ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

হাত বদলে দ্বিগুণ বেড়ে যায় সবজির দাম

কাজী মফিকুল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত: ১৪:৫৩, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
হাত বদলে দ্বিগুণ বেড়ে যায় সবজির দাম
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় সর্বত্র হাট বাজারে চলছে সবজি বিক্রি। এরইমধ্যে পাইকারীতে এক রকম দাম আর খুচরা পর্যায়ে আরেক রকম দাম। প্রান্তিক কৃষকরা পাইকারদের কাছে কোনো প্রকার সবজি ৩০ টাকায় কেজিতে বিক্রি করলে সেটা হাত বদলে খুচরা পর্যায়ে তা দ্বিগুণ বেড়ে যাচ্ছে।  ফলে সাধারণ ক্রেতারা ওই সবজি  প্রতি কেজিতে ১০-১৫ টাকা বেশি দিয়ে ক্রয় করতে হচ্ছে। 

ব্যবসায়ীরা পরিবহন আর জ্বালানির খরচ বৃদ্ধিসহ নানা অজুহাত দেখিয়ে আসছেন। তবে যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে টাটকা সবজি পাওয়া যাচ্ছে ওইসব সবজির দাম বাড়লেও তারা প্রতিনিয়ত ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।  

লাভের টাকার পুরোটাই ঢুকছে মধ্যস্বত্ব ভোগীদের পকেটে । একাধিক প্রান্তিক কৃষকের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া যায়।

Advertisement

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলায় প্রায় ৩০০ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে লাউ, বরবটি, টমেটো, শসা, বেগুন, ফুল কপি, বাধাকপি, পেঁপে, করলা, শিম, মুলা, কচুশাক, পুইশাকসহ নানা প্রকার শীতকালীন সবজি চাষ করেছে। সরকার সবজি চাষে কৃষকদের মাঝে মানসম্পন্ন বীজ ও সারসহ অন্যান্য উপকরণ বিতরণ করে। 

এ উপজেলায় প্রায় ৪ হাজার ৮ শ মেট্রিক টন শীতকালীন শাক-সবজি উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যার আনুমানিক বাজার মূল্য ধরা হয়েছে ১৭ কোটি টাকা। কীটনাশক মুক্ত ওইসব শাক সবজি নিরাপদ ও বালাই মুক্ত হওয়ায় স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় পাইকার নিয়ে বিক্রি করছেন। 

এদিকে উপজেলার সর্বত্র হাট বাজারে মৌসুমি সবজিতে সরগরম থাকলেও ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না কৃষকরা। কৃষক থেকে ক্রেতার হাত পর্যন্ত আসতেই এসব পণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে দ্বিগুণ।

একাধিক কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার আশপাশের স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পাইকাররা বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে সবজি ক্রয় করছেন।  অনেক কৃষক  আবার তাদের উৎপাদিত সবজি স্থানীয় বাজারে তুলে বিক্রি করছেন। তবে ওইসব জায়গা থেকে ক্রয় করা সবজি খুচরা বাজারে কেজিতে প্রায় ১০-১৫ টাকা বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে।

সরেজমিন পৌর শহরের সড়ক বাজারে সবজি বাজারে গিয়ে দেখা যায়, খুচরা বিক্রেতারা প্রতিকেজি শিম ৬০-৬৫ টাকা, টমেটো ৩৫-৪০, ফুলকপি ৩৫-৪০, পাতাকপি ৩৫-৪০, করলা ৪০-৫০, বেগুন ৫০-৫৫, পেঁপে ৪০-৪৫. মুলা ৩০-৩৫. লাউ প্রতি পিচ ৮০-৯০, গাজর ৪৫-৫০. কাঁচা মরিচ ৬০-৬৫, খিরা ৫০-৫৫, চিচিঙ্গা ৬০-৬৫, ঢেঁড়শ ৭০-৭৫, মিষ্টি কুমড়া ৪০-৪৫ টাকা কেজি বিক্রি করছেন। 
এছাড়াও শাকের মধ্যে সরিষা শাক আটি ১৫ টাকা, ডাটা শাক ২০ টাকা, পালং ১৫-২০ টাকা, লাউ শাক ৪০-৫০, লাল শাক ২০ টাকা, বথুয়া শাক ১৫-২০ টাকা আটি বিক্রি করছেন।

কৃষক মো. মান্নান মিয়া বলেন, এ মৌসুমে ২ বিঘা জমিতে টমেটো, বেগুন, ফুলকপি, মুলা ও লাল শাখ চাষ করা হয়েছে। গত প্রায় ২০ দিন ধরে চলছে সবজি বিক্রি। জমির বেশিরভাগ সবজি পাইকাররা এসে নিয়ে যান। গত ৩ দিন ধরে প্রতিপিচ ফুলকপি ২৫ টাকা আর টমেটো ২৫-৩০ টাকায় কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। যা খুচরায় বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেশিতে।

কৃষক মো. মুস্তাকিম সরকার বলেন, এ মৌসুমে টমেটো, শসাসহ নানা প্রকারের সবজি চাষ করা হয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে প্রতি কেজি  টমেটো ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।  পাইকারি থেকে খুচরায় বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

কৃষক আব্দুস সালাম বলেন, এ মৌসুমে  ১ বিঘা জমিতে লাউ, টমেটো, ফুলকপি চাষ করা হয়েছে। সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় বেশিরভাগ সবজি পাইকারিতে বিক্রি করছেন। ১ পিচ লাউ পাইকারিতে ৫০-৫৫ টাকা, টমেটো ২৫-৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি করছি। আর ওই সবজি খুচরা বাজারে কেজিতে ১০-১৫ টাকা বেশিতে বিক্রি হচ্ছে।  ওইসব সবজি যদি স্থানীয় বাজারে খুচরা বিক্রি করা যেতো তাহলে দ্বিগুণ লাভবান হতাম।

খুচরা বিক্রেতা বাবুল মিয়া বলেন, আমি একা মানুষ সব সময় কৃষকের কাছ থেকে সবজি ক্রয় করতে পারি না। তাই  আড়ৎ থেকে মাল ক্রয় করে ব্যবসা করছি।  প্রতিদিনই সেখানে নিত্যপণ্যের দাম উঠা না করে।  তারা যদি দাম বেশি রাখে তাহলে আমরাও বেশি দামে বিক্রি করি। তাছাড়া দোকান ভাড়া, বিদ্যুৎ বিলসহ অন্যান্য খরচ অনেক আছে। তাই বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

ব্যবসায়ী মহসিন মিয়া বলেন, কৃষক পর্যায় থেকে সবজি ক্রয় করা খুবই কষ্টের কাজ। এক কৃষকের কাছে চাহিদানুযায়ী সব পণ্য পাওয়া যায় না। তাই ভোর থেকেই বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে এসব সংগ্রহ করতে হয়। কৃষকের কাছ থেকে কেনা ওইসব পণ্য কেজিতে স্বল্প লাভে স্থানীয় খুচরা বিক্রেতাদের কাছে বিক্রি করা হয়। আর হাত বদলে দাম কিছুটা বেড়ে যায়। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!