগমের বড় মেয়ে আফরোজা বেগম বাদী হয়ে বালিয়াকান্দি থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পর সাহিদা বেগমকে পুলিশ গ্রেফতার করে আদালতে পাঠায়। সাহিদা বেগম ৯ মাস কারাভোগের পর থেকে রায় প্রদানের দিন পর্যন্ত জামিনে ছিলেন। রায় প্রদানের সময় আদালতে উপস্থিত হলে আদালত সাহিদা বেগম কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
রাজবাড়ী জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট উজীর আলী বলেন, আদালত রায় প্রদানের সময় বলেছেন সাহিদা বেগম যে অপরাধ করেছেন এর জন্য তার মৃত্যুদণ্ড হয়। কিন্তু আসামির বয়স বিবেচনায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা প্রদান করা হয়েছে। এই রায়ে আমি খুশি।