ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

সবজির নার্সারি করে লাভবান চাষিরা

আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৮:০০, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৩
সবজির নার্সারি করে লাভবান চাষিরা
সবজির নার্সারি করে লাভবান চাষিরা। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

সবজির নার্সারিতে শোভা পাচ্ছে, বেগুন, টমেটো, লাউ, মরিচ, ফুলকপি, বাঁধাকপি, করলাসহ নানা জাতের চারা। কৃষকরা সকাল থেকেই করছেন পরিচর্যা। আবার কেউ বা চারা তুলে হাটে নিয়ে বিক্রি করতে প্রস্তুত নিচ্ছেন। কেউবা নার্সারিতে এসে ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছেন।

মৌসুমী শীতকালীন সবজি চারা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার কৃষকরা। শীত কালীন সময় বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় বেশিরভাগ কৃষকরা কমবেশি নানা প্রকারের সবজি চাষ করছেন।  

স্থানীয় পর্যায়ে কৃষকদের কাছে ওইসব সবজি চারার কদর ও রয়েছে বেশ। ফলে হাট বাজারসহ সর্বত্র শীত মৌসুমের মরিচ, বেগুন, টমেটো, পেঁপেসহ নানা জাতের সবজির চারা বিক্রি বেশ জমজমাট হয়ে উঠেছে। 

Advertisement

উৎকৃষ্ট বীজ থেকে চারা উৎপাদনে ফলন ভালো হওয়ায় দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে সবজির আবাদ। কৃষকদের পাশাপাশি শৌখিন লোকজনরা চারা ক্রয় করে পারিবারিক সবজির পুষ্টি চাহিদা পূরণ করছেন। এরইমধ্যে এ উপজেলা সবজি এলাকা হিসেবে বেশ পরিচিতি লাভ করেছে। এ উপজেলার অনেক কৃষক নার্সারির মাধ্যমে বাণিজ্যিকভাবে বিভিন্ন জাতের সবজির চারা উৎপাদন করে বিক্রি করছেন। নিজেদের চাহিদা পূরণের পর এসব চারা এখন পাশের জেলায় সরবরাহ করছেন। শৌখিন কৃষকরা চারা উৎপাদন না করে এসব নার্সারি থেকে চারা সংগ্রহ করে সবজি আবাদে বিশেষ অবদান রাখছেন।

সবজির নার্সারি করে লাভবান চাষিরানার্সারি মালিকরা জানান, মৌসুম অনুযায়ী বছরজুড়ে এলাকায় সবজির চারার ভালো চাহিদা রয়েছে। কৃষকদের উৎপাদিত উন্নত জাতের ওইসব সবজির চারা হাটে-বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। নার্সারির মালিকরা  নানা প্রজাতির সবজির চারা প্রতি পিস চারা ৩ টাকা থেকে ২৫ টাকা বিক্রি করছেন। তবে অনেক সময় ওইসব চারা মান আর আকারের ওপর নির্ভর হয়ে থাকে টাকার পরিমাণ। 

নার্সারির মালিকরা জানান, সবজির চারা একটি লাভ জনক ব্যবসায়। স্বল্পপুঁজিতে ভালো টাকা আয় করা যায়।  তবে কোনো প্রকার প্রাকৃতিক দুর্যোগে আসলে অনেক সময়  ক্ষতির মধ্যে পড়তে হয়। তারপরও ভালো টাকা আয় করা যায় বলে জানান তারা।

নার্সারির মালিক পৌর শহরের দেবগ্রাম এলাকার মো. আব্দুল কাদির মিয়া বলেন, বাড়ি সংলগ্ন ২ বিঘা জমিতে বিশাল আকারের নার্সারি বাগান গড়ে তুলেছেন। তার ওই নার্সারিতে বেগুন, টমেটো, লাউ, মরিচ, ফুলকপি, বাঁধাকপি, বরবটি, করলাসহ নানা জাতের সবজি চারার পাশাপাশি দেশি-বিদেশি ফল, ফুল, ভেষজ, ওষধিসহ বিভিন্ন জাতের ৪ লক্ষাধিক চারা রয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে সবজিসহ ওই সব চারার ভালো চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে শীতকালীন নানা জাতের সবজি চারা বিক্রি হচ্ছে বেশি। তার বাগানে নিচে ৩ টাকা থেকে উপরে ৫০ টাকার সবজি চারা রয়েছে। দৈনিক ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা সবজিসহ দেশি-বিদেশি ফল, ফুল, ভেষজ, ওষধি চারা বিক্রি হয়। বছরজুড়ে ওইসব চারা বিক্রি করে চলে তার জীবিকা। এতে তিনি খুবই খুশি।

সবজির নার্সারি করে লাভবান চাষিরা।মো. মোস্তাকিম সরকার বলেন, এ মৌসুমে ১৭ বিঘা জমিতে গ্রাফটিং পদ্ধতিতে টমেটোর চারা নিজে তৈরি করে জমি চাষ করেছেন। সেই সঙ্গে করছেন সবজি চারা বিক্রিও। তাছাড়া বছরজুড়ে টমেটো, শসা, বেগুন, লাউ, ক্যাপসিকামসহ নানা জাতের সবজি চাষ করছেন। জমি চাষ করতে নিজেই করছেন বীজ থেকে চারা উৎপাদন। নিজের চাহিদা পূরণ করে পাশপাশি করছেন বিক্রিও। উৎপাদিত চারার মান ভালো হওয়ায় স্বল্প সময়ে এলাকায় ভালো পরিচিতি লাভ করেন। চারা বিক্রি থেকে বছরে ৫০ হাজার টাকা আয় হয় বলে জানান।

চারা ব্যবসায়ী কৃষক ফরিদ মিয়া জানান, বাড়ির সংলগ্ন তার ১২ শতাংশ জায়গাতে উন্নত জাতের বেগুন, টমেটো, মিষ্টি কুমড়া, মরিচ, পেঁপেসহ নানা প্রজাতির সবজির চারা উৎপাদন করা হয়। বীজ রোপণের মাত্র ২২-২৫ দিনের মাথায় চারা বিক্রয়যোগ্য হয়ে উঠে। চারা রক্ষায় রাখছেন বাড়তি নজর। চারাগুলো প্রখর রোদ থেকে রক্ষার জন্য সকালে ঢেকে দেয়া হয়, আবার বৃষ্টি হলেও ঢেকে রাখা হয়। বর্তমানে পুরোদমে চারা বিক্রি হচ্ছে। এক একটি চারা স্থানীয় বাজারে ৩ টাকা থেকে ১০ টাকা বিক্রি করা হয়। আর পাইকারিতে চারার মান অনুযায়ী ২ টাকা থেকে ৪ টাকায় বিক্রি করা হয়। দৈনিক ৩ হাজার টাকার চারা বিক্রি হয়। 

সবজির নার্সারি করে লাভবান চাষিরা।তিনি জানান, একই জমিতে বছরে ৪ বার বীজ উৎপাদন করে চারা বিক্রি করা যায়। এই শীত মৌসুমের চারা উৎপাদনে যাবতীয় খরচ বাদে ১ লাখ টাকা আয় হবে। নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে যাবতীয় খরচ বাদে বছরে চারা বিক্রি করে ৩ লাখ টাকা আয় হয়।

সৌখিন কৃষক মো. আলাল মিয়া জানান, প্রতি বছর শীতকালীন নানা জাতের সবজি চাষ করছেন।  নিজে বীজ থেকে চারা তৈরি করে চাষ করতেন। কিন্তু  এবার নানা কারণে চারা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় নার্সারি থেকে চারা ক্রয় করে ১৫ শতাংশ জায়গাতে বেগুন, টমেটো, মরিচ, আবাদ করেন। ফলন ভালো হওয়ায় তিনি খুবই খুশি।

কৃষক মো. আকবর হোসেন বলেন, বাড়ি সংলগ্ন জায়গাতে বছরের বেশিরভাগ সময় নানা জাতের সবজি চাষ করছেন। তবে সবজির চারা নিজে উৎপাদন করছেন না। কারণ সবজির চারা উৎপাদন করতে অনেক পরিশ্রম ও পরির্চচা করতে হয়। আবার অনেক সময় নষ্ট হয়ে যায়। এ কারণে ঝুঁকি-ঝামেলা এড়াতে চারা উৎপাদন না করে সরাসরি নার্সারি থেকে সবজির চারা সংগ্রহ করে চাষ করছেন। নার্সারির চারার মান খুবই ভালো।  ফলন ও ভালো হচ্ছে।

আখাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া তাবাসসুম বলেন, উপজেলায় মোট আবাদি জমির পরিমাণ প্রায় ৭ হাজার হেক্টর জমি। এরমধ্যে শাকসবজি চাষাবাদ হচ্ছে ৪৫০ হেক্টর জমিতে। উপজেলার অনেক চাষি এবং নার্সারি মালিক সবজি চারা উৎপাদন করছেন। তাদের নিজ চাহিদা পূরণের পর স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। সরকার কৃষকের মাঝে বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা হিসেবে সবজি বীজ বিতরণ করছেন। 

তিনি আরো বলেন, সবজির চারা একটি লাভজনক ব্যবসা হওয়ায় চারার গুণগতমান বজায় রাখতে ও নতুন নতুন জাত ও আগাম সবজির চারা উৎপাদনে নিয়মিত কৃষকদেরকে পরামর্শ দেওয়া হয়। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!