শীতের কুয়াশা ভেজা সকাল ও সন্ধ্যায় পিঠাপুলির আয়োজন অনেক আগে থেকেই চলছে। দিন দিন নানা ব্যস্ততায় এখন অনেকেই ঘরে ঘরে শীতের পিঠা বানিয়ে খেতে পারেন না। বাড়িতে পিঠা বানানোর ঝামেলা এড়াতে পিঠার দোকান থেকে পিঠা ক্রয় করে স্বাদ মিটাচ্ছেন অনেকে।
খাগড়াছড়ি মাটিরাঙ্গায় ব্যস্ততম সড়কের পাশে স্বস্ত্রীক ও ছেলেসহ শীতের ভাপা ও চিতই পিঠা বানিয়ে বিক্রি করে সংসার চালান জয়নাল আবেদিন। পিঠার মৌ মৌ গন্ধ যেন ভরে আছে চারপাশ। কুয়াশা এড়াতে দৃষ্টিনন্দন সমুদ্র সৈকতের ছাতা ব্যবহার করছেন তিনি।
.png)
জয়নালের বাড়ি মাটিরাঙ্গার মাতাব্বর পাড়ায়। ৫ বছর ধরেই পিঠা বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন তিনি। বাকি সময়গুলোতে তিনি একই এলাকায় শ্রমিকের কাজ করে থাকেন। তাদের একটি মাত্র ছেলে, ছেলেটিও তাদের সঙ্গে পিঠা বানিয়ে থাকেন।
শীতের পুরো সময় জুড়ে পিঠা বিক্রি করেন তারা। বাহারি স্বাদের সরিষা ও শুঁটকির ভর্তা সহকারে প্রতিটি চিতই ও ভাপা পিঠা ৫ টাকা করে দৈনিক ১৫ কেজি চালের প্রায় দেড় দুই হাজার টাকার পিঠা বিক্রি করা হয়। এ দিয়ে চলে যায় পুরো সংসার।
জয়নাল আবেদিন বলেন, শীতের পিঠা বিক্রি করি ভালো লাগা থেকে। একই সঙ্গে নিজের পারিবারিক চাহিদাও মিটে যায়। এ পিঠা বিক্রি করে ভালোই আছি। তেমন কোনো পরিশ্রম নেই তাতে। পিঠার মান ও স্বাদ অক্ষুন্ন রাখতে ঢেঁকিতে চাল গুড়া করে পিঠা বানাই। দামে কম এবং রকমারি স্বাদের ভর্তা দেয়া হয় বিধায় আমার পিঠা বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
পিঠা খেতে আসা লাভলু জানান, প্রতিদিন এখানে পিঠা খেতে আসি। ভাপা পিঠা আমার খুবই প্রিয় তাই দৈনিক চার পাঁচটা করে খাই। যাবার সময় সহকর্মীদের জন্যও নিয়ে যাই। চিতল পিঠার সঙ্গে সরিষা, শুঁটকির ভর্তা, সঙ্গে ধনেপাতা এ যেন এক ব্যতিক্রম মুখরোচক স্বাদ।
মাটিরাঙ্গা প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন জয়নাল বলেন, পিঠা-পুলি বাঙালির অনন্য আয়োজন। খেজুর গুড় ও চালের গুঁড়া দিয়ে তৈরি ভাপা পিঠা আর চালের গুঁড়া পানি দিয়ে বানানো হয় চিতই পিঠা পাহাড়ের এ জনপদে বেশ জনপ্রিয়।