ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

আখাউড়ায় হারভেস্টার মেশিনে কৃষকের আস্থা

কাজী মফিকুল ইসলাম, আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
প্রকাশিত: ২১:১৯, ৩ ডিসেম্বর ২০২৩
আখাউড়ায় হারভেস্টার মেশিনে কৃষকের আস্থা
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার সর্বত্র চলছে রোপা আমন ধান কাটার মহোৎসব। বেশিরভাগ কৃষক ধান কাটা-মাড়াই করছেন কম্বাইন হারভেস্টার মেশিনে। কম খরচে স্বল্প সময়ে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ অতি সহজে হওয়ায় দিনদিন কৃষকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এ মেশিন।

একাধিক কৃষক জানান, আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় কৃষিতে ব্যাপক পরিবর্তন হওয়ায় জমি আবাদ, ধান কাটাসহ সব কিছুতেই খরচ কম হচ্ছে। এতে লাভবান হচ্ছেন কৃষক। আগে শ্রমিক সংকটের কারণে সময়মতো জমি আবাদ ও পাকা ধান কাটা নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হতো। তবে এখন আধুনিকতার ছোঁয়ায় সব কিছু দ্রুত ফসল চাষ এবং ঘরে উঠানো যাচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, আখাউড়ায় কৃষি কাজের জন্য ব্যক্তি মালিকানায় প্রায় দুই শতাধিক মাড়াই যন্ত্র রয়েছে। সরকারি কৃষি প্রণোদনার অংশ হিসেবে ৫০ ভাগ ভর্তুকিতে একটি রিপার ও ১৮টি কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন পেয়ছেন। এছাড়া ধান কাটা সময় পার্শ্ববর্তী জেলা থেকেও কয়েকটি কম্বাইন হারভেস্টার আনা হয়।

Advertisement

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

উপজেলার মোগড়া এলাকার কৃষক মো. স্বপন মিয়া বলেন, জমিতে ধান চাষ এবং কাটার কাজ শ্রমিকরাই করতেন। তবে সময়মতো শ্রমিক পাওয়া খুবই কষ্টকর ছিল। অনেক সময় শ্রমিকের অভাবে পাকা ধান নষ্টও হয়ে যেত। দুই বছর ধরে হারভেস্টার মেশিন দিয়ে ধান কাটার কাজ করছি। এতে নিজেদের কোনো পরিশ্রম হয় না। জমি থেকে ধান কাটা মাড়াইসহ বস্তায় করে অতি সহজে বাড়িতে আনা যাচ্ছে। প্রতি বিঘা জমির ধান কাটতে দুই হাজার টাকা দিতে হয়। কিন্তু শ্রমিক দিয়ে ধান কাটতে তিন হাজার টাকার উপর লেগে যায়।

কৃষক মো. গোলজার হোসেন বলেন, এ মৌসুমে উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান ছয় বিঘা জমিতে চাষ করেছিলাম। দুইদিনে কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন দিয়ে ধান কাটার কাজ শেষ করেছি। মেশিন দিয়ে একসঙ্গে ধান কাটা, মাড়াই ও বস্তায় ভরা সব কাজ হয়ে যায়।

হারভেস্টার চালক তামজিদ খান বলেন, কম্বাইন হারভেস্টার যন্ত্রটি সরকারি প্রণোদনায় ৫০ শতাংশ ভর্তুকিতে পেয়েছি। চার বছর ধরে এই মেশিন দিয়ে পাকা ধান কাটছি। এ মৌসুমে এলাকায় কৃষক পর্যায়ে এ যন্ত্রের যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ধান কাটার কাজ করছি। এ যন্ত্রে এক ঘণ্টায় ডিজেল খরচ হয় আট থেকে ১০ লিটার। এতে ২০ মিনিটে এক বিঘা জমির ধান কাটা, মাড়াই ও বস্তায় ভরা যায়। দৈনিক এক একর জমির ধান কাটা যায় বলেও জানান তিনি।

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া তাবাসসুম বলেন, বর্তমান সরকার কৃষি ও কৃষকবান্ধব। কৃষকদের সুবিধার্থে ৫০ ভাগ সরকারি প্রণোদনায় কম্বাইন হারভেস্টার দেওয়া হয়েছে। এতে জমি থেকে পাকা ধান কাটতে সময় ও খরচ দুটোই সাশ্রয় হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, এ উপজেলায় কৃষি কাজে আধুনিক যন্ত্রের ব্যবহার দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এরই মধ্যে উপজেলার প্রায় ৭০ ভাগ জমির ধান কাটা হয়েছে। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে ধান কাটা শেষ হবে। এ মৌসুমে আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে বলেও জানান তিনি। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এইচএন
ট্যাগ: আখাউড়া
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!