তিনি জানান, পারিবারিকভাবে আমি তেমন স্বচ্ছল না। তাই বয়স হওয়ায় একটি বয়স্ক ভাতার জন্য আবেদন করি। এরপর ২০২০ সালে আমার নামে একটি বয়স্ক ভাতা চালু হয়। দুই বছরের মতো ওই ভাতা ঠিক মতোই পাচ্ছিলাম। তিন মাস পরপর ১৫শ’ টাকা করে মোবাইলে আসতো। তবে হঠাৎ ওই টাকা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর সমাজসেবা অফিসে যাই। সেখানে গিয়ে শুনি ‘আমি মারা গেছি’। যার জন্য ইউনিয়ন পরিষদ থেকে আমার স্থানে অন্য একজনের নাম দেওয়া হয়েছে। এ জন্য ভাতা বন্ধ।
বৃদ্ধ আব্দুল করিম জানান, আমি হেঁটে সমাজসেবা অফিসে গিয়েছি। সেখানে গিয়ে নিজের মৃত্যুর সংবাদ শুনে বিশ্বাস করতে পারিনি। এমন খবর শুনে হতবাক হয়ে যাই। পরে বিষয়টি জানতে ধলীগৌরনগর ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের কাছে যাই। তিনি আমাকে জানান; এমন অনেক ঘটনা ঘটছে, কারা এসব করছে তা জানি না। সচিব বলেছে, এখানে তার কোনো হাত নেই, তিনি কিছু করতে পারবেন না।
.png)
তিনি আরো জানান, বয়স হয়েছে। শরীরে অনেক রোগ। স্ত্রীও অসুস্থ। এই ভাতার টাকা দিয়ে অন্তত ওষুধ কিনতে পারতাম। এখন ভাতা বন্ধ হয়ে গেছে, তাই অনেক কষ্টে চলতে হচ্ছে। আমার ভাতাটি পুনরায় চালু করার দাবি জানাচ্ছি। একইসঙ্গে এই প্রতারণার মাধ্যমে যারা আমি জীবিত থাকার পরেও মৃত বলে আমার ভাতা বন্ধ করেছে তাদের শাস্তি কামনা করছি।
লালমোহনের ধলীগৌরনগর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব জহরলাল দাস বলেন, আব্দুল করিম নামে ওই বৃদ্ধ জীবিত রয়েছেন। তিনি একটি বয়স্ক ভাতা পেতেন। তবে তাকে নাকি মৃত দেখিয়ে সমাজসেবা অফিসে তালিকা দেওয়া হয়েছে। যার জন্য বৃদ্ধ আব্দুল করিমের ভাতাটি বন্ধ হয়ে যায়। কারা তাকে মৃত দেখিয়ে তালিকা দিয়েছে তা আমার জানা নেই। আমি এসব প্রতারক চক্রের শাস্তি কামনা করছি।
এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মাসুদ জানান, এ ধরনের কোনো বিষয় আমার জানা নেই। ওই লোক অফিসে এসে যোগাযোগ করলে বিস্তারিত জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।