জানা যায়, বুধবার ভোর ৪টার দিকে গাজীপুরের জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ রেলপথে ভাওয়াল রেলস্টেশনে ট্রেনের সাতটি বগি লাইনচ্যুত হয়। এতে আসলাম হোসেন নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় লোকোমাস্টার এমদাদুল হক ও সহকারী লোকামাস্টার সজিব মিয়াসহ আরো ১০-১২ জন আহত হয়েছেন। তবে ট্রেনের গতি কম থাকায় হতাহতের সংখ্যা কম।
এদিকে, ট্রেন দুর্ঘটনার কারণে ঢাকা-ময়মনসিংহ-ঢাকা রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে ময়মনসিংহ অঞ্চলের ট্রেনগুলো যেন নিরবচ্ছিন্নভাবে ঢাকা থেকে চলাচল করতে পারে, সেজন্য রুট পরিবর্তনের ব্যবস্থা করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ময়মনসিংহ অঞ্চলের ট্রেনগুলো ঢাকা-বিমানবন্দর-টঙ্গী-ভৈরব-কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ রুটে চলাচল করছে।
.png)
যাত্রী রফিকুল ইসলাম জানান, ময়মনসিংহ থেকে ঢাকায় যাচ্ছিলেন তিনি। ইঞ্জিনের পরের বগিতেই ছিলেন তিনি। ঘন কুয়াশা থাকায় ট্রেন ধীরগতিতে চলছিল। ট্রেনে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দে ঘুম ভাঙে তার। তখন দেখতে পান কয়েকটি বগি লাইন থেকে নিচু জমিতে পড়ে রয়েছে। অনেক কষ্টে জানালা দিয়ে বের হয়ে জীবন বাঁচিয়েছেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, ধীরগতি থাকায় একজন নিহত হয়েছেন। দ্রুতগতিতে ট্রেন চললে এ দুর্ঘটনায় আরো বড় ধরনের ঘটনা ঘটতো।
এই ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হুমায়ুন কবিরকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই তদন্ত কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। এছাড়া রেলওয়ের পক্ষ থেকে সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
ঢাকা রেলওয়ের স্টেশন ম্যানেজার মোহাম্মদ মাসুদ সারওয়ার বলেন, ময়মনসিংহের রুটে আপাতত ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে ঐ অঞ্চলের ট্রেনগুলো বিকল্প রুটে চলাচল করছে। ময়মনসিংহ অঞ্চলের ট্রেনগুলো ঢাকা-বিমানবন্দর-টঙ্গী-ভৈরব-কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ রুটে চলাচল করছে।