ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

রাজবাড়ীতে লক্ষ্যমাত্রার বেশি ধান আবাদ

রাজবাড়ী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৪:৫৬, ৫ ডিসেম্বর ২০২৩
রাজবাড়ীতে লক্ষ্যমাত্রার বেশি ধান আবাদ
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

রাজবাড়ীতে এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আবাদ হয়েছে আমন ধান। এ বছর জেলায় আমন ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ৫১ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে। জেলায় মোট ধান আবাদ করা হয়েছে ৫২ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৯০০ হেক্টর জমি বেশি। গত বছর জেলায় আমন ধান আবাদ হয়েছিল ৫১ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে। আবাদকৃত জমি এ বছর ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে এক লাখ ৬৮ হাজার ৪৭৫ মেট্রিক টন।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ধানের আবাদ করা হয়েছে সদর উপজেলায় ১৪ হাজার ৭৬৫ হেক্টর জমিতে। আর সবচেয়ে কম আবাদ করা হয়েছে গোয়ালন্দ উপজেলায় ২ হাজার ৩৬৫ হেক্টর জমিতে। এছাড়া পাংশা উপজেলায় ১৩ হাজার ৬২০ হেক্টর, কালুখালী উপজেলায় ৮ হাজার ৭৬৫ হেক্টর ও বালিয়াকান্দি উপজেলায় ১৩ হাজার ৩৩৫ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ করা হয়েছে।

রাজবাড়ী সদর উপজেলা মিজানপুর, বরাট, দ্বাদশী ও রামকান্তপুর ইউপির বিভিন্ন মাঠে গিয়ে দেখা যায়, বেশির ভাগ খেতে ধানের শীষ বের হয়েছে। অনেক জমির ধান পেকে গেছে। কিছু জমির ধান কেটে শুকানোর জন্য জমিতেই ফেলে রাখা হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেতে কৃষক ধান কাটছে। কেউ আবার খেতের কাটা শুকনো ধান আটি বাঁধছে। অনেকেই ধানের বোঝা মাথায় করে বাড়িতে নিচ্ছে। জমিতে আধাপাকা ধান লক্ষীর গু রোগে আক্রান্ত হয়েছে।

Advertisement

রাজবাড়ীতে এ বছর ধান আবাদ করা হয়েছে ৫২ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে।  রাজবাড়ী সদর উপজেলা বরাট ইউপির রাধাকান্তপুর গ্রামের চাষি অরবিন্দু কুমার দাস এ বছর ৮ পাকি জমিতে আমন ধানের আবাদ করেছেন। তিনি বলেন, এ বছর ধান বেশি ভালো হয়নি। অনেক ধানের সাদা শীষ বের হয়েছে। এবার ধানের চিটা অনেক বেশি।  

দাদশী ইউপির উরাকান্দা গোপালবাড়ি গ্রামের ধান চাষি সালাম খাঁ বলেন, ৪ পাকি জমিতে ধানের আবাদ করেছি। এক পাকি জমিতে ধান চাষে আট হাজার টাকা খরচ হয়েছে। যে ধান হয়েছে তাতে পাকিতে ৬ থেকে ৭ মণ ধান উৎপাদন হবে।  

ধান কাটায় ব্যস্ত কৃষক।রাজবাড়ী কৃষি সম্প্রাসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, চলতি বছর জেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ধানের আবাদ হয়েছে। ধান বেশি আবাদ হওয়ার বেশ কিছু কারণ রয়েছে। এ বছর আমরা ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছি। হাইব্রিড ধান বীজের প্রণোদনা দিয়েছি। আমন ধানের চাষের সময়টাতে ধানের বাজার ভালো ছিলো। যার কারণে কৃষক ধান চাষে আগ্রহী ছিলো। এবছর স্বাভাবিকের তুলনায় বৃষ্টিপাত কম হয়েছে। উজানের পানি না আসায় নিচু জমিতে ধান আবাদ করা সম্ভব হয়েছে। তবে কোনো কোনো মাঠে মাজরা পোকা ও বাদামী গাছ ফড়িং পোকার আক্রমণ হয়েছে। এতে কিছু ধানের শীষ সাদা হয়েছে। তবে এর পরিমাণ ব্যাপক নয়।এটা বড় ধরণের কোনো ক্ষতির পর্যায়ে যেতে পারেনি। দেখার সঙ্গে সঙ্গে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। তার পরও কোনো কোনো জমির ধান এই পোকার আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
ট্যাগ: রাজবাড়ী
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!