ঝিনাইদহের অন্যতম লাভজনক ফুল চাষ। জেলা থেকে বছরে প্রাই ২০০ কোটি টাকার বেশি ফুল বিক্রি হয়ে থাকে।
জেলার সদর উপজেলার গান্না গ্রামের কৃষক নজরুল জোয়ারদার। তিনি এবার ৩০ শতক জমিতে ২০ হাজার টাকা খরচ করে গাঁদা ফুল লাগিয়েছিলেন। ফুলের দাম ভালো পাওয়ায় চাষি নজরুলের মুখে স্বস্তির হাসি ফুটে উঠেছে। ছয়দিন আগে এক ঝোপা ফুল বিক্রি করেছেন ৪০-৫০ টাকায়। সপ্তাহ ঘুরতেই সেই ফুল ২৫০-৪৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করছেন।
.png)
জানা যায়, এক সপ্তাহ আগে যে গাঁদা ফুল বিক্রি হয়েছিল ৪০-৫০ টাকা ঝোপা। সেই ফুলের দাম বৃদ্ধি পেয়ে বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৪০০ টাকা ঝোপা। এভাবে অন্যান্য ফুলের দামও বেড়েছে। এতে সাধারণ কৃষক ও ব্যবসায়ীরা কিছুটা হলেও লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারবেন।
পাইকারি ফুল ব্যবসায়ী সোহাগ হোসেন বলেন, ১৬ ডিসেম্বর ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিয়ের উৎসব চলায় ব্যবসা বেড়েছে। এতে করে ঝিনাইদহের আশপাশের জেলাসহ ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেটের বিভিন্ন জায়গায় ফুল যাচ্ছে। গান্না বাজার থেকে প্রতিদিন গড়ে দেড় থেকে দুই কোটি টাকার ফুল বেচাকেনা হচ্ছে।
ঝিনাইদহ গান্না বাজার ফুল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি জামির হোসেন বলেন, বর্তমানে গাঁদা ফুল পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ৩০০-৪৫০ টাকা ঝোপা, জারবেরা ২০-২৫ টাকা, রজনীগন্ধা ৮-১০ টাকা, চন্দ্রমল্লিকা ৩-৪ টাকা, গোলাপ ১৫-২০ টাকায়। যা গত সপ্তাহের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি।
তিনি আরো বলেন, ফুলের গুণগত মান ভালো থাকাই এই জেলা থেকে বছরে প্রায় ২০০ কোটি টাকার ফুল বিক্রি হয়। ঝিনাইদহ জেলাতে তালিকাভুক্ত ফুল চাষি রয়েছে ৮ হাজারের বেশি। এর বাইরেও প্রাই দুই হাজার ফুলচাষি রয়েছেন।
ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক আজগর আলী জানান, এ জেলায় ২৫৪ হেক্টর জমিতে ফুলের আবাদ হয়েছে। বর্তমানে গাঁদা ফুলের চাষ সব থেকে বেশি। এর পাশাপাশি জারবেরা, চন্দ্রমল্লিকা, রজনীগন্ধা ও গোলাপের চাষও ব্যাপক হারে বেড়েছে।
তিনি আরো জানান, এ বছর ফুলের চাষ অনেক ভালো হয়েছে। এ জেলা থেকে আরো উন্নত ও মানসম্মত ফুল চাষে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের নানা পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।