বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নিজ সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান। এর আগে, গতকাল সোমবার দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে উপজেলার চর ওয়াপদা ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ সুপার বলেন, আবুল মেম্বার মো. মেহরাজকে দিয়ে ঘরের সিঁধ কাটিয়ে গরু বেপারী মো. হারুনকে নিয়ে ওই নারীর ঘরে ঢুকে ধর্ষণ করেন। ওই সুযোগে মেহরাজ ওই নারীর পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়েকে ধর্ষণ করেন। পুলিশ ঘটনার পর পরই সিঁধ কাটার কাজে ব্যবহৃত কোদাল, কাঁচি, কালো প্যান্ট ও কানটুপি জব্দ করে।
.png)
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে গ্রেফতারকৃত সাবেক ইউপি সদস্য আবুল খায়ের মুন্সীকে প্রধান আসামি, হারুনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত এক ব্যক্তিকে আসামি করে একটি মামলা করেন। তাৎক্ষণিক পুলিশ আবুল খায়েরকে গ্রেফতার করে। মঙ্গলবার রাত ৩টার দিকে চরক্লার্ক ইউনিয়ন থেকে মেহেরাজকে গ্রেফতার করা হয়।
তিনি আরো বলেন, হারুনের সহযোগিতায় ওই নারীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন আবুল মেম্বার। তিনি সরে গেলে হারুন তাকে পুনরায় পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। মেহরাজ পাশের রুমে থাকা ওই নারীর মেয়েকে ধর্ষণ করেন। ধর্ষণ শেষে ফিরে যাওয়ার সময় স্বর্ণের কানের দুল ও ঘরে থাকা নগদ টাকা নিয়ে যান। পরে মেয়ের হাতের বাঁধন খুলে দেয় এবং ঘটনার বিষয়ে কাউকে কিছু বললে তাদেরকে প্রাণে মেরে ফেলবে বলে হুমকিও দেন তারা।
মূলত হারুন গৃহবধূর বসতঘরে মালামাল আছে বলে মেহেরাজকে চুরি করতে ইন্ধন যোগায়। মেহরাজ রাজি হলে সিঁধ কেটে ঘরে ঢুকে। এরপর হারুনের সঙ্গে মুন্সী মেম্বারকে দেখে মেহরাজ অবাক হন এবং বুঝতে পারে ধর্ষণ করতেই তাকে দিয়ে চুরির নাটক সাজায়।
প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিজয়া সেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইব্রাহীম , অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বেগমগঞ্জ সার্কেল) নাজমুল হাসান রাজীব, সহকারী পুলিশ সুপার (চাটখিল সার্কেল) নিত্যানন্দ দাস, চরজব্বার থানার ওসি রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।