ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছে মামুনের মধু

ইসমাইল হোসেন বাবু, ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া)
প্রকাশিত: ০৯:৩১, ২ জানুয়ারি ২০২৪
অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছে মামুনের মধু
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

সাইকেলে দুটি বালতি, একটি ছুরি আর পেছনে এক আঁটি ধানের খড় বা হলুদের শুকনো পাতা নিয়ে চলতে দেখা যায় মধু সংগ্রহকারীদের। ধোঁয়া সৃষ্টি করে মৌচাক থেকে প্রাকৃতিক মধু সংগ্রহ করেন তারা। তবে বর্তমানে প্রাকৃতিক মধুর চেয়ে বাণিজ্যিকভাবে মধু চাষ অনেক বেশি লাভজনক।

মৌমাছির মাধ্যমে বিভিন্ন ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে সাফল্য পেয়েছেন কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার মৌ-চাষি মামুন আর রশিদ ওরফে মধু মামুন। কুষ্টিয়ায় উৎপাদিত মধু এখন অস্ট্রেলিয়াসহ কয়েকটি দেশে যাচ্ছে। এ ব্যতিক্রম উদ্যোগ কুষ্টিয়ার মিরপুরের মৌচাষি মামুন।

মামুন মিরপুর উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের গেটপাড়া গ্রামের মৃত মসলেম উদ্দিন মন্ডলের ছেলে। তাকে সবাই মধু মামুন বলেই চেনে। মৌচাষে পুরোদমে আত্মনিয়োগ করে মেধা ও বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে আজ তিনি স্বাবলম্বী। তার দেখানো পথে অনেকেই মধু খামার গড়ে সফলতার স্বপ্ন দেখছেন। ব্যবসার ক্ষেত্রে উদ্ভাবনী ধারণা ও অধ্যাবসায় আর পরিশ্রম দিয়ে সফল হয়েছেন মামুন।

Advertisement

তিনি সরিষাক্ষেতে মৌমাছি পালনের মাধ্যমে মধু উৎপাদন করে আসছেন দীর্ঘদিন থেকে। এখন স্থানীয় বাজারে বিক্রির পাশাপাশি সেই মধু অস্ট্রেলিয়াতে রফতানি শুরু করেছেন তিনি। বিষয়টি বেশ সাড়া ফেলেছে এলাকায়। মামুনের দেখাদেখি অনেকইে এখন মৌচাষে উদ্যোগী হচ্ছেন।

কারিগরি কোনো প্রকার প্রশিক্ষণ ছাড়াই ১৯৯৭ সালে মাত্র ৪টি মধুর বাক্স নিয়ে শুরু হয় মধু মামুনের পথচলা। তারপরে তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। মামুন বলেন, ‘শখের বসেই ১৯৯৭ সালে ২ হাজার ৬০০ টাকা দিয়ে মাত্র ৪টি মধুর বক্স নিয়ে শুরু সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করা শুরু করি। তারপরে ১৯৯৮ সালে মাস্টার্স পাশ করি। চাকরির আশা না করে শুরু করি মধু চাষ। এখন আমার ৩টি খামারে প্রায় সাড়ে ৪০০ মধুর বক্স রয়েছে। এখন এগুলোর এক একটির মূল্য ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা।’

সোমবার (১ জানুয়ারি) মিরপুর উপজেলার ধুবইল মাঠে গিয়ে দেখা যায়, মাঠজুড়ে বিস্তীর্ণ সরষের ক্ষেত। শীত মৌসুম আসার সঙ্গে সঙ্গেই সরষের ক্ষেতের পাশে মৌচাষের বাক্স বসিয়েছেন মামুন। বাক্স থেকে মৌমাছির দল সরষে ক্ষেতে উড়ে উড়ে ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে আবার বাক্সে ফিরে যাচ্ছে। বাক্স থেকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সংগ্রহ করা হয় মধু।

মধু মামুন বলেন, ‘নিজে কিছু করার চেষ্টা এবং অন্য মানুষদের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি করতেই আমার এ পথচলা। আমার খামারে উৎপাদিত মধু দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানোর পাশাপাশি বিদেশেও রফতানি করা হয়ে থাকে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমানে আমার তিনটি খামারে সাড়ে ৪০০ বক্সে মধু সংগ্রহ করা হচ্ছে। এর মধ্যে তাড়াশের কেন্দুয়িল, চাপাইনবাবগঞ্জের সুকনাপাড়া এবং কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ধুবইল মাঠে মধু সংগ্রহ করা হচ্ছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি ২০ টন মধু। গত বছর একটি খামার থেকে উৎপাদন করি ১০ টন।’

ফুলবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম বলেন, ‘একদিকে যেমন মিরপুরে বিপুল পরিমাণ মধু উৎপাদন হচ্ছে, অন্যদিকে সরিষাক্ষেতে বিপুল পরিমাণ মৌমাছির বিচরণের ফলে সুষম পরাগায়ন হচ্ছে। এতে সরিষার ফলন বৃদ্ধি, কৃষকদের আয় বৃদ্ধিসহ কর্মসংস্থানের জন্য মৌচাষে সহযোগিতা করা হচ্ছে।

নাটোর থেকে ধুবইল মাঠে মধু কিনতে আসা ফারুকুল আলম তুষার নামে এক ঠিকাদার বলেন, ‘আমি নাটর থেকে এসেছি মধু মামুনের নাম শুনে। সারাদেশে তার মধুর সু-খ্যাতি রয়েছে। তার মধু অনেক মানসম্পন্ন। যার কারণে সরেজমিন দেখে এবং নিজে খেয়ে বাসার জন্য আরো ৫ কেজি মধু নিয়ে যাচ্ছি।’

মিরপুর মাহমদা চৌধুরী ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক শাহ আক্তার মামুন বলেন, ‘মধু মামুন আমাদের এলাকার ছেলে। সে দীর্ঘ দিন ধরে মৌ-খাামার গড়ে তুলেছেন। এরইমধ্যে সারাদেশে তার অনেক নামডাক ছড়িয়ে পড়েছে। তার উৎপাদিত মধু অনেক মানসম্মত।’

মিরপুর উপজেলা কৃষি অফিসার মামুর অর রশীদ বলেন, সরিষাক্ষেতে মৌচাষের ফলে একদিকে ফলন বাড়ছে এবং মধু সংগ্রহের ফলে পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত হচ্ছে। মামুন এ উপজেলার একজন মডেল মৌ-খামারি। মধু চাষ করে তিনি স্বাবলম্বী হয়েছেন। তাকে অনুসরণ করে অনেকেই বাণিজ্যিকভাবে মধু চাষের আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!